Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

হালদায় পরিবেশ বিপর্যয়

চিঠিপত্র

| প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

হালদা পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী। যেখান থেকে সরাসরি রুইজাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোনো জোয়ার-ভাটার নদী থেকে সরাসরি ডিম আহরণের নজির নেই। এ কারণে হালদা নদী বাংলাদেশের জন্য এক বৈশ্বিক উত্তরাধিকারও বটে। অর্থনৈতিকভাবে হালদা নদী বাংলাদেশের সাদা সোনার খনি। জাতীয় মৎস্য প্রজনন ঐতিহ্যের দাবিদার নদীটি অবহেলিত, দূষণযুক্ত নদীর তালিকায় নাম উঠেছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে জালের মতো ছড়িয়ে থাকা ছোট-বড় প্রায় ৮০০ নদীর মধ্যে চট্টগ্রামের ছোট্ট নদী হালদা। ছোট ও অখ্যাত এ নদী এখন সাদা সোনার উৎসকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ, আহরিত ডিম থেকে রেণু উৎপাদন ও পরিচর্যা প্রযুক্তি স্থানীয় লোকজনের সম্পূর্ণ নিজস্ব। যুগ যুগ ধরে স্থানীয় অধিবাসীরা বংশপরম্পরায় রুইজাতীয় মাছের ডিম সংগ্রহ করে নিজস্ব পদ্ধতিতে রেণু উৎপাদন করে দেশের মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। পানির বিশেষ গুণগত মান ও পরিমাণের কথা বিবেচনা করে ১৯৮৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম ওয়াসা মোহরা পানি শোধনাগারের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি গ্যালন পানি উত্তোলন করে শহরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করে আসছে। এ নদীর পানিতে হেভি মেটালের পরিমাণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মান থেকে কম হওয়ায় বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির উৎস হিসেবে হালদা নদীর পানি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ইদানীং হালদাসহ খাল-বিলে মরা ও পচা মাছ ভেসে উঠেছে নতুন করে। দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠছে এলাকার পরিবেশ। হালদা রক্ষায় জরুরি উদ্যোগ না নিলে জাতীয়ভাবে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে এশিয়ার সর্ববৃহৎ মৎস প্রজননকেন্দ্র হালদা নদীকে পরিবেশ বিপর্যয় ও কিছু অসাধু চক্র থেকে রক্ষার্থে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।
আলতাফ হোসেন হৃদয় খান
ঢাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চিঠিপত্র


আরও
আরও পড়ুন