Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৪ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

সংস্কার হচ্ছে ডাক বিভাগের আবাসিক ভবন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

সংস্কার হচ্ছে ঢাকা শহরের ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পরিচালিত এসব অবকাঠামো দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার হয়নি। ফলে বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এসব ভবন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬০৮টি ফ্ল্যাট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এরই মধ্যে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ২০ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ডাক অধিদফতর দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের ডাক সেবা দিয়ে আসছে। এর প্রধান লক্ষ্য দ্রুত সময়ে স্বল্প খরচে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের কাছে ডাক সেবা পৌঁছে দেওয়া। অধিদফতরটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ঢাকা শহরে কর্মরত থাকলেও উন্নত সরকারি আবাসন সুবিধা হতে বঞ্চিত রয়েছেন।
এদিকে, ডাক অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি আবাসন দেওয়ার জন্য ১৯৬২ সালে ঢাকার মতিঝিলে এজিবি কলোনির অংশবিশেষ ৯ দশমিক ৩৩ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে ৩৪টি ভবনে ৫০০ বর্গফুট থেকে ১ হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের ৪৭১টি বাসা নির্মাণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় ৫৫ বছরেরও বেশি পুরানো ইটের তৈরি ৪ থেকে ৫ তলার এই ভবনগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
এ কারণেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ পুরাতন ভবনগুলো ভেঙে সেই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মূল প্রকল্পটি মোট ব্যয় ছিল ২৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ধরে ২০১৭ সালের ২১ মার্চ একনেকে অনুমোদন পায়।
বাস্তবায়ন পর্যায়ে কিছু নতুন আইটেম সংযোজন, ভবনের ফাউন্ডেশনের ধরন পরিবর্তন, শিডিউল রেট বৃদ্ধি এবং কিছু অংশের আন্তঃখাত ইত্যাদি কারণে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রয়োজন। এ জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ মোট ৩৭৬ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন ও বাস্তবায়নকাল একবছর বেশি নির্ধারণ করে প্রস্তাবিত সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০ তলা ভবনে ২০৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ; ১৬টি লিফট কেনা; বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, মেশিনারিজ ও ইক্যুইপমেন্ট কেনা; স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন; বাউন্ডারি ওয়াল, খেলার মাঠ, পুকুর খনন এবং পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া।
প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, দুর্বল মাটির কারণে মেট ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে পাইল ফাউন্ডেশন নির্মাণ, নিরাপত্তা গেট, ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম, হাইড্রেন্ট, ডিপ টিউবওয়েল ইত্যাদি আইটেম সংযোজন, এসটিপি, বাউন্ডারি ওয়াল ও প্রধান দুইটি গেটের বিস্তারিত ডিজাইন ও ব্যয় প্রাক্কলন, কিছু অংশের আন্তঃখাত সমন্বয় বৃদ্ধি, নতুন রেট শিডিউলের কারণে ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠমো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ডাক অধিদফতরের ঢাকায় কর্মরত কর্মচারীদের উন্নত আবাসন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে তাদের কর্মস্পৃহা বাড়বে।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন