Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন আর নেই

প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন এমপি গতকাল বুধবার ভারতের বোম্বে শহরের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ফুসফুসে ক্যান্সারজনিত রোগে ভুগছিলেন।
তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন। হাসপাতালে তার দুই মেয়ে ও ১ নাতী সঙ্গে ছিলেন। তাকে ভারতের বোম্বে শহরের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ক্যান্সার নিরাময়ে তাকে দু’বার কেমোথেরাপি দেয়া হয়। তৃতীয় কেমোথেরাপি দিতে গত ২১ এপ্রিল তিনি আবার ভারতে যান। তিনি ক্যান্সার ছাড়াও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর লাশ আজ বেলা ১২টা নাগাদ বাংলাদেশে আনা হবে। বেলা ১টায় তার মরদেহ কাকরাইলের রমনা চার্চে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। পরে বেলা ৩টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বজনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে তার দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হবে। সংসদ ভবন থেকে হেলিকপ্টারযোগে তার মরদেহ ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হবে ও সমাধিস্থ করা হবে।
প্রমোদ মানকিনের জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৮ এপ্রিল। জন্মস্থান নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রাম। এক সম্ভ্রান্ত গারো পরিবারে তার জন্ম। মেঘা তজু তার বাবা। মা হৃদয় শিসিলিয়া মানকিন। তারা বেঁচে নেই। আট ভাইবোনের মধ্যে প্রমোদ মানকিন পঞ্চম। প্রমোদ মানকিন ১৯৬৩ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৮ সালে ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড এবং ময়মনসিংহ ‘ল’ কলেজ থেকে ১৯৮২ সালে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী ছিলেন। তিনি গারো ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক সংস্থা, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও সর্বশেষ প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগদানের মাধ্যমে সরাসরি সক্রীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি, ১৯৯১, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রথমে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, ২০০৯ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ২০১২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. চৌধুরী মোঃ বাবুল হাসান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন সচিব বেগম নাছিমা বেগম ও সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবির শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন