Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

মাহফুজার শরীরে আঘাতের চিহ্ন জড়িত একাধিক ব্যক্তি

ফলোআপ: ইডেনের সাবেক প্রিন্সিপাল খুন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

ইডেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে করে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে এ তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, মৃত নারীর ঠোঁটে, মুখে, আঙুলে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। একটা আঙুল ভাঙা ছিল। তাকে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ড একজনের পক্ষে সম্ভব না। একাধিক ব্যক্তি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

অন্যদিকে হত্যার ঘটনায় গতকাল সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন তার স্বামী ইসমত কাদির গামা। মামলায় বাড়ির দুই গৃহকর্মীসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা বাসার দুই গৃহকর্মী এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানা গেছে।
সোমবার সুকন্যা টাওয়ারে গিয়ে দেখা যায়, মাহফুজা চৌধুরীর শোকার্ত স্বজনরা আহাজারি করছেন। পুরো ভবনেই বিরাজ করছে গুমোট আবহাওয়া। প্রতিবেশীরাও মেনে নিতে পারছেন না মাহফুজার এমন মৃত্যু। সুকন্যা টাওয়ারের প্রবেশদ্বারে দারোয়ান ও রয়েছে সিসিটিভি। ঘটনার সময় সিসিটিভি সচল ছিলো বলে জানিয়েছে দারোয়ান নুরু। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে গেছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার জানান, তিনজনকে ধরতে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ হত্যার ঘটনায় তার দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমাকে আটকের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তৃতীয় ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সন্দেহের তির ওই দুই গৃহকর্মীর দিকেই। ওই ঘটনার পর বিকেল ৫টার দিকে তারা পালিয়ে যায়। এরপরই তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। গত রোববার সারা রাতই অভিযান চলে। আশা করছি দ্রুত তাদের আটক করা সম্ভব হবে। পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।
নিউমার্কেট থানার এসআই স্বপন কান্তি দে মাহফুজার সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছেন। তিনি সুরতহালে উল্লেখ করেন, মুখে রক্ত দেখা যায়, হাতের কয়েকটি আঙুলে কালো দাগ আছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে স্বামী ও সন্তানরা বাসায় না থাকায়, বাসার কাজের মেয়ে ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।
মাহফুজার প্রতিবেশী জিয়াউদ্দীন ভুইয়া বলেন, এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। উনি খুব ভালো, একজন অমায়িক মানুষ ছিলেন। তাদের কোনো শত্রু ছিলো না। কাজের মেয়ের মাধ্যমে এমন কিছু হবে তারা কেন, আমরাও ভাবতে পারছি না। মনের ভেতরে গভীর বেদনা অনুভব করছি।
নিহতের ভাগ্নে ওয়ালিদ হোসেন রুবেল বলেন, দুই গৃহকর্মী রেশমা, স্বপ্না ছাড়াও আরেকজন রয়েছেন। আমাদের ধারণা তারাই আমার মামীকে হত্যা করেছে। আলমারি থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ও ব্যবহৃত মোবাইল নিয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, পলাতক দুই গৃহকর্মী স্বপ্না ও রেশমার বয়স আনুমানিক ৩৬ ও ৩০ বছর। স্বপ্নার বাড়ি ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও রেশমার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। মাহফুজা চৌধুরীর স্বামী ইসমত কাদির গামা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। মাহফুজা চৌধুরী ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সুকন্যা টাওয়ারের ১৫ ও ১৬ তলায় দুটি ফ্ল্যাটে (ডুপ্লেক্স) এই দম্পতির বহুদিনের সংসার। ওপরের অংশটিতে তারা থাকেন। নিচতলায় রান্নাঘর, গৃহকর্মীদের আবাস। তাদের দুই ছেলের একজন সেনাবাহিনীর চিকিৎসক, আরেকজন ব্যাংকে চাকরি করেন বলে জানান স্বজনেরা। তারা ওই বাসায় থাকেন না। বাড়িতে তিনজন গৃহকর্মী ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোববার সকাল ১০টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যান ইসমত কাদির গামা। ওই সময় বাসায় রেশমা ও স্বপ্নাসহ তিনজন গৃহকর্মী ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফিরে ১৬ তলার কলিং বেল চাপলেও কেউ দরজা খুলছিল না। পরে ১৫ তলার কলিং বেল চাপলে বৃদ্ধা গৃহকর্মী দরজা খোলেন। তখন তিনি ১৬ তলায় গিয়ে দেখেন খাটের ওপর মাহফুজার নিথর দেহ পড়ে আছে। লাশ কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিল। পাশেই পড়ে ছিল বালিশ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন