Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।
শিরোনাম

ইতিহাসময় ম্যাচ রংপুরের

ইমরান মাহমুদ, চট্টগ্রাম থেকে | প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৯, ১১:২৭ পিএম

এদনিও ব্যর্থ ক্রিস গেইল। পারলেন না ডি ভিলিয়ার্সও। তবে মহামূল্যবান চার বিদেশি কোটার বাকি দু’জনেই দিলেন তা পুষিয়ে। অ্যালেক্স হেলস আর রাইলি রুশোর দূর্দান্ত জোড়া সেঞ্চুরিতে রান পাহাড় গড়ে রংপুর রাইডার্স। গতকাল রাতের ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান তোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! যা শুধু এবারের আসরই নয় বিপিএলেরই সর্বোচ্চ দলীয়। এর আগে ২০১৩ সালে মিরপুরে এই রংপুরের বিপক্ষেই প্রতিযোগীতার সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস, ২১৭/৪। আর এবারের আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহে পেছনে ফেলেছে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে সিলেটে এদিনের প্রতিপক্ষ চিটাগংয়ের করা ৪ উইকেটে ২১৪ রানকে। রান পাহাড় তাড়া করতে নেমে ৮ উইকেট হারানো চিটাগং থামে ১৬৭ রানে। মুশফিকের দলকে ৭২ রানে হারিয়ে ইতিহাসময় ম্যাচটি নিজেদের করে নেয় মাশরাফির দল।
এর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে এবারের বিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিটি হাঁকান লরি ইভান্স। ৬২ বলে ৯টি চার আর ৬টি ছক্কায় ১০৪ রান করেন রাজশাহী কিংসের এই ইংলিশ ওপেনার। আসরের ৩০তম ম্যাচে এসে একই দিনে দুই সেঞ্চুরির দেখা পেল বিপিএল!
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নামে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল রংপুর রাইডার্স। তবে দলীয় ৬ রানের মাথায় মাত্র ২ রান করে ফেরেন ক্রিস গেইল। এরপর রাইলি রুশোকে সঙ্গে করে ব্যাটে ঝড় তোলেন হেলস।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি করেছেন হেলস। আর তাও এসেছে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন ১১৬ রানের ইনিংস। এ মাঠের সুখস্মৃতির আত্মবিশ্বাস তাতিয়ে দিয়েছে তাকে। ভালো খেলার ঘোষণাটা তাই দিয়েই দিয়েছিলেন। তাই বলে যে আবারো সেঞ্চুরিই তুলে নিবেন? অনেকটাই যেন ঘোষণা দিয়েই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া।
শুরুতে এদিনও দেখে শুনেই ব্যাট করেছেন হেলস। প্রথম ৭ বলে করেন মাত্র ৪ রান। রবি ফ্রাইলিঙ্কের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে টানা দুটি চার মেরে শুরু করলেন। পরের ওভারে আবু জায়েদ রাহীকে মারলেন তিনটি চার। তবে তোপটা বেশি দাগিয়েছেন খালেদ আহমেদের বলে। তার করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ২টি করে চার ছক্কায় নেন ২২ রান। এরপর আর থামেননি।
২৩ বলে তুলে নিয়েছেন নিজের হাফসেঞ্চুরি। সানজামুলের বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে চার মেরে পূরণ করেন নিজের ফিফটি। এরপর ৪৭ বলে পূর্ণ করেন নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। পরের ফিফটি তুলতে বল খেলেছেন ২৪ বল। ব্যক্তিগত ৯৮ রানে সিকান্দার রাজার বলে লংঅনে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন হেলস। ধরতে পারেননি ফিল্ডার। ততক্ষণে দৌড়ে দুই রান নিয়ে নিয়ে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন এ ইংলিশ তারকা। ৪৭ বলে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা দিয়ে সাজানো শতকটি বিপিএলের পঞ্চম দ্রæততম সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হেলস। পরের বলেই আরও একটি ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আকাশে তুলে আউট হয়েছেন অতিরিক্ত ফিল্ডার নিহাদুজ্জামানের হাতে। তার বিদায়ে ভাঙে ৭৮ বল স্থায়ী ১৭৪ রানের রেকর্ড জুটি।
যেন এই অপেক্ষাতেই ছিলেন অন্যপ্রান্তে স্বভাববিরুদ্ধ ‘দর্শক’ বনে থাকা রুশো। হেলসের আউটের পর শুরু করেন তাÐব। চিটাগং বোলারদের নাকের পানি চোখের পানি এক করে চালিয়েছেন শেষ বল পর্যন্ত। আর তাতে নামের পাশে লিখিয়ে নিয়েছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগার। কাটায় কাটায় ১০০ করতে খেলেছেন ৫১টি বল। যেখানে ঝলমলে ৮টি চারের বীপরিতে ৬টি ছক্কার মার। আর তাতেই বিপিএলে রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে রংপুর।
এখানেই শেষ নয় হেলস-রুশোকাথা। দুজনে মিলে গড়েন বিরল এক কীর্তি। এই নিয়ে এক ইনিংসে দুই সেঞ্চুরি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দেখল মাত্র তৃতীয়বার। ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে কেভিন ও’ব্রায়েন-হ্যামিশ মার্শেল আর ২০১৬ সালে আইপিএলে বিরাট কোহলি-ডি ভিলিয়ার্সের পর বিপিএলে হলো প্রথমবার।
হতো পারতো এক ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরির কীর্তিও। তবে রান তাড়ায় সঙ্গীর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে ইয়াসিন আলীর একার লড়াই। রান পাহাড় পেরুনোর লক্ষ্যে ঠিকই শুরু থেকেই হাত খুলে খেলছিলেন বাংলাদেশের উদীয়মান এই ওপেনার। অপর প্রান্তে শেহজাদও দিচ্ছিলেন ঝড়ের আভাস। ১২ বলে এক চার ২ ছক্কায় ২০ রানে ফেরার পর শুরু হয় মড়ক। বাকিদের আসা যাওয়ার মিছিলেও থামেনি ২৩ বছর বয়সীর ব্যাট। তাকে কেবল কিছুটা সঙ্গ দিতে চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। সেটিও থামে ১১ বলে ২২ রানের ছোট্ট ঝড় তুলে। এক পাশ আগলে ঘরের মাঠে তখনও চট্টগ্রামের ডানহাতি ইয়াসিন ঠিকই দেখিয়ে যাচ্ছিলেন কণ্টকময় পথ। তবে মাশরাফির অভিজ্ঞ বলে ডি ভিলিয়ার্সের হাতে ধরা পড়ে থামেন ৭৮ রানে। ৪৮ বলে তার সংগ্রমী ইনিংসটি ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে হারের ঘণ্টাও বেজে ওঠে উড়তে থাকা চিটাগংয়ের। মাশরাফি নেন ৩ উইকেট। দুটি শিকার ফরহাদ রেজার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ম্যাচ

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন