Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন থামার নয়

প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হারুন-আর-রশিদ : বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে কোন জিনিসের মূল্যকম? এ প্রশ্নের জবাবে একবাক্যে বলা যায়-মানুষের জীবন। আজকের দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি খুন হচ্ছে মানবসন্তান। স্রষ্টার সৃষ্টির সর্বস্রেষ্ট জীব হলো মানুষ। আজ সেই মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। ৫০-৬০ বছর আগে দেখেছি গ্রাম-গঞ্জে, গোয়ালের পোষা গরু, ছাগল, এমনকি কুকুর বিড়াল হারিয়ে গেলে বা মেরে ফেললে তা নিয়ে রীতিমত গ্রামের মুরব্বীরা সালিসের আয়োজন করতেন। এর একটা রফাদফা করা হতো। কিন্তু এখন গৃহপালিত পশুপাখির চেয়েও বিচারহীনতায় ভুগছে মানবজাতি। চার-পাঁচ বছরেও মানুষ হত্যার মামলার সুরাহা হয় না আজ।
১৭ জানুয়ারি ২০১৬ প্রথম আলো পত্রিকার হেডলাইনগুলো এক নজর দেখলাম। ভাবনার জগতে যে প্রশ্নটি উদয় হলো আমরা মনে হয়, আমরা জাহেলিয়াত যুগে পুনরায় প্রবেশ করছি। হযরত ঈসা (আ.)-এর অন্তর্ধানের পর থেকে ইসলাম ধর্ম প্রচারের পূর্ব পর্যন্ত সময়কে বলা হতো অজ্ঞতা বা বর্বরতার যুগ। এ সময়টাকে মূর্খতার যুগও বলা হতো। কিন্তু একুশ শতকের সূচনাপর্বটাও সারে চৌদ্দশ বছরের পূর্বের ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তির রিহার্সাল মনে হচ্ছে।
ইদানীং পত্রিকার পাতাভরে থাকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মিছিলের সংবাদ। মানব সন্তানকে আজ পশু-পাখির মতো করে খুন করা হচ্ছে। শনিবার ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় বাসার মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজনকে পশুর চেয়েও নিষ্ঠুর কায়দায় গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি প্রথম পৃষ্টার আরেকটি লিড নিউজ ছিল আরো হৃদয়বিদারক। ঘাতক বেপরোয়া বাসের নিচে দুটি কোমল প্রাণ- সকালে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এবং শাহবাগ মোড়ে সাবিহা এবং খাদিজা প্রাণ হারায় নিষ্ঠুর বাসের চাপায়। দুই জায়গার দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। নিরাপদ সড়ক নিয়ে মিটিং-মিছিল হয় কিন্তু সড়ক নিরাপদ হয় না। মূল্যহীন জীবন রক্তে গড়াগড়ি যায় আমরা শুধু তাকিয়ে দেখি, এখন আর বুক কাঁপে নাÑকারণ এ ঘটনা প্রতিদিবসের।
বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল দুই কিশোরী কিন্তু তাদের স্বপ্ন বাসের চাপায় ধূলিৎসাত হয়ে গেল। এরকম বহু মানুষের স্বপ্ন ৪৪ বছরে মুক্তদেশে বিলীন হয়ে গেছে। কোনো মানুষ যদি ক্ষতির হিসাব করে তাহলে দেখতে পাবে প্রাণের চেয়ে বড় ক্ষতি নেই। কারণ যে জীবন অকালে চলে যায় সেটা আর ফিরে আসে না। কোটি টাকার অংকেও এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।
গত ১০ জানুয়ারি জাতীয় দৈনিকগুলোর লিড নিউজ ছিল বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দুর্ঘটনায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ নিহত ৭ জন। ১৬ জানুয়ারি একটি পত্রিকায় লিখেছে, সড়ক মেরামতের কাজ করার সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন শ্রমিক। ১৫ জানুয়ারির শুক্রবার সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মিনহাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ ইনকিলাব পত্রিকায় উঠেছে চার জেলাÑপাবনা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা এবং কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ১৫ জন। এর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একই পত্রিকায় আরেকটি সংবাদ (রায়পুর-লক্ষ্মীপুর) ছিল মাত্র ১১ কিলোমিটার সড়কে ১৩ হাজার গর্ত গাড়ি চলে হেলেদুলে যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। বিগত বছরগুলোতে মিনিবাসে নারীর সম্ভ্রামহানী ঘটেছে বহুমাত্রিকভাবে। ১০ জানুয়ারির রোববার গাজীপুরে একটি বেপরোয়া ট্রাক সড়কের পার্শ্ববর্তী দোকানেতুলে দেন চালক। এতে ৫ জন নিহত ও ১০ জন গুরুতর আহত হন। সড়ক যেন মনুষের মরণ ফাঁদে রূপ নিয়েছে। গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা ও লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
শনিবার ৯ জানুয়ারি বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি সংবাদ সম্মেলনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার কমানোর অঙ্গীকার থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেক হ্রাসে জাতিসংঘে অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ। সরকার বহু প্রতিশ্রুতি জনগণকে দিয়েছে, কিন্তু কোথাও কোনো অগ্রগতি নেই। সড়কমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাউন্সিল অকার্যকর। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবনুযায়ী ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ৬৫৮১টি মারাগেছেন ৮৬৪২ জন এর মধ্যে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১০৮০ জন। ৩০৫ জন শিক্ষক, ১৩৩ জন সাংবাদিক, ১০৯ জন চিকিৎসক ১৬৭৭ জন নারী, ১০৬ জন প্রকৌশলী, ৫৩৫ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪১৯ জন চালক এবং ৪২৭৮ জন অন্যান্য। ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় দিনে গড়ে ২৪ জন মারা গেছেন। ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ২১৮৫৫ জন। ২০১৪ সালের চিত্রও ছিল একই। এ সময় দুর্ঘটনা ঘটে ৫৯২৮টি। নিহত হয় ৮৫৮৯ জন, আহত হয় ১৭৫২৪ জন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, এসব তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ থেকেই সংগ্রহ করেছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০১৫ সালে এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উল্লেখিত তথ্য-উপাত্তে এটাই প্রমাণিত হয়Ñদেশের সড়ক পরিবহন প্রশাসন পুরোপুরি নখদন্তহীন হয়ে পড়েছে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইনের প্রয়োগ চেয়েছেন (১০ জানুয়ারির ২০১৬) কিন্তু এর প্রয়োগে কেন গড়িমসি হচ্ছে সেজন্য সংসদীয় কমিটির উচিত হবে উপদেষ্টা কাউন্সিলের কাছে কৈফিয়ৎ তলব করা। প্রয়োজনে আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে তিনি নতুন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করেন। সরকারের পুলিশ বাহিনীর হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মারা যান গড়ে ৬ জন। কিন্তু বিশ্বাসযোগ্য তথ্য এখানো কোনো সংস্থা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই নামক সংগঠনটি।
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু সাধারণ মানুষই নয় বড় মাপের সাংবাদিক, সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্য, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাসহ বহু কবি সাহিত্যিকও মারা গেছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হওয়াও সারা জীবনের কান্না হিসাবে একটি পরিবারের কাছে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার নানা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো সড়কের বেহাল অবস্থা। একটি প্রাইভেট কার শান্তিনগর ডাকঘরের সামনের সড়কের গর্তে শুক্রবার ১৫ জানুয়ারি সকালে আটকে যায়। চালক ও গাড়ির মালিক দু’জনে বহু চেষ্টার পরও ওঠাতে পারছিলেন না। ৫ জন পথচারী সহায়তায় প্রায় আধ ঘণ্টা চেষ্টার পর গাড়ি ওঠানো সম্ভব হলেও একটু এগিয়ে গিয়ে আবারও যে গাড়িটি গর্তে পড়ে যাবে নাÑতার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। কারণ মালিবাগ মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ এরকমই ভাঙ্গা। একটু পর পর বিশাল গর্ত। মনে হয়, হা করে তাকিয়ে আছে- কিছু গ্রাস করার জন্য। খিলগাঁওয়ে গত বছর (২০১৫) শিশু জেহাদ এবং আরেকজন শিশু খেলতে গিয়ে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বা সিটি কর্পোরেশনের উদাসীনতার কারণে ঢাকনাহীন ম্যালহোল ও পানিষ্কাশনের পাইপে পড়ে নিষ্ঠুর কায়দায় প্রাণ হারায়। মনুষ্যসৃষ্ট এসব কর্মক-ে ইদানীং বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়। রাজধানীর সড়কের ব্যাপক অংশই টেইসই পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হয় না কারণ সরকারি টাকা লুটপাটের একটা পথ হলো সড়ক ও সেতু নির্মাণ ব্যবস্থাপনা। কাজটি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনায় যা উন্নত বিশ্বে করা হয় সেটা বাংলাদেশে করা হয় না। বছরে দুই চারবার সড়ক ব্যবস্থাপনা থেকে টেন্ডার না আসলে দলীয় সরকারের লোকজন কীভাবে গাড়ি-বাড়ির মালিক হবে, সেজন্য নগরবাসীর এই ভোগান্তিটা সহ্য করে নিতে হবেÑসরকারি দলের (যখন যে দল ক্ষমতায় যায়) বাড়তি আয়ের স্বার্থে। সচেতন নগরবাসী বিষয়টি জানে। বয়স্ক পথচারীদের রাস্তায় বের হওয়া এখন বিপজ্জনক। শিশুদেরও একই অবস্থা। ফুটপাতগুলো ভাসমান হকারদের দখলে। দুই মেয়র চেষ্টা কম করছেন নাÑকিন্তু দুই দিন পর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে রাজধানীর সড়ক পথগুলো। একজন মানুষের হেড অফিস হলো মস্তিষ্ক। এই হেড অফিসে যদি অসুখ হয় তাহলে বাদবাকি অঙ্গপ্রতঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে। অর্থ্যাৎ একজন মানুষকে পরিচালিত করে তার তার মস্তিষ্ক। তদ্রুপ রাষ্ট্রের মস্তিষ্ক হলো সরকার প্রধান বা নির্বাহী প্রধান। তার আদেশ-নির্দেশে যদি স্বচ্ছতার অভাব থাকে তাহলে রাষ্ট্রের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রতঙ্গ অস্বচ্ছতায় ভুগবে। বাংলাদেশ জন্মের পর থেকে এ ধরনের একটি ক্রনিক ব্যধিতে আক্রান্ত। এ কারণে দেশের দুর্ঘটনা বাড়ছে নানা পদ্ধতিতে। দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সাধারণ মানুষ নিহত ও আহত হলে মিডিয়ায় নেতা-নেত্রীদের বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। অন্যান্য হত্যাকা- নিয়ে তারা একবারেই নীরব। লোক দেখানো অভিনয় চলছেÑমানুষের জীবন নিয়ে। নিহত পরিবারের ক্ষতিটা অর্থ দিয়ে কখনো লাঘব করা যায় না।
সড়ক দুর্ঘটনার বছরে যদি ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারায় তাহলে ৪৪ বছরে বাংলাদেশে ৪ লখ ৪০ হাজার মানুষকে শুধু সড়ক পথেই জীবন দিতে হয়েছে। নদীপথে কত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে সেই হিসাব ধরলে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যাবে। চিরপঙ্গুতে পরিণত হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা যদি এর সাথে যোগ করা হয় তাহলে স্থল ও জলপথে নিহত ও আহত মানুষের সংখ্যা প্রায় অর্ধকোটির মতো হবে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জরিপে বাংলাদেশের দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এর চেয়ে কম নয় বলে পরিসংখ্যানবিদরা জানিয়েছেন। এ বছর (২০১৬) জানুয়ারি মাসে এক আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহতার কথা। দুঃখজনক বিষয়টি হলো এ নিয়ে কমিটির পর কমিটি, উপকমিটি হচ্ছে, সুপারিশমালা আসছে কিন্তু বাস্তবায়নে সঠিক নির্দেশনা দেখছি না। দুর্ঘটনা কেন ঘটছে; দোষী ব্যক্তি কে, সে পরিবহন মালিক হোক চালক হোক পরিবহন সেক্টরের কর্মকর্তা হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। যাত্রীদের হতে হবে সচেতন। গাড়ির লাইসেন্স দেয়ার সময় নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। গাড়ির মধ্যে তিন ধরনের গাড়ি রয়েছে, হালকা, মাঝারিও ভারি।
লাইসেন্স দেয়ার সময় চালককে নানা পরীক্ষা নিয়ে তারপর উপযুক্ততা যাচাই-বাছাই করে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। ১৮ বছরের শিশু কিভাবে ট্রাকের ড্রাইভার হয়? সেটাও ভাবতে হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ অনৈতিক। সড়কে চলাচলের নিয়ম-কানুন মালিক শ্রমিক ও পথচারীকে যথার্থভাবে মেনে চলতে হবে। সবার মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আনতে হবে। ট্রাফিক আইন এখন যেভাবে চলছেÑতা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবর্তন সাধন করতে হবে। শিশু ও বয়স্ক মানুষের পক্ষে ওভার পাস বা আন্ডার পাস ব্রিজ ব্যবহার সম্ভব নয়। সে জন্য সিঙ্গাপুরে জেব্রাক্রসিং যেখানে অটো পদ্ধতিতে গাড়ি থেমে যায়, পথচারী পারাপারের জন্য। সেখানে আন্ডার ও ওভার পাস ব্রিজ নেই। সব মানুষই জেব্রাক্রসিং দিয়া রাস্তা পারাপার হয়। ঢাকায় দুই ডজনের বেশি ওবার ব্রিজ আছে এর মধ্যে শুধু ফার্মগেইট এলাকার ওভার ব্রিজটিই সচল। অন্যগুলো খুব কম মানুষই ব্যবহার করে। কোটি কোটি টাকা এসব ব্রিজ নির্মাণ খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।
রাজনৈতিক দলের বিজ্ঞাপন হিসেবেই এসব ব্রিজ ইদানীং খুব বেশি ব্যবহার হচ্ছে। আইন থাকা সত্ত্বেও এখনো দেখি চালকরা গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বলেনÑদুর্ঘটনা ঘটার এটাও একটা কারণ। একটানা (বিরতিহীন) ১২ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো একজন ড্রাইভারের জন্য আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। বাংলাদেশের সড়কের যে কাঠামোগত অবস্থা তাতে ৮০ মাইল স্পিডে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। মক্কা থেকে মদীনায় সড়কপথে একজন নিগ্রো ড্রাইভারকে দেখেছি ৮০ থেকে ১০০ মাইল গতিতে গাড়ি চালাতে। মক্কা মদীনার সেই সড়কপথ আর ঢাকা-কক্সবাজারে সড়ক পথ কি একই! মোটেও না। মক্কা-মদীনার রাস্তা কার্পেটিং করা প্রসস্থ প্রায় দুইশত হাত, যে রাস্তায় গাড়ি যায়Ñসেই রাস্তায় গাড়ি আসার সুযোগ নেই। গাড়ি আসা-যাওয়ার মাঝখানে বিশাল ফাঁকÑসুতরাং ঐ সব সড়ক পথে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বিশ্বের কোনো রাজধানী শহরে গণপরিবহন চলতে দেয়া হয় না। কিন্তু ঢাকায় সিটি সার্ভিসের গাড়িগুলোতে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের আসা-যাওয়া করতে হয়। এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়কের বেহালদশার পাশাপাশি উল্লিখিত সমস্যাগুলোর আশু সমাধান না হলে সড়কপথে লাশের মিছিল আরো দীর্ঘ হবে।
২০১১ সালে ২১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি করে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এর অধীনে কয়েকটি সভা হয়। সভায় স্বল্প থেকে র্দীঘমেয়াদি ৫০টিরও বেশি সুপারিশ কারা হয়। কিন্তু দুর্ঘটনা কমানো যায়নি। শুধু গাড়ির সংখ্যাই বাড়েনি, বেড়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও। সচেতনতার অভাব এর পাশাপাশি গাড়িচালকদের অদক্ষতা, অসাবধানতা এবং আইন লঙ্ঘন করার প্রবণতাই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ।
য় লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও কলামনিস্ট
যধৎঁহৎধংযরফধৎ@মসধরষ.পড়স



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ