Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

কাউকে কষ্ট দিয়ে রাজস্ব আদায় নয়- অর্থমন্ত্রী

‘আমদানি-রফতানি পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং হবে’

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:৩৪ পিএম

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কাউকে কষ্ট দিয়ে রাজস্ব আদায় করতে চাই না। যারা ভালো তাদেরকে সাহায্য করা হবে। তবে রাজস্ব দেবে না সে রকম কাউকে আমরা প্রত্যাশা করি না। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানিতে অনিয়ম ঠেকাতে সব পণ্যই এখন থেকে শতভাগ স্ক্যানিং করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ব্যবসা বান্ধব। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা দেশ ও সরকার বান্ধব হবে এটাই কাম্য। আমরা কোনো ব্যবসায়ীকে কষ্ট দিতে চাইনা। আর এর মাধ্যমে ২০৪১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করে কীভাবে আয় বাড়ানো যায় সেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য সরকারের রাজস্ব আরও বৃদ্ধি করা। এই মুহূর্তে আমরা রাজস্ব আহরণে কিছুটা হলেও পিছিয়ে আছি। সেই অবস্থা থেকে সামনে এগোতে হবে। রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের গোল একটাই আর তা অর্জন করতে হবে। এ জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন না। যারা কর দেয় তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন। আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলবেন, চা খাবেন, কোনো সমস্যা নেই। তাছাড়া, নতুন যারা চাকরিতে আসবেন তাদের প্রথম দিন থেকেই ভাল কথা শোনাবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে এনবিআরের যারা আছেন, তারা কাজ করতে গিয়ে যেসব সমস্যার মোকাবিলা করেন, তা থেকে উত্তোরণের একটা রাস্তা বের করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে কীভাবে আরও সাহায্য করা যায়, সরকার কীভাবে সাহায্য করতে পারে, সেই দিকগুলোও তুলে ধরেছি।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের যেসব জায়গা থেকে প্রাপ্তি নেই, সেখানে অসঙ্গতি দেখা দিলে ভ্যাট-কাস্টমসের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে তা সমাধান করা হবে, যে পর্যন্ত না আমরা নিজেরা কমফোর্ট ফিল করব। আমরা বলব, কমফোর্ট জোনে চলে আসতে চাই।

সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, জনবল সঙ্কট, অবকাঠামো নেই। এটা অন্যতম সমস্যা। এখনো ভাড়া বাসায় এনবিআরকে কাজ করতে হয়। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলায় এনবিআর এর নিজস্ব অফিস করা হবে। জনবল অবশ্যই বাড়ানো হবে। যাতে সমন্বিতভাবে কাজ করা যায়। জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব আদায় অসঙ্গতি রয়েছে। তাই রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।

মোশারফ হোসেন ভূইঁয়া বলেন, জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যকর হবে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। একই সঙ্গে জনবল সঙ্কট নিরসনে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর জনবল নিয়োগে দ্রুত করা এবং পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সাথে কথা হয়েছে এনবিআর’র এআরও এবং আরও বেশি করে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। এছাড়া চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ