Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে নাম্বার সংগ্রহ চরমপন্থীর নামে চাঁদা দাবি!

ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:২৩ এএম

আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে ঝিনাইদহের বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীদের মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে পরক্ষণে আবার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থীসংগঠনের নামে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কেও কেও থানায় জিডি করেছেন। আবার কেও গোপনে বিকাশের মাধ্যমে টাকাও পরিশোধ করছেন। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চারজন নাজির, হরিণাকুন্ডু ও কালীগঞ্জ হিসাবরক্ষ অফিসের কর্মকর্তাসহ অডিটর এবং জেলার ৬ সাব-রেজিস্ট্র্রি অফিসের অফিস সহকারিদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে দুই সপ্তাহ আগে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ মুন্সিখানার (আরএম) প্রধান সহকারী মানস কুমারের কাছে আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে ফোন আসে। তার কাছে ঝিনাইদহ জেলার ৬ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীদের মোবাইল নাম্বার চাওয়া হয়। নাম্বার দেওয়ার পর থেকে জেলার ৬ উপজেলার সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীদের মোবাইল ফোনে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পুর্ববাংলার কমিউনিষ্ট পার্টির বিপ্লব ও গাজী মহিউদ্দীন পরিচয় দিয়ে একের পর এক চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী আশরাফ হোসেন ঝিনাইদহ সদর থানায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি একটি জিডি করেছেন। ডিসি অফিসের প্রধান সহকারী মানস কুমার জানান, আইন মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব পরিচয় দিয়ে ফোন করার কারণেই তিনি নাম্বারগুলো সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, অনেক সময় ভুয়া পরিচয় দিয়েও এমন কান্ড ঘটানো হয়। বোঝা যাচ্ছে এ ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। ঝিনাইদহ সদর সাব রেজিস্ট্রার মৃত্যুঞ্জয়ী শিকারী বলেন, ডিসি অফিস থেকে মোবাইল নাম্বার চাওয়ার কারণে আমরা দিয়েছি। এখন সরকারের এজেন্সিগুলোর উচিৎ দুস্কৃতিকারীদের মোবাইল ট্রাকিং করে খুঁজে বের করা। হরিণাকুন্ডু সাব রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারি ফজলুর রহমান বলেন, আমার কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু আমি জিডি করিনি।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান নাজির জাহিদ হাসান লিপু, নাজির আব্দুল হান্নান, রতন কুমার ও সাইফুল ইসলামের কাছেও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। তারাও ঝিনাইদহ সদর থানায় জিডি করেছেন বলে প্রধান নাজির জাহিদ হাসান লিপু জানান।
তিনি আরো জানান, ফোন করে পুর্ববাংলা দলের পরিচয় দিয়ে বলা হয় “র‌্যাবের সাথে যুদ্ধ করে আমাদের বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। তাদের সাহায্যের জন্য ০১৯০৯০৮৮..৭ বিকাশ নাম্বারে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের খুন জখম করা হবে”। একই ভাবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসার মৃগেন্দ্র নাথ সাহা, অডিটর রুজদার আলী ও কালীগঞ্জ হিবাসরক্ষণ অফিসারকে মোবাইলে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি। নাম্বারগুলোর রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে পরিচয় সনাক্তকরা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ট্রাকিং করে দুর্বৃত্তদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, এরা প্রতারক চক্র। এদের হুমকিতে বিচলিত না হতে সংশ্লিষ্টদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ