Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

২০০ কোটি টাকার রফতানি আদেশে

পর্দা নামলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার প্রায় ২০০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গেছে। বিক্রি ও ক্রেতা সমাগমও আগের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে এবার মেলায় অর্ধ কোটি ছাড়িয়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি। বিক্রিও অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে বাণিজ্য মেলার ২৪তম আসরের সফল পরিসমাপ্তি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। একই সঙ্গে বলেছেন, বাণিজ্যমেলা কোনো অবস্থায় পূর্বাচলে নেওয়া সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে মেলা মাঠে ২৪তম বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এস এম রেজওয়ান হোসেন এবং মেলার আয়োজক সংস্থার প্রধান হিসেবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য্য।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে রফতানি বাড়াতে হবে। বর্তমানে রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশেই পোশাক খাত থেকে। কিন্তু রফতানি বাড়াতে হলে শুধু পোশাকের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না, পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে হবে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আপাতত পূর্বাচলে যাচ্ছে না। পূর্বাচলে স্থানীয় পণ্য প্রদর্শনের জন্য যে কাজ চলছে, সেখানে বাণিজ্য মেলা হবে না। এই জায়গাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আগামী ৫/১০ বছর পরে এখানে মেলা করা সম্ভব হবে না। সেটা এখন থেকেই ভাবতে হবে।
পূর্বাচলে শুধু রফতানি পণ্য প্রদর্শনী হবে। চলতি বছরের শেষদিকে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হবে। ওই প্রদর্শনীতে টেক্সটাইলসহ রফতানিমুখী সব পণ্য প্রদর্শনের সম্ভাবনা আছে।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশের মাঠ থেকে বাণিজ্য মেলা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার কমপ্লেক্স’ (বিসিএফইসি) নামের চীনের সহায়তায় ৭৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। এ প্রকল্প নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণখালীর বাগরাইয়াটেকের (পূর্বাচল) ২০ একর জায়গার ওপর বাস্তবায়ন হচ্ছে। বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী, চীন সরকার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘চাইনিজ স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন’ নামের প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে। শত কোটি টাকার প্রকল্প শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলছেন, বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে হবে না। এই প্রকল্পটি নেওয়া হয় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সময়।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ বিষয়ে বলেন, এই জায়গা (রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশ) অপ্রতুল আমাদের জন্য। অনেকের ধারণা, আমরা পূর্বাচলের দিকে যেটা করছি, সেটা এ রকম বাণিজ্য মেলা হবে কি-না। সেটা সম্ভবত হবে না। এখানে ৩৬ একরের ওপরে আমাদের জায়গা, তারপরও সংকুলান হয় না। ওখানে জায়গা আরও কম। সম্ভবত ওখানে যারা চিন্তা করেছিলেন আমাদের পূর্বসূরি বা এখনও, ওখানে (পূর্বাচলে) সারা বছর ধরেই বিভিন্ন এক্সপোর্ট, মেলা বা শো, বিভিন্ন অর্গানে ফুড প্রডাকশন নিয়ে আসবে। বাইরের ওরাও (বিদেশিরা) আসতে পারে। এসে আমাদের এখানে ওই ধরনের এক্সপোর্ট ফেয়ার করতে পারবে। এই ধরনের বাণিজ্য মেলা ওখানে করা যাবে না।
টিপু মুনশি আরও বলেন, আমার মনে হয়েছে, এখনই এই জায়গা অপ্রতুল। তাহলে ১০ থেকে ২০ বছর পরে কোথায় হবে বাণিজ্য মেলা। সেটাও কিন্তু এখনই চিন্তা করার সময় এসেছে। আমাদের সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন, আপনারা কিন্তু এই ব্যাপারটা দেখবেন। আমি জানতে চেষ্টা করব, কী করা যায় সামনের দিনগুলোতে।
সম্প্রতি চামড়া রফতানি কমেছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি আগাতে চাই, তাহলে আমাদের রফতানি বাড়াতেই হবে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গার্মেন্টের ওপর নির্ভর না করে আরও অন্যান্য প্রোডাকশনে যাওয়া উচিত। আমাদের কিন্তু সম্প্রতি লেদার এক্সপোর্ট কমে গেছে। যার জন্য কিছু সমস্যাও আছে। আবার কিছু পণ্যের রফতানি বাড়াতে হবে।
এদিকে এ মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিদেশের প্রায় ২০০ কোটি টাকার রফতানি অর্ডার পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এছাড়া মেলায় মানুষের উপস্থিতি অর্ধ কোটি পার হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ মেলায় মানুষের উপস্থিতি প্রায় অর্ধ কোটি পার হয়েছে। আর বেচাকেনাও ভালো হয়েছে। আর বিদেশের রফতানি অর্ডারও পেয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। তো সব বিবেচনাতেই যা খবর, তাতে আমরা দেখেছি যে, এবারের মেলাটা খুব সফল হয়েছে। এটা পরম্পরা। আগে থেকে ভালো হতে হতে এটা বাড়ছে।
মেলার সদস্য সচিব ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উপপরিচালক (ফাইন্যান্স) মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেছেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা স্বার্থক হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৯ জানুয়ারি শুরু হয় বাণিজ্য মেলা। তিনি বলেন, শুক্রবারও লক্ষাধিক মানুষ মেলায় এসেছে। মেলার গেট বন্ধ করে দেওয়ার মতো অবস্থা। মাইকে রিকুয়েস্ট করতে হচ্ছে, যারা আগে আসছেন, আপনারা বের হয়ে যান। নতুনদের সুযোগ দিন। এটাই আমি মনে করি মেলার স্বার্থকতা। কারণ মানুষ চায় মেলায় আসতে। মানুষ চায় মেলা দেখতে, তার পণ্যটি কিনতে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। এবারের মেলায় অংশ নেওয়া ৬০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিয়েছে ইপিবি। অনুষ্ঠানেই বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরাদের গোল্ড কালার্ড ট্রফি এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে সিলভার ট্রফি ও ব্রাস ট্রফি দেওয়া হয়। এবার মেলায় সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে হাতিল কমপ্লেক্স; এক্ষেত্রে ওয়াল্টন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ দ্বিতীয় এবং এসকোয়ার ইলেকট্রনিক্স তৃতীয় পুরস্কার জিতেছে। মেলায় অনন্য সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছে কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড। সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ও সেরা সাধারণ প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে ওয়াল্টন হাই-টেক ইন্ড্রাসট্রিজ লিমিটেড। সেরা সংরক্ষিত প্যাভিলিয়নে প্রথম হয়েছে জুট ডাভার্সিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)। এবার বিদেশি প্যাভিলিয়ন ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে প্রথম হয়েছে জাপানের হালাল কোম্পানি লিমিটেড এবং তুরস্কের হাডেক্স হালি ডেরি টেক্সটাইল ডাইস টিআইসি এ এস। সেরা প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়নে বিআরবি ক্যাবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সেরা সাধারণ মিনি প্যাভিলিয়নে বঙ্গ মিলার্স লিমিটেড, সেরা সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশ পোস্ট অফিস, সেরা প্রিমিয়ার স্টলে এম/এস হেলাল ও ব্রাদ্রার্স এবং সেরা সাধারণ স্টলে প্রথম হয়েছে ফরচুন টেক লিমিটেড। আর নারী উদ্যোক্তা বিভাগে সিলভার ট্রফি পেয়েছে গৃহিণী ফুড প্রোডাক্টস ও মা এন্টারপ্রাইজ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বাণিজ্য মেলা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ