Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্ত্রীকে খুনের দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৪:১১ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গলাটিপে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগের দায়ের করা মামলায় স্বামী জিসান চৌধুরী ওরফে জিকুকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক মোহাম্মদ সফিউল আলম এ আদেশ দেন। মামলার প্রধান আসামী স্বামী জিসান পলাতক রয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল শহরের পাওয়ার হাউজ সড়ক সংলগ্ন নিউ মৌড়াইল এলাকার সানাউল্লাহ চৌধুরীর ছেলে জিসান চৌধুরীর (৩৩) সঙ্গে ঢাকার ডেমরাস্থ কাজলা এলাকার মুসলিম মুন্সীর মেয়ের জেসমিন আক্তারের (২৩) পরিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়েরপর জেসমিন সাইফুল্লাহ নামে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। তবে জন্মের পর থেকেই সাইফুল্লাহ শারীরিক প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নেওয়ায় জিসানকে বাড়ি থেকে বের করে পরিবার। পরে সে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কাউতলি এলাকার ‘মা মঞ্জিল’ নামের ১১৫৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়ায় উঠেন। অন্যের মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে রয়েছে বলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই প্রায় কথা কাটাকাটি ও মনোনমানিল্য হতো। এসব নিয়ে জিসান প্রায় তাঁর স্ত্রী জেসমিনকে মারধার করতো। এসবের জের ধরেই ২০১৩ সালের ২৭ আগস্ট জিসান দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁর স্ত্রী জেসমিনকে মারধর করেন। জেসমিন বিষয়টি তার বাবার বাড়ির লোকজনকে জানান। একই দিন বিকেলে পাঁচটার গলায় উড়না পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে হত্যা করে। পরে সে নিজেই পুলিশকে খবর দিয়ে এবং খুনের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করে। ঘটনার পর পুলিশ জিসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত জেসমিনের বাবা মুসলিম মুন্সি জিসানকে আসামী করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। জিসান আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন সময়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে জেলা কারাগার থেকে বের হন জিসান। এরপর থেকেই জিসান পলাতক রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক মোহাম্মদ সফিউল আলম অভিযোপত্রটি গ্রহন করে অভিযুক্ত আসামী জিসান চৌধুরীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মৃত্যুদন্ড

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ