Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২০ মে ২০১৯, ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৪ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

রংপুর অঞ্চলে বাড়ছে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ

কৃষিতে বহুমাত্রিক পরিবর্তন : রফতানি সম্ভাবনা উজ্জ্বল

মহসিন রাজু | প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

তামাক ও সবজীর পাশাপাশি বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলে ধীরে ধীরে বাড়ছে ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ। সেই সাথে দেশের বাইরে বাড়ছে ফুল রফতানির সম্ভাবনা। সম্প্রতি উত্তরের বগুড়া, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সফর করে দেখা গেছে, কৃষিতে সূচিত হয়েছে বহুমাত্রিক রূপান্তর বা পরিবর্তন।
সাধারণত উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া অঞ্চলটিই ছিল বিশেষভাবে অগ্রসর। রংপুর ও গাইবান্ধার বিরাট অংশ জুড়েই ছিল কৃষিকাজের তৎপরতা। ফলে আমন ও বোরো ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময় রংপুর ও গাইবান্ধার কামলারা (শ্রমিক) দু’বেলা খাওয়া ও সামান্য কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বগুড়ায় এসে থাকতো। কিন্তু সম্প্রতি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলে কৃষি সেক্টরে নতুন, নতুন বিনিয়োগ হওয়ায় সচল হয়ে উঠেছে কৃষি সেক্টর। কৃষি বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এক দশক আগেও যেখানে রংপুর ও লালমনিরহাট জেলায় আমন ফসলের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে চাষ হতো তামাকের। মূলত বৃহত্তর রংপুর এলাকাটির কৃষি অর্থনীতি পুরোপুরি তামাক নির্ভর হয়ে উঠেছিল। অন্যদিকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় জেলায় আমনের পাশাপাশি আলু, আখ ও গম আবাদের কার্যক্রম চলতো।
তবে গত এক দশকে দেশের কয়েকটি বৃহত্তর শিল্প ও বিনিয়োগ গ্রুপ, চা’বাগান, পোল্ট্রি, ডেইরী ও ফিশিং সেক্টরে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করায় তার প্রভাব পড়েছে কৃষি অর্থনীতিতে। মঙ্গা এলাকা বলে চিহ্নিত রংপুর বিভাগের হতদরিদ্র শ্রেণির লোকজনের সাংবাৎসরিক আয়ের রাস্তা খুলে যাওয়ায় তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষীরা মনোযোগী হয়েছে বহুমাত্রিক চাষাবাদে। কৃষি সেক্টরে কর্মচঞ্চলতা সৃষ্টি হওয়ায় হতদরিদ্র শ্রেণির মানুষদের এখন আর অন্য জেলায় কৃষি কামলার কাজের জন্য যেতে হচ্ছে না।
বৃহত্তর রংপুরের ফসলী জমিতে এখন তামাকের পাশাপাশি, আলু, গম, সরিষা, তিল, তিষি এমনকি বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষও হচ্ছে ব্যাপকভাবে। উত্তর বগুড়ার মহাস্থান এলাকা থেকে রংপুরের মিঠাপুকুর পর্যন্ত রংপুর ঢাকা মহাসড়কের দু’পাশের শত শত একর জমিতে চাষ হচ্ছে ফুলের। এই এলাকার সবুজ নার্সারী নামের একজন সফল ফুলচাষী (প্রেসিডেন্ট পদকপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, শখের বসে তিন দশক আগে তিনি নার্সারী দিয়ে বসেন। শুরু করেন ফুলচাষ। তখন তার পরিবারের অনেকেই তাকে মাথা থেকে বাণিজ্যিক ফুল চাষের চিন্তা বাদ দিতে বলেন। তিনি এখন নার্সারির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে শতভাগ সফল হয়েছেন। গত ১০ বছরে তার দেখোদেখি শত শত মানুষ ফুলের চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। তিনি ইনকিলাবকে জানান, কিছুদিন আগে পর্যন্তও বগুড়ার ফুলের মার্কেটে সুদুর যশোর থেকে ফুল কিনে আনতে হতো। এখন বগুড়া ও রংপুরের ফুল মার্কেটের দেশি-বিদেশী ফুলের চাহিদার ৮০ ভাগ চাহিদাই মিটছে স্থানীয় উৎপাদন থেকেই।
একই এলাকার মাঝারি মানের ফুলচাষী বেলজার বলেন, প্রতিদিনই বগুড়ার মহাস্থান এলাকার নার্সারি থেকে লাখ লাখ টাকার ফুলের চারা নিয়ে যান রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর ফুলচাষীরা। তিনি জানান, প্রতিবছরই বাড়ছে ফুলের আবাদ। উত্তরাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের এয়ারপোর্ট থাকলে এয়ার কার্গোযোগে অর্কিড জাতের ফুল সিংগাপুর, হংকং ও জাপানের ফুল মার্কেটে পাঠাবার উজ্জল সম্ভাবনা ছিল। তার মতে, যতই দিন যাচ্ছে সবজী চাষীদের মাঝে ফুল চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
সরকারিভাবে অর্থনৈতিক প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকলে ফুল রফতানি হয়ে উঠতে পারে এই এলাকার একটি সম্ভাবনাময় খাত।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কৃষি

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন