Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বোরো চাষ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

কেশবপুরে ফসলি জমিতে পানি

কেশবপুর (যশোর) থেকে মো. রূহুল কুদ্দুস | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

চারিদিকে পানি আর পানি। যে দিকে চোখ যায় চোখে কোন ফসলি জমরি দেখা মেলবে না। এ অবস্থা কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা, কৃষ্ণনগর, বুড়–লি, ব্রাহ্মনডাঙ্গা, হদ, মাগুরখালি বিলের। একই অবস্থা আটন্ডা, শ্রীফলা, পরচক্রা, কালিয়ারই, বাউশলা, ভবানিপুর, হিজলডাঙ্গা বিলেরও।
আর এ কারনেই চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন বিলের প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা সম্ভব হবে না। পূর্বঅংশের বিলের জমির মালিকরা একত্রে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে ধান রোপনের চেষ্টা করে চলেছেন।

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বিলে মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, গেলবছর বৈশাখের বৃষ্টির শুরুতে উপজেলার পূর্বাংশের কয়েকজন প্রভাবশালী ঘের ব্যবসায়ী প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে সুইস গেটের মুখের বাঁধ কেটে বিলে লোনা পানি উঠায় মাছ চাষের জন্য। যখন পানি উঠানো হয় তখন পানির সাথে ব্যাপক হারে পলি আসায় বিল অপেক্ষায় সংযোগ খাল উঁচু হয়ে যাওয়ায় ঘের ব্যবসায়ীগণ শত চেষ্টা করেও কৃষকের চুক্তি মত জমি থেকে পানি অপসারণ করতে পারেনি।

বাধ্য হয়ে এলাকার জমির মালিকরা বিঘা প্রতি ১ হাজার টাকা দিয়ে বুড়–লি গেটের মুখে বাঁধ দিয়ে ৪০ টি স্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে জমিতে বোরো চাষের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেচের কাজ সম্পন্ন করতে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুফলাকাঠি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুনজুর হোসেনকে আহবায়ক ও হদের সিরাজুল ইসলাম এবং বুড়–লির আঃ কাদের ও হরেন বাবু।
চুয়াডাঙ্গা গ্রামের মিঠু সরকার বলেন, এ বিলে আমার ৬ বিঘা ৫ কাঠা জমি রয়েছে। যার সম্পুর্ণ ঘেরের পানির নিচে। ঘের মালিক চুক্তি মত জমি থেকে পানি অপসারনে ব্যর্থ হয়েছে।

পঙ্কজ মল্লিক জানান, তার মাত্র ৪ কাঠা ধানি জমি। যদি পানি সেচ সম্ভব হয় তাহলে ধান রোপন করতে পার বেন। না হলে এ বছর আর ধান রোপন করতে পারবেন না। হিমাংস গুলদারের সম্বল ১ বিঘার ধানি জমি সে জমির ও একই অবস্থা।
সেচ কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেল গত মাসের ১০ তারিখে শুরু হওয়া সেচ কার্যক্রম আরো ১০ দিন লাগবে শেষ করতে। এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে উপজেলার বিদ্যানন্দকাঠি ইউনিয়নের ১২ গ্রামের পানি নিষ্কাসনের একমাত্র পথ ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়ার কাটা খাল। ঐ উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মধ্যে একটি ব্রিজ নির্মাণের স্বার্থে ঠিকাদার খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় ১০ গ্রামের প্রায় ১৬ হাজার বিঘা জমিতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান চাষ সম্ভব হবে না।
এ বিষয় নিয়ে এলাকার শত শত কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েও কোন প্রতিকার পায়নি।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান ইনকিলাবকে জানান, পানি বদ্ধতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পানি নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনই বলা জাবে না কত হাজার হেক্টর জমি বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হবে না। কারন ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বোরো ধান রোপন করা যায়। আমাদের পক্ষ থেকে মাসিক সমন্বয় কমিটির মিটিং এ একাধিক বার উঠানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেশবপুরস্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সাইদুর রহমান ইনকিলাবকে জানান, গত বছর বর্ষার শুরুতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় বুড়–লির খাল খনন করা হয়েছিল কিন্তু গত বছর কম বৃষ্টিপাতের কারনে জোয়ারে ব্যাপক পলি আসায় আবারো ভরাট হয়ে গেছে। চলতি বছর কেশবপুরে যে সকল প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে সে সকল কাজের টেন্ডার হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। দ্রুত খনন কাজ শুরু হবে। তখন আর পানি বদ্ধতা থাকবে না। আমাদের কাছে থোক বরাদ্ধ না থাকায় কৃষকের স্বার্থে কোন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পানি


আরও
আরও পড়ুন