Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ফুটপাথ ভেঙে দোকানে বাস, নিহত ২

বাবার হাত থেকে মেয়েকে কেড়ে নিল মাইক্রোবাস

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

রাজধানীর ভাটারায় যাত্রীবাহী বাস ফুটপাথে উঠে এক দোকানে ঢুকে গেলে বাসের চাপায় দু’জন নিহত হন। নিহতরা হলেন- চা দোকানদার শাহীন (৪২) ও নৈশ প্রহরী তবির শেখ (৪৫)। গত সোমবার রাতে ভাটারার কোকাকোলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ঘাতক চালক ও সহকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, এভাবে বাসা-বাড়ি বা দোকান-পাটে ঢুকে মানুষকে চাপা দিলে, তবে কোথায় গিয়ে নিরাপত্তা মিলবে সাধারণ নাগরিকদের? প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাস-ট্রাক ফুটপাতে উঠে মানুষকে চাপা দিলে অনেকের প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটে। এদিকে, গতকাল পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় রাজধানীতে এক স্কুলছাত্রীসহ আরও দু’জনের মৃত্যু হয়। ভাটারা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শিহাব উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে বাড্ডার কোকাকোলা মোড়ে দেওয়ান পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ফুটপাথে উঠে একটি চায়ের দোকানের ভেতরে ঢুকে পরে। এতে বাসের চাপায় চা দোকানদার শাহীন ও নৈশ প্রহরী তবির শেখ ঘটনাস্থলেই মারা যায়। নিহত শাহিনের বাড়ি পিরোজপুর ও তবিরের বাড়ি বাগেরহাটে। দু’জনই ভাটারা এলাকায় থাকতেন। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ঘাতক চালক ও হেলপারকে গ্রেফতারের দাবিতে কোকাকোলা বাসস্ট্যান্ডের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ উঠিয়ে নেয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, বর্তমানে মানুষ বাসা-বাড়িসহ দোকান-পাট কোথাও নিরাপদ নয়। মাদকাসক্ত চালকরা কোন নিয়ম-কানুন না মেনে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে হত্যা করে যাচ্ছে। আলী আকবর নামে এক বাসীন্দা বলেন, এদেশে ঘাতক চালকদের শাস্তি পাওয়ার নজীর নেই। যার কারণে তারা কোন কিছুর পরোয়া করে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এভাবে বাসা-বাড়ি বা দোকানের ভেতরে ঢুকে মানুষকে হত্যা করলে জীবনের নিরাপত্তা মিলবে কোথায়?
ভাটারা থানার এসআই জহির রায়হান বলেন, বাসের চালক ও হেলপারের বিচারের দাবিতে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে ব্যানার নিয়ে কোককোলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে অবস্থান নেয় এলাকাবাসী। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকে। তবে অপরাধীদের বিচারের আশ্বাস দিলে তারা সড়ক থেকে সরে যায়।
তুরাগ থানার ওসি নুরুল মোত্তাকিন বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকায় বাবার সাথে স্কুলে যাচ্ছিলো ফাইজা তাহসিনা সূচি (১০)। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, ওই ছাত্রীকে চাপা দেওয়া মাইক্রোবাসটি শ্যুটিং ইউনিটের ছিলো। ঘটনার পর মাইক্রোবাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ফাইজা মাইলস্টোন স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়তো। তার বাবা দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সহকারী সম্পাদক।
এদিকে, গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর মালিবাগ-মৌচাক সড়ক থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে ঢামেকে আনা হয়। ঢামেকের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই নারীকে আনা হলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান তিনি। কোনো যানবাহনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নিহত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ