Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ প্রক্টরসহ আহত ৬ জন

জাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৮:১৫ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল ও সাবেক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার পৌনে ৬ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ৬ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের শব্দ শুনা যায়। এছাড়া উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দেখা যায়।
পরে সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দু গ্রুপের নেতা-কর্মীদেরকে শান্ত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফিরজ উল হাসানের বুকে এসে ইট পরে। এছাড়া দুই গ্রুপের অন্তত ৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তারা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী সাজ্জাত, বাহার, মোস্তফা, উৎস ও রনি।
সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল তার স্ত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন। এ সময় বর্তমান সম্পাদক চঞ্চল তার নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এলাকার সামনে রাসেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে।
এ খবর জানার পর রাজিবের অনুসারীরা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে আবাসিক হল গুলো থেকে বের হয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের আবাসিক হল শহীদ সালাম বরকতের উপর হামলা চালায়। ফলে দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ বাঁধে। এই সময় গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ সালাম বরকত হল, মওলানা ভাসানি হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল, রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও আল বেরুনী হলের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে চলকালে সর্বমোট ৬ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে ২ এবং সাবেক সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।
এই বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘চঞ্চলের নেতৃত্বে আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এইসময় আমাকে ও আমার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করে।’

শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘আমার সাথে রাজিব ভাইয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দেখা হয়। আমি দেখে ওনাকে বলি- আপনি আসলে ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরী হয়, তাই আপনি চলে যান। এই কথা বলার পর ওনি আমার উপর হামলা করতে ওনার অনুসারীদেরকে ডেকে আনেন। এমন পরিস্থিতিতে আমি ওইখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে তার (রাজিব) অনুসারীরা আমার হলে এসে হামলা চালায়। পরে হলের শিক্ষার্থীরা তাদেরকে প্রতিরোধ করে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তাতে যে কোন মূহুর্তে আবার সংঘর্ষ বাঁধতে পারে। তাই আমরা পুলিশ মতায়ন করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজ যে পরিমাণ অস্ত্র দেখা গেছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে রেড দেওয়া এখন সময়ের দাবি। আমরা রেড দেওয়ার কথা ভাবছি।’
প্রসঙ্গত, নেতা-কর্মীদের মাঝে আধিপত্য বিস্তার ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি উপ দলে ভাগ হয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপ। মূলত এই গ্রুপিং থেকে এই মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সংঘর্ষ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ