Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৯ চৈত্র ১৪২৫, ১৫ রজব ১৪৪০ হিজরী।

যশোরে এমপির বাড়িসহ নয় স্থানে ককটেল হামলা

আ.লীগের দুই গ্রুপের পৃথক বিক্ষোভ মিছিল

বিশেষ সংবাদদাতা,যশোর ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

যশোর শহরে এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা যুবলীগ নেতা তৌহিদুল ইসলাম ফন্টু চাকলাদার, ছাত্রলীগ নেতা রাসেল ও ৯টি জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহিন চাকলাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠাসহ স্থানে গত শনিবার গভীর রাতে একযোগে ককটেল হামলা হয়েছে। কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার আলামত ও বোমার কৌটা উদ্ধার করেছে।ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আওয়ামী লীগ।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের বাসভবনে বোমা হামলা হয়েছে। এরপর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদারের মালিকাধীন পাঁচ তারকা মানের হোটেল জাবিরে বোমা বিস্ফোরণ হয়। এর আগে শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই যুবলীগ নেতা তৌহিদ চাকলাদার ফন্টুর বাসভবনে বোমা হামলা করা হয়। চাকলাদার ফিলিং স্টেশনে বোমা হামলার খবর পান তারা। এর আগে শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমাম হাসান লাল ও যুবলীগ নেতা রাজিবুল আলমের বাসভবনে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে।
প্রত্যেক স্থান থেকে দুইটি করে ১২টি বোমার কোটা ও বিস্ফোরিত বোমার আলামত উদ্দার করা হয়েছে। যশোরের পুলিশ সুপার মোঃ মঈনুল হক দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা কিভাবে এবং কেন গভীররাতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরণের ঘটনা ঘটালো তা অবশ্য খুঁজে বের করা হবে। রাত থেকেই তদন্তের জন্য পুলিশের বিভিন্ন টীম কাজ করছে। ওসি বলেন, কারা বোমা হামলা করেছে সেটা তারা তদন্ত করছেন। এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত চাকলাদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ইলিয়াস হোসেন জানান, রোববার ভোর চারটার দিকে এক দল দুর্বৃত্ত মুখে কাপড় বেধে ফিলিং স্টেশনে এসে বোমা হামলা করে। তারা সেখানে অবস্থানরত পরিবহন ভাঙচুর ও ফিলিং স্টেশনের গ্লাস ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এক পর্যায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে ক্যাশ বক্স থেকে এক লাখ ৫০ হাজার ৫১২ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বাডিতে একযোগে বোমা হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল সকালে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব বোমা হামলার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের আটকের আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সমাবেশ থেকে জানানো হয়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের নিবেদিত নেতাকর্মীদের যারা হত্যা করেছে সেইসব সন্ত্রাসীরা এই বোমা হামলার সাথে জড়িত। অন্যদিকে সন্ধ্যায় এমপি নাবিলের বাড়িতে ককটেল হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে এমপি গ্রুপ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগ


আরও
আরও পড়ুন