Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।

ফরিদগঞ্জে আ.লীগ দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ৩০

উপজেলা নির্বাচনের আগে বর্ধিত সভা নিয়ে দ্ব›দ্ব

স্টাফ রিপোর্টার ও ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংর্ঘষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সাবেক সংসদ সদস্যের গাড়িসহ সভাস্থলে ব্যপক ভাংচুর চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে ঘণ্টাব্যাপী এ সংর্ঘষ চলে। উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা কমিটির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একপক্ষ বর্ধিত সভার আয়োজন করায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এদিকে, সংর্ঘষের পরপরই শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বর্ধিত সভার আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিবাদমান দু’ পক্ষ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তারা দেশী অস্ত্র এবং ইট পাটকেল নিয়ে একে অপরের ওপর আক্রমন চালায়। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভ‚ঁইয়ার গাড়িসহ বর্ধিত সভাস্থল ব্যপক ভাঙচুর চালানো হয়। পরে তিনি নেতাকর্মীদের সহায়তায় নিরাপদে সরে যান।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলেন, সংর্ঘষে জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, যুবলীগ নেতা আলম বাবুসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, হাসপাতালে ১০জনকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখমের চিহ্ন রয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা ও দাঙ্গা পুলিশ অভিযানে অংশ নেয়। এ ঘটনায় এএসআই রবিউলসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতিন নিয়ন্ত্রণে উপজেলা শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল খায়ের পাটোয়ারী বলেন, কতিপয় বহিরাগতদের সহায়তায় একটি পক্ষ এ হামলার সঙ্গে জড়িত। তবে ফরিদগঞ্জ পৌর সভার মেয়র মাহফুজুর হক বলেন, জেলা কমিটির নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বর্ধিত সভার আয়োজন করায় এ সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা হয়েছে। সংর্ঘষের পরই বর্ধিত সভা পন্ড হয়ে যায়।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বর্ধিত সভা আহবান করেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকার। কিন্তু সভায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যে কোন ধরণের পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ