Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬, ১৬ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

‘ম্যাচের চাইতে বড় প্রস্তুতি আর হতে পারে না’

ইমরান মাহমুদ, মিরপুর থেকে | প্রকাশের সময় : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

বাঁচা মরার ম্যাচ ছিল। আশা ছিল হাডাডা-হাড্ডি লড়াইয়ের। তবে তার লেশমাত্র ছিল না। অনেকটা এতরফা ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল ঢাকা ডায়নামাইটস। তারপরও দলের লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে এবং ব্যাট হাতে দলকে কিছু দিতে পেরেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেছেন চিটাগং অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।

গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিপিএলের চাইতে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফর নিয়েই তার কাছে প্রশ্ন গেল বেশি। আর তার উত্তরও আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক দিলেন দক্ষতার সাথেই, ‘অবশ্যই ইচ্ছা ছিল যে আজকের (গতকাল) দিনটায় কন্ট্রিবিউট করতে পারি। যেন একটা ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলতে পারি। তবে ওভারঅল আগের যে কোনো টুর্নামেন্টের চেয়ে একটু হ্যাপি। কিছু কিছু জায়গা অনেক কঠিন অবস্থা ছিল, যেখান থেকে বের হয়ে আসা এবং নিজের কাছেই নিজেকে প্রমাণ করা যে আমি গুড এভাফ। নিজের কাছে যেই যুদ্ধটা ছিল সেদিক থেকে একটু সন্তুষ্ট, বেশি না।’ এর পরই বলে গেলেন বিপিএল দিয়ে আসন্ন সফরের প্রস্তুতি সম্পর্কে, ‘এখনই প্রস্তুতির কিছু নেই। যেই কয়দিন সময় আছে একটু বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর সুইচ অন করতে হবে। নিউজিল্যান্ড চ্যালেঞ্জ অনেক কঠিন। একটা সপ্তাহ যদি ব্রেক পাওয়া যায়, তাহলে মোটামুটি ভালো হয়। কাভার করতে হবে। কারণ আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। ম্যাচের মধ্যে থাকলে আত্মবিশ্বাস ভালো থাকে। এর চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তুতি হতে পারে না।’

বিপিএলের মধ্যেই অগ্রগামী দল পাড়ি জমাবে নিউজিল্যান্ডে। ঘাটতি মেটাতে ঢাকায় থাকা বাকিদের এরই মধ্যে নামতে হবে প্রস্তুতিতে। বসে থাকার ফুরসত নেই কেন সেটিরও ব্যাখ্যা দিলেন অভিজ্ঞ এই সেনানী, ‘ওয়ানডে ফরম্যাট, (নিউজিল্যান্ড সফররত) ইন্ডিয়া জিতে গেছে কিন্তু তাঁদের অনেক লড়াই করতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস আছে আমাদের যেই দল যাবে তাঁরা ভালো করবে। আপনি নিশ্চয় খেয়াল করলে দেখবেন যে, আমরা সর্বশেষ যখন সেখানে গিয়েছিলাম তখন কিন্তু আমরা দুইটা ওয়ানডেতে খুব কাছে গিয়ে হেরে গিয়েছিলাম, যা আমাদের জেতা উচিত ছিলো। কারণ নেলসনে যে ওয়ানডে বা ক্রাইস্টচার্চে যেটা ছিলো, আমরা যদি আরো একটু ভালো খেলতে পারতাম তাহলে কেউ জানে না কী হতো। আমার মনে হয় এটা বিশ্বকাপের আগে আমাদের জন্য খুব ভালো একটা প্রস্তুতি হবে। এখানে (নিউজিল্যান্ডে) কিছু হাই স্কোরিং ম্যাচ হতে পারে। সে দিক থেকে আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে।’

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে এই মিরপুরেই সর্বশেষ দাঁড়িয়েছিলেন উইকেটের পেছনে। বিপিএলে দলের প্রয়োজনেই নিজের প্রিয় কিপিং গøাভসটি ছেড়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ শাহজাদের কাছে। দেশের প্রয়োজনে মাঝপথেই চিটাগং ভাইকিংস ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন আফগান ব্যাটিং দানব। সেই সুযোগে ১২ ম্যাচ পর ফিরেছেন কিপিংয়ে। অনভ্যস্ততা না প্রস্তুতির অভাবের কারণেই কিনা ক্যাচ মিস করেছেন, চার ছেড়েছেন হাতের নীচ দিয়ে, রান আউটেও সঙ্গ দিতে পারেন নি সতীর্থদের। তারপরও সব মিলিয়ে নিজের পার্ফরম্যান্সে খুশি মুশফিক, ‘আমার পারফর্মেন্স নিয়ে আমার না আপনাদের বলা উচিত। আমি বেশি গবেষণা করি না। আমি শুধু চেষ্টা করি। আমার মনে হয় ওভারঅল ভালোই ছিল।’

কিপিং ছেড়ে এবারের বিপিএলে ব্যাট হাতে দারুণ করেছেন মুশফিক। ১৩ ম্যাচ খেলে তিনটি ফিফটিসহ ৪২৬ রান নিয়ে আছেন তালিকার দুইয়ে। সর্বোচ্চ ৭৫ আর ৩৫.৫০ গড়ের টালিতে স্ট্রাইকরেটও ইর্ষণীয়, ১৩৯.২১! ৩৬টি চারের বীপরিতে মেরেছেন ১৮টি ছক্কার মারও। জাতীয় দলের নিউজিল্যান্ড সফরের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাটসম্যানের রানে ফেরাটা সত্যিই সুখবর। সময়ের সাথে সাথে উইকেটের পেছনেও আপন আলোয় ফিরবেন বলেই বিশ^াস মুশফিকের।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ম্যাচে

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ