Inqilab Logo

রোববার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৯ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

আ.লীগ-বিএনপিতে কান্ডারীর অভাব

ঝিমিয়ে চট্টগ্রামের রাজনীতি

রফিকুল ইসলাম সেলিম | প্রকাশের সময় : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১৬ এএম, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯

চট্টগ্রামে বড় দুই দলের সাংগঠনিক তৎপরতা ঝিমিয়ে পড়েছে। মহানগর, জেলা থেকে তৃণমূল-কোথাও নেই রাজনৈতিক কোন কর্মসূচি। সরকারী দল আওয়ামী লীগ কান্ডারীশূণ্য। মাঠের বিরোধী দল বিএনপিতে নেতৃত্বের সঙ্কট। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একেবারেই উত্তাপহীন আন্দোলন সংগ্রামের ঐহিত্যের নগরী চাটগাঁর রাজনীতির মাঠ।
টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করায় খুশি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকেরা। সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা বিভিন্ন এলাকায় সংবর্ধনা নিচ্ছেন। পক্ষান্তরে সুনশান নিরবতা বিএনপিতে। জাতীয় নির্বাচনের পর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে কেন্দ্রের কোন নির্দেশনা নেই। এতে করে কেন্দ্রের প্রতি তৃণমূলে ক্ষোভ-অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। বড় দুই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও অগোছালো। ইসলামি দল ও ছোট দলগুলোর তৎপরতাও দৃশ্যমান নয়।
এক বছরের বেশি সময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে চলছে নগর আওয়ামী লীগ। চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকালের পর থেকে কান্ডারীহীন দলের হাল ধরেন সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বের পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নগরীর ছয়টি আসন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার অঙ্গিকার করেন। সফল হন আ জ ম নাছির উদ্দীন। মহানগরীর ছয়টিসহ চট্টগ্রামের ১৬টি আসনেই মহাজোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। তাদের মধ্যে মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন তিন জন।
সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীর ইন্তেকালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলাও এখন কান্ডারীহীন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম সাংগঠনিক কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ তৃণমূলে ততটা সক্রিয় নন। তবে সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মফিজুর রহমান সাংগঠিকভাবে বেশ তৎপর রয়েছেন বলে জানান দলের তৃণমূলের নেতারা। জেলায় চলছে উপজেলা নির্বাচনের তোড়জোড়। বিএনপি জোট নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক দলের নেতারা জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রায় প্রতিটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলে কলহ-কোন্দল এবং ক্ষোভ-অসন্তোষ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিএনপিতে নেতৃত্বের সঙ্কট চলছে। নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনসাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর কারাবন্দি। ডা. শাহাদাত হোসেন নভেম্বরে আর আবুল হাশেম বক্কর অক্টোবর থেকে জেলে। শাহাদাত হোসেন সবকটি মামলায় জামিন পেয়েছেন। যে কোন সময় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানান দলের নেতারা। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের যুগ্মমহাসচিব আসলাম চৌধুরী কারাবন্দি প্রায় পাঁচ বছর ধরে। জেলার সদস্য সচিব ইন্তেকাল করেছেন কয়েক বছর আগে। দীর্ঘদিন থেকে অভিভাকহীন জেলা বিএনপি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি থাকলেও মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। নেই কোন সাংগঠনিক তৎপরতা।
আন্দোলনের অংশ হিসাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। নির্বাচনের আগ থেকে দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাড়কের মুখোমুখি হতে হয়। হামলা-মামলা উপেক্ষা করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে নামেন। কিন্তু নির্বাচনে মহাবিপর্যয়ের পর বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে দলকে তুলে আনার কোন নির্দেশনা নেই। এক মাসেও কেন্দ্র থেকে কোন দিক-নির্দেশনা আসেনি। ফলে দলের সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধরপাকড়ে যারা কারাবন্দি হয়েছেন তাদের পাশে নেই দলের নেতারা। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের আর কোন খোঁজখবর নিচ্ছেন না। এতে করে তৃণমূলে ক্ষোভ বাড়ছে।
বড় দুই দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে এখনও বাগে আনা যায়নি। নানা গ্রুপে বিভক্ত ছাত্রলীগ। মহানগরী ও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে দ্ব›দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত আছে তারা। ইতোমেধ্য মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে তৃণমূল থেকে। যুবলীগ, মহিলালীগ, শ্রমিকলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোতেও স্থবিরতা। একই অবস্থা বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিকদলেও।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আ.লীগ-বিএনপি

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন