Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

নতুন সংসদ গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রেতাত্মা - রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ জানুয়ারি, ২০১৯, ৫:৩৫ পিএম

৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে যে সংসদ গঠিত হয়েছে তা গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রেতাত্মা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মহাতামাশার নির্বাচন। আগামীকাল সেই ভুয়াভোটের সংসদ বসছে। এই সংসদ গণবিরোধী, এই সংসদ নিরস্ত্র ভোটারদের ওপর অবৈধ সরকারের অবৈধ ক্ষমতা প্রদর্শণকারী গণশত্রুদের আড্ডাঘর। এই সংসদ ইতিহাসের ম্যান্ডেটবিহীন ক্ষমতালোভীদের সম্মিলন হিসেবে বিবেচিত হবে সর্বত্র। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, চরম মিথ্যাচার, অনুশোচনাহীনতা ও গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে নির্লজ্জভাবে ম্যানুফ্যাকচার্ড ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে নিজেরা আত্মপ্রসাদ লাভ করলেও জনগণকে বোকা বানানো যায়নি। মহাভোট ডাকাতির মহা সমারোহ জনগণ দিব্যচোখে অবলোকন করেছে। ভুয়া ভোটের মিথ্যা জয়ের অহংকারে ধানের শীষের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ গরীব মানুষের বাড়িঘর, দোকান, বাজার ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তাদেরকে ঘরছাড়া করা হয়েছে। নির্বাচনের নামে এক অসুস্থ পরিবেশ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে রাষ্ট্র-সমাজের সর্বত্র।

তিনি বলেন, নির্বাচন পূর্বাপর ভুয়াভোটের সরকারের জয়োল্লাসের প্রকোপে চারিদিকে শুধু হিংসার ছবি। প্রহসনের নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন, আইন-আদালত, পুলিশ-প্রশাসন সবই ভুয়াভোটের সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গুলি হেলনে উঠবস করতো। ধুর্তামি, শঠতা ও নির্মম দমন-পীড়ণের মাধ্যমে অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী মাঠ কব্জায় নিয়ে তারা একতরফা নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। সারাদেশে তারা ভয়-ভীতির শিহরণ সৃষ্টি করে। ভোটের মাঠ শূন্য করতে সরকারী প্রশাসন মহাতৎপরতায় লিপ্ত ছিল। মূলত: রক্তাক্ত মূর্তি নিয়েই তারা ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার আত্মসাৎ করে।

মানববন্ধন ও জনসভার ঘোষণা: একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন বসার দিনে তার প্রতিবাদে আগামীকাল ৩০ জানুয়ারী বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিএনপি’র উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্যায়ভাবে কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তিার দাবিতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টায় সোহরাওয়াদী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি পারভেজ আহমেদ মিথ্যা ও বানেয়াট মামলায় জামিন লাভের পরেও তিনবার তাকে জেলগেট থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রতিবারই তার নামে নতুন নতুন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো-পরিবারের সদস্যদেরকে তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতেও দেয়া হচ্ছে না। অসত্য ও ভুয়া মামলায় জামিন লাভের পরও পারভেজ আহমেদকে বারবার কারাফটক থেকে গ্রেফতার ও নতুন নতুন মামলা দায়েরের ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে তার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রিজভী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ