Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ বছর বয়সী শিশু হত্যার রহস্য উম্মোচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৪:১৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ বছর বয়সী শিশু হালিমা আক্তার হত্যাকান্ডে তার আপন চাচা জড়িত। একসহযোগীসহ তাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এ হত্যাকান্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। ২রা ফেব্রুয়ারী দুপুর পৌনে ১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ভাদুঘর গ্রামের ভূইয়াপাড়া মহল¬ার একটি বহুতল ভবনের পাশ থেকে হালিমা আক্তারের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাস্তা খেয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায়। এরআগে তার খোজে ব্যাকুল পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। জেলা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে চাঞ্চ্যলকর এ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে হালিমার আপন চাচা হেলাল ঘটনার দিন সকালে জিরো নামক এক প্যাকেট চিপস হাতে দিয়ে হালিমাকে কোলে তুলে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়। এরপরই হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। একপর্যায়ে সে হালিমাকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। সে পুলিশকে জানায় হালিমার মা খাদিজা বেগমের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ ছিলো। একারনে খাদিজার ওপর প্রতিশোধ নিতে সে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। প্রায় ১মাস পূর্বে হালিমার মা খাদিজা বেগমের সাথে হেলাল এবং হেলালের বাবা-মা’র গৃহস্থলী কাজ কর্মকে কেন্দ্র করে ঝগড়াঝাটি হয়। এছাড়া হেলাল বিভিন্ন সময় খাদিজাকে কু-প্রস্তাব এবং অশালিন কথাবার্তা বলতো। বিষয়টি খাদিজা অন্যদের জানালে তার ওপর হেলালের ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং হালিমাকে হত্যার মাধ্যমে খাদিজার ওপর প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে সে। দু-সপ্তাহ আগেও বাড়ির পিছনের একটি পুকুরে হালিমাকে ডুবিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো সে প্রথমে। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৪/৫ দিন আগে রাজমিস্ত্রি হেলাল তার সহকারী রুবেলকে নিয়ে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে ঘটনাস্থল নির্ধারন করে। যে স্থানে হালিমাকে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় ওই বিল্ডিংয়ের নির্মান কাজ হেলাল করায় নির্জন স্থান হিসেবে ওই বিল্ডিংকে বেছে নেয় সে। পুলিশ হেলালের দেয়া তথ্য মতে রোববার রাতে রুবেলকে গ্রেফতার করে। এব্যাপারে খাদিজা বেগম হেলাল ও রুবেলকে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহত হালিমা আক্তার ভাদুঘর গ্রামের আমির আলীর কন্যাসন্তান। আমির আলী পেশায় রাজমিস্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শিশু হত্যা

১৭ নভেম্বর, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ