Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার ২০ জুলাই ২০১৯, ০৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৬ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

আ. লীগের বিষয়ে কথা বলার সাহস কারো নেই

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

বর্তমান সরকার সারাদেশে এমন একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে যে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, যখন ফ্যাসিবাদ চলে, তখন সর্বপ্রথম কাজটা কী করে থাকে? একটা ভয় সৃষ্টি করা, ত্রাস সৃষ্টি করা, সমস্ত জনগণের মধ্যে একটা ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া। এই ভীতিতে বাসে বসেও কেউ কথা বলতে চান না, রেস্টুরেন্টে বসেও কেউ কথা বলতে চান না। এভাবে তারা একটা ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে যে এখন আর কেউ কথাই বলতে চায় না।
গতকাল (শনিবার) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়াজ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে সহিংসতা ও নারী : বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকাল টেলিভিশনের টক শোগুলোতে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী যান, তারা ওই জিনিসগুলো বেশি বলতে থাকেন কোথাও বিএনপি ভুল করল, কোথায় ঐক্যফ্রন্ট ভুল করল। আর আওয়ামী লীগ যে শুধু ভুল নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিল, সে বিষয়ে কথা বলার সাহস কারও নেই।
তিনি বলেন, এভাবে কোনোদিন একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। আজকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, দেশের আপামর জনসাধারণ বলছে। ইকনোমিস্টের মতো পত্রিকা ক্যাপশন করছে, গণতন্ত্রের মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীর মিডিয়া জানে, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অনেকে মনে করেন, এখন তো বিএনপিকে ধরছে, ঐক্যফ্রন্টকে ধরছে, ওদেরই ধরুক, আমরা বাঁচব। এবার তো কেউই বাঁচল না, কেউ বাঁচে না। সারাদেশে আসামির সংখ্যা এখন ২৭ লাখ, মামলার সংখ্যা ৯৮ হাজার।
এই পরিস্থিতিতে সবাইকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, কেন আমরা মরার আগে মরে যাচ্ছি? কেন আমরা ভয়ে ভীত হয়ে, সন্ত্রস্ত হয়ে সবাই ঘরে ঢুকে থাকার চেষ্টা করছি? ঘরে ঢুকে থেকে তো আমরা বাঁচব না। তিনি বলেন, এই নির্বাচনে একটা বড় কাজ হয়েছে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছ থেকে চিরদিনের জন্য চলে গেছে। জনগণের জয় হয়েছে, তারা পরাজিত হয়েছে। আপনারা ভয় পাবেন না, সারাদেশের মানুষ আপনাদের সঙ্গে আছে। আমাদের আফরোজা আপা (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী) আমাদের সামনে একটা অনুপ্রেরণা। আমরা দেখেছি যে নির্বাচনের সময়ে অনেক বাঘা বাঘা পুরুষরা কেউ বেরুতে পারেননি, তখন কিন্তু তিনি লড়াই করে চলেছেন।
নারীর উপর সহিংসতা প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন একজন বলেছেন, রাজনীতির বাইরে থেকে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। কে করবে, কে দেখবে, কে বিচার করবে, কে শাস্তি দেবে? কারা বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে। একজনের ৯ বছরের মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে, তার মামলা করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হচ্ছে। কোথায় যাবেন আপনারা, সাধারণ মানুষের যাওয়ার কোথাও জায়গা নেই। ভোটের পর নির্বাচনী সহিংসতায় নোয়াখালীর সুর্বণচরে পারুল বেগমসহ নোয়াখালীর কবিরহাট, ঢাকার ফতুল্লা ও খুলনায় নারী নির্যাতনের ঘটনার তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে, অন্যায়কে পরাজিত করতে হবে, ন্যায়কে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে ‘আওয়াজ’র সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন প্রফেসর শাহিদা রফিক নারী নির্যাতনের অতীত ও বর্তমান পরিসংখ্যান তুলে ধরে এর ব্যাপকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার প্রবন্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে একটি আলাদা মন্ত্রণালয় স্থাপন, আইনের কঠোর প্রয়োগ, জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নসহ ১১ দফা সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।

আওয়াজের সভানেত্রী বিএনপির সহ-সভাপতি সেলিমা রহমানের সভাপতিত্বে ও বিলকিস ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তাজমেরী এস ইসলাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরী আরা সাফা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের নেত্রী রাশেদা বেগম হীরা, সেলিনা রউফ চৌধুরী, লায়লা বেগম, রাশেদা ওয়াহিদ মুক্তা, সাদিয়া হক, রাফিকা আফরোজা, নুরজাহান মাহবুব, প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমূখ। #



 

Show all comments
  • Md Towhid ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২০ এএম says : 0
    অবৈধ সরকার চাই না
    Total Reply(0) Reply
  • Ahmed Robeeh ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    আমরা বিরোধী হিসেবে কেবল টাইপিং করতে পারি,,,
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২১ এএম says : 0
    আশায় আছি কবে আসবে আমাদের উদ্ধারকারী
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    সত্যি বলতে কি এই দেশের মানুষ নিয়ে আর কারো কিছু বলার দরকার নেই, এদেশের মানুষ 'ভাল' কিছুর উপযুক্ত নয়, তারা মিথ্যাচার, প্রতারণা, জালিয়াতি, শঠতা আর কপটতায় মজবে কিন্তু আত্মমর্য্দা, নাগরিক হিসেবে সম্মান এসবকে এখন আর এ দেশের মানুষ বিবেচ্য মনে করে না, তাদের কাছে একটাই বিবেচ্য আর তা হচ্ছে উন্নয়ন। তাইতো যে যেভাবে পারছে উন্নতি করছে, ব্যাংক লুট করে নিচ্ছে কেউ, কেউ নিচ্ছে শেয়ার বাজার থেকে, কেউ বীমা কোম্পানি খুলে, কেউ পরামর্শক হয়ে। আর উন্নয়নের কন্ট্রাক্টরি করে কত জনইতো তাদের ভাগ্য গড়ছেন। তারপরও বিএনপি যখন মানুষের সর্বোচ্চ নাগরিক অধিকার অর্থাৎ ভোটাধিকার নিয়ে কথা বলে তখন কেউ কেউ বিএনপির দিকে তেড়ে আসে। ২০৪১ সালের আগে নির্বাচন নয় এমন গর্দভবুদ্ধিও কেউ দিচ্ছেন, কারো পরামর্শ ১০ বছর পরপর নির্বাচনের। এ দেশের মানুষ তাদের বিবেক আর মর্যাদাবোধ হারিয়েছে তা পুণরুদ্ধারের চেষ্টা অপ্রয়োজনীয়। যদি কখনো মানুষ তাদের সাথে বর্তমান শাসকচক্রের আচরণের স্বরুপটা ধরতে পারে সেদিন মানুষই রুখে দাঁড়াবে।
    Total Reply(0) Reply
  • সাদ বিন জাফর ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২২ এএম says : 0
    বিএনপির প্রতি মানুষের ভালবাসা অনেক। উই লাভ বিএনপি।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    'আজকে দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে...' আপনিও এসব আষাঢ়ে শ্লোগানে গলা মেলালেন, ফখরুল সাহেব? কথাগুলো দেশের কথা নয়, বিএনপির একাংশের কথা মাত্র। বুঝতে শিখুন, ২০০১ সালের লেজিসলেশনের পর থেকেই বিএনপি আর কোনো রাজনৈতিক এপিসেন্টার নয় - প্যারাডাইম শিফট হয়ে গেছে। খালেদা জিয়া এখন একজন 'সাবেক' নেত্রী আর তারেক জিয়া একজন নেতিবাচক 'ব্যক্তিত্ব' - এইই হচ্ছে আপডেট। কুয়ো থেকে বেরিয়ে আসুন, চোখকান খুলে রাখুন আর বাস্তবতার আলোকে নিজেদের রাজনৈতিক কলেবর আবারো নতুন করে যাঁচাই করে নিন, তাতে আপনাদের মঙ্গলই হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • MD AL EMRAN ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৩ এএম says : 0
    স্যার আমার চেয়ে কেউ ভাল জানে না ভোট চরি করতে কীভাবে বাধ্য করা হইছে।কারন আমি নিজে একটা কেন্দের দায়িত্বে ছিলাম।কিন্ত স্যার যদি ফেয়ার নির্বাচন হত তাঁর পরেও আপনারা পাশ করতে পারতেন না। আপনাদের যে দুর্বল প্রচারণা চিল ১০% সম্বাবনা ছিলো পাশ করার, স্যার এখন কার দিনে মানুষের কাছে ১০বার জাইয়াও ভোট পাওয়া জায় না। আর আপনারা ঘরে বসে মনে করছেন ভোট বিপ্লব করবেন সব বেথা গেছে। আওয়ামিলিগ ভোট চুরি করে তাঁদের যে ফায়দা করছে, তাঁর চেয়েও বেশি আপনাদের করছে।এখন অন্তত মানুষ আপনাদেরকে সহানুভূতি দেখাচ্ছে। আর আওয়ামীলিগ দিন দিন জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে, স্যার আমি একজন আওয়ামী বক্ত তাঁর পরেও বলতেছি ভোট চুরিকে ইস্যু বানিয়ে নিজেরা সুসংগঠিত হন এবং দেশে বহুদলিয় গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। আশা করি এই মহুর্তে মানুষ আপনাদেকে নিরাশ করবে না।
    Total Reply(1) Reply
    • Mohammed Shah Alam Khan ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:৩৫ এএম says : 0
      আপনার কথায় মনে হচ্ছে না আপনি আওয়ামী লীগের ভক্ত। আমি জানিনা সত্যটা কি তবে যেভাবে আপনি বা বিএনপির লোকজন বলছেন এতটা করা এতই সহজ মনে হয়...তবে আপনি বলেছেন ১০% সম্ভবনা ছিলো পাশ করার, আরও বলেছেন ১০বার যেয়ে ভোট পাওয়া যায়না কাজেই বিএনপি ঘরে বসে কিভাবে পাবে। আপনি বলছেন আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি পারতোনা আবার আপনি বলছেন ভোট চুরি হয়েছে!!!!বিষয়টা বুঝাগেলনা......তবে আপনি যে কোন দিনও মনে প্রানে আওয়ামী লীগ নন এটাই সত্য। আওয়ামী লীগ রাজকারের বংশের লোকজনেরাও করছে আর সুযোগ পেলেই আওয়ামী লীগকে একহাত দেখে নিচ্ছে।আপনি হলেন সেই দলের আওয়ামী লীগ।
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 1
    Monet & Power manipulated the country everybody know it very well but nobody speak against Govt. properly.
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    Definitely it is the country - not a party is in serious crisis. When ballot boxes are looted, ballot papers stuffed, state machinery is used for rigging election then it is not problem of a party rather a country.
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১১:৩৩ এএম says : 0
    .................... পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই সেটা হচ্ছে ফকরুল সাহেব বলেছেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কাওরো নেই এটা কিন্তু সত্য নয় কারন উনি এই যে কথাটা বললেন এটা কি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয়??? আল্লাহ্‌ আমাদেরকে বুঝার এবং সেই ভাবে চলার শক্তি দান করুন। আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মির্জা ফখরুল


আরও
আরও পড়ুন