Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

পরীক্ষিত নেতা-কর্মীরা আসতে চায় নেতৃত্বে

সঙ্কটে খুলনা মহানগর যুবলীগ

আবু হেনা মুক্তি | প্রকাশের সময় : ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে খুলনা মহানগর যুবলীগের কর্মকান্ড। এদিকে কমিটি গঠনের প্রায় ১০ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি সম্মেলন করতে পারেনি। ফলে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চলছে মহানগর যুবলীগের কর্মকান্ড। দীর্ঘ এক যুগ ধরে কমিটি না হওয়ায় ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি মহানগর যুবলীগের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
একাধিকবার সম্মেলন ও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর নতুন কমিটি গঠনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হবে কি না, সেটি নিয়েও সন্দিহান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা বলেছেন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংগঠনে গতিশীলতা তৈরিতে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিকল্প কিছুই নেই। এক দশক ধরে সে প্রক্রিয়া বন্ধ আছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের জুন মাসে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে মহানগর যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক শেখ ফজুলল করিম সেলিম এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলহাজ মিজানুর রহমান মিজান। সম্মেলনে এড. সরদার আনিছুর রহমান পপলুকে সভাপতি ও আলী আকবর টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়।
২০০৫ সালে ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ৬ জানুয়ারি এড. সরদার আনিছুর রহমান পপলুকে আহ্বায়ক এবং এসএম মনিরুজ্জামান সাগর ও হাফেজ মোঃ শামীমকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও গত প্রায় ১০ বছরেও তা করতে পারেননি তাঁরা। এরই মাঝে মহানগর যুবলীগের কমিটি গঠন নিয়ে নেতা-কর্মীরা সরব হয়ে উঠেছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের দাবিতে স্বোচ্চার হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামীতে মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে তিন জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে তিন জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান সাগর, মহানগর যুবলীগের সদস্য মুন্সি নাহিদুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীরা হলেন-মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন, মহানগর যুবলীগের সদস্য শেখ মোঃ আলী, যুবলীগ নেতা রাশেদুজ্জামান রিপন।
নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম মনিরুজ্জামান সাগর বলেন, নতুন কমিটি হোক, সেটা আমরাও চাই। তবে কয়েকদিন আগে যুবলীগ নামধারী কতিপয় নেতার মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে নিয়ে একটি সুবিধাবাদী মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের ঊর্ধ্বতন নেতারা এবং কেন্দ্রের অনুমতি বা ইঙ্গিত না পেলে কমিটি গঠন কীভাবে সম্ভব?
নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা সফিকুর রহমান পলাশ বলেন, নেতাকর্মীরা কমিটি পুনর্গঠন চায়। আমরাও চাই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হোক। সেক্রেটারি পদপ্রার্থী নগর ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি শেখ শাহজালাল সুজন বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি গঠন না হওয়ায় নগর যুবলীগে নেতৃত্ব বিকশিত হয়নি। এতে অনেক প্রতিভা অকালেই ঝরে যাচ্ছে।
মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন বলেন, ‘আমার পিতা ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সপরিবারে শাহাদাৎবরণ করার পর তাঁর কন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার জন্য আমৃত্যু কাজ করে যান। আমার বড় ভাইও রাজনীতি করে গেছেন। আমিও ২০১০ সাল থেকে নগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে রয়েছি। এই সময়ে নিজে সাধ্যমত ছাত্রলীগকে সংগঠিত করেছি। আমার পিতা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর খুলনার আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমার অভিভাবক। নগর যুবলীগের কমিটি গঠনের ব্যাপারে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই সিদ্ধান্ত আমি মেনে নেব।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুবলীগ

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ