Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬, ২৩ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

লিঙ্গ ব্যবধান এক জাতীয় কলঙ্ক যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে

প্রকাশের সময় : ১৪ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : নারীদের চেয়ে পুরুষরা কম সংখ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, যারা যায় তাদের মধ্যে ঝরে পড়ে বেশি এবং যারা শিক্ষাসমাপ্ত করে তাদের কমসংখ্যকই ভালো ফল করে। যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে এ কথা বলা হয়েছে। উচ্চতর শিক্ষায় লিঙ্গ ব্যবধান বৃদ্ধির ব্যাপারে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অধিক সংখ্যায় পুরুষ ছাত্র সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।
রিপোর্ট লেখকদের একজন বলেন, উচ্চতর শিক্ষায় পুরুষদের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতা একটি জাতীয় কলংক এবং তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণের জন্য অর্থায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
উচ্চতর শিক্ষা নীতি ইনস্টিটিউটের (এইচইপিআই) এ রিপোর্টে ‘আমাদের মেয়েদের কাজে নাও’ দিবসের মডেলের সাফল্য অনুসরণে ‘আমাদের ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নাও’ দিবসের এবং উচ্চ শিক্ষায় কম প্রতিনিধিত্ব থাকা গ্রুপগুলোর মধ্যে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মকা-ে পুরুষ রোল মডেল ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়। এদিকে ছাত্রদের ন্যাশনাল ইউনিয়ন (এনইউএস) এ রিপোর্টের সমালোচনা করে বলেছে, এতে একটি জটিল সমস্যার কথা বলা হয়েছে এবং তাকে নারী-পুরুষের লড়াইয়ে পরিণত বালক থেকে পুরুষ ঃ উচ্চশিক্ষায় তরুণ পুরুষদের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতা ও কীভাবে তার প্রতিকার শুরু করতে হবে শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশকারী পুরুষদের সংখ্যানুপাত রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।
২০১৫ সালে নারী-পুরুষের মধ্যে সংখ্যার ফারাক ছিল ৯.২ শতাংশ পয়েন্ট যার অর্থ পুরুষের চেয়ে এখন ৩৫ শতাংশ বেশি মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সার্ভিস ইউকিসের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের এ বছরের জানুয়ারি মাসে শেষ সময় পর্যন্ত মেয়েদের চেয়ে ৯৪ হাজার ছেলে কম দরখাস্ত করেছে।
অনগ্রসর পরিবেশ থেকে যারা এসেছে তাদের মধ্যেই লিঙ্গ বৈষম্য বেশি তীব্র। তরুণীদের মধ্যে যারা বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে খাদ্য সুবিধা পেয়েছে, তরুণদের তুলনায় তারা ৫১ শতাংশ বেশি উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হয়েছে। সকল গ্রুপের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম গেছে অনগ্রসর সাদা ছেলেরা। তাদের ৮.৯ শতাংশ পড়াশোনা অব্যাহত রেখেছে।
উচ্চশিক্ষা পরিসংখ্যান সংস্থা (এইচ ই এস এ) কর্তৃক পূর্বে অপ্রকাশিত উপাত্তে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া তরুণদের মধ্যে ৮ শতাংশ পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ পরিমাণ ৬ শতাংশ। এ উপাত্তে আরো দেখা যায়, ডিগ্রি শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে। ২:১ বা তার উপরে পাচ্ছে ৭৩ শতাংশ মেয়ে, ছেলেদের পাওয়ার সংখ্যা ৬৯ শতাংশ। রিপোর্টের সহ লেখক ও এইচ ই পি আই-র পরিচালক নিক হিলম্যান বলেন, আমি মনে করি এ এক জাতীয় কলঙ্ক। এতে মনে হয় প্রায় প্রত্যেকেরই একটি অস্পষ্ট ধারণা যে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা তরুণদের অবনতি ঘটাচ্ছে। কিন্তু এ সমস্যা বিষয়ে বিশদ গবেষণা কমই হয়েছে এবং এ ব্যাপারে করণীয় কি সে বিষয়েও সুস্পষ্ট কোনো নীতি সুপারিশ নেই।
কিন্তু নীতিনির্ধারণ কোনো শূন্য সমষ্টি খেলা নয় যেখানে আপনাকে এক গ্রুপ বা অন্য গ্রুপের মধ্যে যতœবান হওয়া বেছে নিতে হবে। তিনি বলেন, আমরা তরুণদের, বিশেষ করে অনগ্রসর সাদা তরুণদের সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতা বিষয়ে গুরুত্ব আরোপের দ্বারা শুধু উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আর্থ-সামাজিক ফারাক মোকাবেলা করতে পারি।
এন ইউ এসের সহ-সভাপতি সোরানা ভিয়েরু বলেন, এ রিপোর্ট একটি জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়কে উত্থাপন করেছে এবং তাকে নারী-পুরুষের লড়াইয়ে পরিণত করেছে। এটা আর্থ-সামাজিক বিষয়গুলোকে মøান করে দেয় যা স্কুলের পর শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে কর্মজীবী তরুণ সমাজের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলে।
তিনি এ ধারণার বিরোধিতা করেন যে, স্কুলে মেয়েদের মত ছেলেরা ভালো না করার আংশিক কারণ হচ্ছে মহিলা শিক্ষক। তিনি বলেন, এ দাবি সমর্থন করার মত প্রমাণ নেই। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, শরীর বিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স, স্থাপত্য ও গণিত বিজ্ঞানের মত বিষয়গুলোতে ছেলেদের প্রাধান্য অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে স্নাতকের পর মহিলা প্রাধান্য সম্বলিত পেশা নার্সিং ও শিক্ষকতায় তাদের অংশগ্রহণের কথা বলা যায়।
রিপোর্টে বলা হয়, এর আগে লিঙ্গ বৈষম্যের পিছনে শিক্ষাগত অর্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় মেয়েরা ছেলেদের ছাড়িয়ে যেত। রিপোর্টে বলা হয়, ছেলেরা স্কুলে কম খাটে, তারা ভিডিও গেম খেলতে ও ইন্টারনেটে সময় ব্যয় করতে বেশি পছন্দ করে এবং আনন্দের জন্য কমই পড়ে।
আরেকটি বাস্তবতা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য মেয়েরা আর্থিক সহায়তা পায়। মেয়ে স্নাতকরা ডিগ্রিহীন কোনো মহিলার চেয়ে তিনগুণ বেশি উপার্জন করতে পারে। অন্যদিকে পুরুষ স্নাতকরা অন্য লোকদের চেয়ে দ্বিগুণ আয় করে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞানমন্ত্রী জো জনসন বলেন, আমরা যেখানে অনগ্রসর পরিবেশ থেকে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন দেখতে পাচ্ছি, এ রিপোর্ট প্রদর্শন করছে যে অনেকেই এখনো নিখোঁজ রয়েছে। সে কারণেই সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রবেশ নির্দেশনায় প্রথমবারের মত দরিদ্র পরিবারের সাদা ছেলেদের প্রতি সুস্পষ্ট সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অফিস অব ফেয়ার অ্যাকসেস টু হায়ার এডুকেশন-এর পরিচালক লেস এবডন বলেন, অনগ্রসর সাদা পুরুষদের কম অংশগ্রহণের হার উদ্বেগজনক ও পরিহারযোগ্য মেধার অপচয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান। সূত্র : দি গার্ডিয়ান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ