Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ভারতের সমর্থন চাইব

সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম | আপডেট : ১২:১২ এএম, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ভারতের কাছে অধিকতর সমর্থন চাইবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আবদুল মোমেন তার প্রথম বিদেশ সফরের প্রাক্কালে গতকাল সাংবাদিকদের একথা বলেন। আগামীকাল শুক্রবার ৫ম ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের সঙ্গে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা করতে চাই। কারণ, এই সমস্যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেতে পারে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের জোরদার সমর্থন আশা করেন। নির্মম সামরিক অভিযানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থীকে বাংলাদেশ মানবিক কারণে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের ঘনিষ্ট প্রতিবেশী বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রতি সম্মান দেখাতে আমি আমার প্রথম বিদেশ যাত্রায় ভারত সফর করছি। মোমেন বলেন, বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর বিদেশী নেতৃবৃন্দের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বপ্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। আমাদের সব সমস্যায় আমরা তাদেরকে পাশে পেয়েছি।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গেও বিভিন্ন আলোচনার বিষয় রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সমুদ্র এবং স্থল সীমানাসহ এর অনেক ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করেছি। অন্যান্য বিষয়ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে বলেন আশা করি। পারস্পরিক এই সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের মাঝে বর্তমানে সবচেয়ে অধিক ঊষ্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
ড. মোমেন তার ভারত সফরকালে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ে কিছু জানাননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় যে, এই সফরে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। তারা বলেন, আশা করা হচ্ছে- বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) প্রথম সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং ভারতের প্রাসর ভারতী দ্বিতীয় এবং দুই দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৃতীয় একটি এমওইউ এ স্বাক্ষর করবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জেসিসি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। ভারতীয় পক্ষে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। ঢাকায় কর্মকর্তারা বলেছেন, জেসিসি বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা, যোগাযোগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিপিং এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ গুরুত্ব পাবে।
জেসিসি বৈঠকের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি নয়াদিল্লীতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন এবং শুক্রবার সুষমা স্বরাজের আমন্ত্রণে ভোজসভায় যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় হাউজিং এন্ড আরবান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হারদেব সিং পুরির দেয়া ভোজসভায় যোগ দেবেন। শুক্রবার মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদলের সম্মানে নয়াদিল্লীতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভোজসভার আয়োজন করবে।
তিন দিনের সফর গুটিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার সকালে ঢাকার উদ্দেশে দিল্লী ত্যাগ করবেন। সর্বশেষ জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় ২০১৭ সালের ২২-২৩ অক্টোবর। এতে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেন সুষমা স্বরাজ।
মিয়ানমার সীমান্ত সিল
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা (বাংলাদেশ) বর্ডার সিল করে দিয়েছি। এখন আর কাউকে (রোহিঙ্গা বা অন্যান্য মিয়ানমার নাগরিক) ঢুকতে দেয়া হবে না। গতকাল বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মোমেন বলেন, আমরা বর্ডার অনেক খুলে রেখেছি। এখন আর খোলা হবে না। এখন অন্যরা খুলে রাখুক। আমরা বর্ডার সিল করে দিয়েছি। দেশটির নাগরিক রোহিঙ্গাদের পর এবার সাধারণ বৌদ্ধ ও উপজাতিদের তাড়িয়ে দিচ্ছে মিয়ানমার। ইতোমধ্যে এদের অল্পসংখ্যক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কয়েকজনকে সীমান্ত থেকে ফেরতও পাঠিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা। এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূলত রাখাইন আর্মি (বিদ্রোহী গোষ্ঠী) ও মিয়ানমার আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে রোহিঙ্গাদের পর এবার বৌদ্ধ ও অন্যান্য এথনিক গ্রুপ দেশ ছাড়ছেন। তারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আসছেন। তবে আমরা বর্ডার সিল করে দিয়েছি।
বিশ্বের ৫৮ দেশে ৭৭ মিশন
এদিকে গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের (কিশোরগঞ্জ-৩) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানান, বর্তমানে মোট ৫৮টি দেশে বাংলাদেশের ৭৭টি মিশন (দূতাবাস /হাইকমিশন/কনস্যুলেট জেনারেল/কনস্যুলেট/উপ-হাইকমিশন/সহকারী হাইকমিশন) রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, এই মিশনগুলোর মধ্যে ১১টি দূতাবাস নিজস্ব জমিতে অবস্থিত। এগুলো হলো চীনের বেইজিং, বেলজিয়ামের ব্রাসেলস, ভারতের নয়াদিল্লি ও কলকাতা, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন, সৌদি আরবের রিয়াদ, জাপানের টোকিও, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন। যে সকল দেশে বাংলাদেশ মিশনের জন্য নিজস্ব জমি নেই, সে সকল দেশে ভাড়া করা সম্পত্তিতে মিশনের কাজ চলছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।#



 

Show all comments
  • saif ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১০:১৯ এএম says : 0
    ভারতের সমর্থন কি ছাইবেন স্যার, ভারত যেখানে সরাসরি তাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে দিয়েছে??? অযথা সময় নষ্ট না করে, বরং অন্য পথ দেখুন।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ