Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

ডেমরায় দুই শিশু হত্যার ১৬ দিনের মাথায় চার্জশিট

চার্জশিটে ২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

ডেমরায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে দুই শিশু হত্যা ঘটনায় ১৬ দিনের মাথায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কমকর্তা ডেমরা থানার এস আই শাহ আলম জানান, হত্যাকান্ডের পরদিন যাত্রাবাড়ীর ভাঙা প্রেস ও ডেমরার মোল্লাব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেফতারকৃত সিরামিক মিস্ত্রী গোলাম মোস্তফা (২৮) ও তার ফুপাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানীকে (২৮) আসামি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। দন্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণ চেষ্টা, হত্যা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে দুই আসামির বিরুদ্ধে। অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদন্ড।
তিনি আরো বলেন, দুই আসামি ইতোমধ্যে অপরাধ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এ মামলায়। দন্ডবিধির সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যুক্ত থাকায় এ মামলার বিচার হবে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে।
আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকতা এস আই আব্দুল মান্নান গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, জমা দেওয়া অভিযোগপত্রটি দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার শিকার দুই শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা (৭) ও নুসরাত জাহান (৫) স্থানীয় একটি নার্সারি স্কুলে পড়ত। ডেমরার কোনাপাড়ায় শাহজালাল রোডে পাশাপাশি দুটি বাসায় থাকত তারা। গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ির সামনে খেলার মধ্যেই নিখোঁজ হয় মেয়ে দুটি। তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর রাতে স্থানীয় আবুলের বাড়ির নিচতর ভাড়াটিয়া মোস্তফার বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন মোস্তফাকে বাসায় না পেলেও তার স্ত্রী আঁখি ও শ্যালককে আটক করা হয়। তদন্তে নেমে পরদিনই মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নুসরাতের বাবা পলাশ হাওলাদার ডেমরা থানায় মামলা করেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় মোস্তফার স্ত্রী গার্মেন্টকর্মী আঁখি ছিলেন কারখানায়। মোস্তফা ও আজিজুল তখন বাড়ির বাইরে খেলতে থাকা নুসরাত আর দোলাকে ‘লিপস্টিক কিনে দেওয়ার প্রলোভন’ দেখিয়ে বাসায় নিয়ে যায়। পরে দুজন ইয়াবা সেবন করে জোরে গান বাজিয়ে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। হত্যার পর দুই শিশুর লাশ খাটের নিচে রেখে দেন মোস্তফা ও আজিজুল। পরে আজিজুল ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান, মোস্তফা তখনও ছিলেন।
সন্ধ্যায় আঁখি বাসায় ফিরে স্বামীর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আঁখি প্রতিবেশীর বাসায় গেলে ওই ফাঁকে মোস্তফা বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির লাশ থেকে উদ্ধার করে। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা এবং আরও কিছু আলামত সে সময় উদ্ধার করা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন