Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

একসাথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ-ভারত

জেসিসি বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি

কূটনৈতিক সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি বিস্তার করছে। যেসব বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে, তার বাইরে গিয়ে উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রগুলোয় দুই দেশ হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাবে। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাকাশ, পারমাণবিক শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিকস।
দুই দেশের পঞ্চম যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠকের পর গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ থেকে প্রচারিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার এই কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে মোট চারটি বিষয়ে দুই দেশ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এগুলো হলো, ১. বাংলাদেশের ১ হাজার ৮০০ আমলাকে ভারত বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবে। ২. বিকল্প চিকিৎসার বিকাশে ঔষধি গাছগাছড়া তৈরিতে ভারতের আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ৩. বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা সিবিআইয়ের সঙ্গে ৪. মোংলায় ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ চুক্তিবদ্ধ হলো ভারতের হীরানন্দনী গোষ্ঠীর সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ভারতের সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু কেন তা হলো না, সে বিষয়ে কোনো দেশ কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জওহরলাল নেহরু ভবনে শুক্রবার সকালে জেসিসির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। জেসিসির বৈঠকের আগে জওহর ভবনেই দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একান্তে সাক্ষাৎ করেন। আধা ঘণ্টার ওই আলোচনায় পারস্পরিক চেনাজানার পাশাপাশি দুজনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও কথা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সম্পর্ককে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যা উন্নতমনা ও সুদূরপ্রসারীই শুধু নয়, যেখান থেকে পিছু হটা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের বলেন, সম্পর্ককে এমন উচ্চতায় স্থাপন করতে হবে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সঙ্গে মানানসই হয়। ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি।
বৈঠকের শুরুতেই সুষমা স্বরাজ অভিনন্দন জানান আবদুল মোমেনকে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ যে বিশেষ গুরুত্ব দেয়, সে কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, প্রথম সফর হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়া তার প্রমাণ। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই বলেন, সম্পর্কের সূত্রপাত মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে। আজ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি উভয়ের বিশ্বাস এবং উন্নয়ন আঁকড়ে এই সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, এই বৈঠকে তা পর্যালোচনা করা হয়। দুই দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীর সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর রূপায়ণ কতটা হয়েছে এবং ২০১৭ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জেসিসির বৈঠকের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ছবি কেমন, তা পর্যালোচিত হয়। নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও শক্তি, নদীর পানি বণ্টন, যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতার গতিতে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও ওঠে। যুক্ত বিবৃতি অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে চলে আসা রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ যেভাবে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছে, সুষমা তার প্রশংসা করেন। আবদুল মোমেনকে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে, নিরাপদভাবে মিয়ানমার ফিরে যেতে পারে, ভারত সে জন্য সব রকমভাবে সচেষ্ট থাকবে। রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্যের জন্য ভারতকেও ধন্যবাদ জানান আবদুল মোমেন।
এদিকে আবদুল মোমেনের সম্মানে গতকাল রাতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী এক নৈশভোজ দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার রাতে দেখা করেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভারতরত্ম প্রণব মুখার্জির সঙ্গে।
অন্যদিকে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেসিসির বৈঠকে তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছে ভারত।
এতে বলা হয়, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অভিন্ন নদীসহ তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যার দ্রুত সমাধানের অনুরোধ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সুষমা স্বরাজ তিস্তা চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশকে আশ্বাস দেন। #



 

Show all comments
  • Mohammed Kowaj Ali khan ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৪:৩২ এএম says : 0
    একসাথে নয়। ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ এগিয়ে যাইবে যখন ভারতীয় দালাল মুক্ত বাংলাদেশ হইবে। ভারত দেখো না কত হত্যা করো বাংলাদেশী। আমরা যে দিন তুমাদের দাঁত ভেংগে দিবো সেই দিন হইবে আমাদের দিন। আমরা এগিয়ে যাবো। ইনশাআল্লাহ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাংলাদেশ-ভারত


আরও
আরও পড়ুন