Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২০, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সু চিতেও আশা দেখছেন না রোহিঙ্গারা

প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত। মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে তাদের বসবাস। মুসলিম এই গোষ্ঠীর নাগরিকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে বসবাস করছে। ধারণা করা হচ্ছিল শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সু চি গৃহবন্দীদের দুর্দশা উপলব্ধি করে রোহিঙ্গাদের কষ্টও অনুধাবন করবেন। মিয়ানমারে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্শাল গত সপ্তায় জানান সরকারিভাবে রোহিঙ্গারা এখনো মিয়ানমারের স্বাকৃতি পায়নি। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ২০০ মানুষ প্রাণ হারায় তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলিম। রোহিঙ্গাদের নির্যাতনে সু চি নীরব ভূমিকা পালন করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মধ্যে পড়েছিলেন সু চি। দেশের সরকার, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ও নিজের দলকে নিয়ন্ত্রণ করলেও সু চি বর্তমানে ক্ষমতায় আসার পরেও রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
বৌদ্ধ প্রধান দেশে মুসলিম রোহিঙ্গারা ধকল বহন করছে। তারা প্রতিটি পর্যায়ে বৈষম্যের শিকার হয়। অধিকাংশ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস করছে। তাদের জমিজমা বাজেয়াপ্ত করে বৌদ্ধদের মালিকানায় দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সহিংসতা, সম্পত্তির বাজেয়াপ্ত ও অনিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত দিনাতিপাত করছে তারা। মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা অনেকে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। অনেকে আবার নিরাপত্তার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। সু চি কি রোহিঙ্গাদের ভাগ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন? সম্ভবত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের ইস্যুটি তার কাছে বড় নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এটির পরিবর্তন করতে চান না। এবং আমার মনে হয় সু চিও রোহিঙ্গা বিরোধী। ২০১৩ সালে সু কি বিবিসির সাংবাদিক মিশেল হোসাইনের কাছে এক সাক্ষাৎকারে মুসলিম বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে উদারপন্থি অনেক মুসলিম রয়েছে। তারা আমাদের সমাজে সাধুতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যাটি এক বছর থেকে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই সংকট দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর। বিশ্ববাসীকে বুঝতে হবে এই সংকটের মধ্যে শুধু মুসলিমরা নয় বৌদ্ধরাও রয়েছে।
পিটার পপহামের ‘দ্য লেডি এ- দ্য জেনারেলস: অং সাং সু চি এ- বার্মা’স স্ট্রাগল ফর ফ্রিডম’ বইয়ে তিনি সু চির মুসলিম বিরোধী মনোভাবের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। পপহাম লিখেছেন, বিবিসির সাংবাদিক মিশেল হোসাইনের কাছে সাক্ষাৎকারের সময় বিড়বিড় করে সু চি বলছিলেন কেউ আমাকে বলেনি যে একজন মুসলিম সাংবাদিক আমার সাক্ষাৎকার নেবে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহিংসতা ও বৈষম্যের জন্য মিয়ানমারের বৌদ্ধদের দায়ী করলেও রোহিঙ্গাসহ অন্য সংখ্যালঘুদের বিষয়ে সু চি এখনো স্পষ্ট করে কোনো কিছু বলেনি। পপহাম তার বইয়ে সু চির অতীত সম্পর্কে সহিষ্ণু ও স্বাধীন হিসেবে বর্ণনা দিয়েছেন। পপহাম তার বইয়ে লিখেছেন, সু চিকে তার মিয়ানমারের প্রতিপক্ষরা চাপে রাখতো যাতে পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কে ছিন্ন করেন। সু চির প্রতিপক্ষ তাকে মুসলিমদের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে দেশের মানুষের মধ্যে দ্বন্দে ফেলে দেওয়ার হীন চেষ্টায় মেতে থাকতো।
আমার ধারণা, সু চি মনে করছেন তিনি যদি রোহিঙ্গাদের পক্ষ নেন তবে তাকে মিয়ানমারের বৌদ্ধদের রোষানলে পড়ে বিতর্কে জড়াতে হতে পারে। আর এমন হলে ভবিষ্যতে সু চির দলের আর ক্ষমতায় আসার কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। যাই হোক সু চি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীহ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এখন মিয়ানমারের ক্ষমতায়। রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় তিনি সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় এখনো কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সু চি। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সু চিতেও আশা দেখছেন না রোহিঙ্গারা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ