Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সাদা পোশাকে ২ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩ যুবকে আটকিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী

দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:২৬ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা ও মির্জাপুর থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিন যুবক আটকিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবীর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সূত্রাপুর নামক এলাকার শিলাবৃষ্টি সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনে গ্যাস নেওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারসহ (ঢাকা মেট্রো-গ -২৮-৪৮৫০) থাকা পাঁচ যুবকের মধ্যে তিন যুবককে আটক করেন।
পরে তাদের কাছে ১২ পিস ইয়াবা ও দুই বোতাল ফেন্সিডিল রয়েছে জানান। পুুলিশের ব্যবহৃত একটি সাদা রংঙের মাইক্রোবাস ও আটক যুবকদের প্রাইভেটকাটি মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলক্রসিং ফ্লাইওভারের নিচে নিয়ে গিয়ে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেয়। ওই সময় আরেকটি প্রাইভেটকার নিয়ে আরও তিন যুবক ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই আটক যুবকদের জানায়, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে একজনকে ক্রয় ফায়ার দিয়ে এসেছি। ওই সময় মির্জাপুর থানার পুলিশ এএসআই মোশরাফিকুর রহমান ওই তিন যুবককে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচানোর জন্য ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন। ওই সময় আটক মাফিন নামের এক যুবক ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম জানতে চায় এবং তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ওই সময় কালিয়াকৈর থনার পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন অন্য একটি কালো রংঙের প্রাইভেটকারে বসে থেকে ওই যুবকদের ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য পুলিশ মোশরাফিকুর রহমানকে জানান। এ সময় পাঁচ বন্ধুর মধ্যে তুরিকুল্লাহ নামের আরেক বন্ধু বিষয়টি কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার ও গাজীপুরের এসপি শামছুননাহারকে জানান। তিন যুবক ডিবি পরিচয় দিয়ে আটকের ঘটনাটি কালিয়াকৈর থানার ওসি দ্রুত ৪-৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসান। এ সময় আটককৃত যুবকরা মোবাইল ফোনে তরিকুল্লাহ ও রিমনকে পুলিশ কর্মকর্তা মোশরাফিকুর রহমান ও কালিয়াকৈর থানার পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ অল মামুনের নাম জানায় ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদারকে। পরে ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার মির্জাপুর থানার ওসি মিজানুল হকের কাছে মোশরাফিকুর রহমান সম্পর্কে জানতে চান। পরে মির্জাপুর থানার ওসি মিজানুল হক মোশরাফিকুরকে আটক যুবকদের মির্জাপুর থানায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আটককৃত যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ৩০ লাখ টাকা চাওয়া এবং নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পান ওসি মিজানুল হক। পুলিশ কর্মকর্তা মোশরাফিকুর রহমানকে আটক করে রায়হান, লাবিব সরকার ও মাফিনকে নিয়ে কালিয়াকৈর থানায় আসেন।
বুধবার রাত দেড়টার দিকে কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পান। ওই সময় ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার বিষয়ীট গাজীপুরের এসসি শামছুননাহারকে জানান। পরে আটককৃত তিন যুবককে রাতেই প্রাইভেটকারসহ ছেড়ে দেন। ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এএসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গাজীপুর পুলিশ লাইনে ও এএসআই মোশরাফিকুর রহমানকে টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনে ক্লোজ করেন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমি অপরাধ করেছি। আমাকে মাফ করে দিন। জীবনে আর কোন ভুল হবে না। তাকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে দেওয়া হয়েছে। তবে এএসআই মোশরাফিকুর রহমানের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার ও মির্জাপুর থানার ওসি মিজানুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় এএসআই আব্দুল্লাহ আলম মামুন ও মোশরাফিকুর রহমানকে সংশিষ্ট পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। দিয়েছেন। আটককৃত যুবকদের বিকেলে কালিয়াকৈর থানা থেকে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ