Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

বিজিবি’র এ আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়

| প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিবর্ষণ ও হত্যাকান্ড নিয়ে বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বিজিবির ভারতীয় গরু জব্দ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী গ্রামবাসিদের সাথে সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্তের বহরমপুর এলাকায় মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় কথিত ভারতীয় গরু উদ্ধারের নামে স্থানীয় কৃষকের গরু বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের কৃষকরা একত্রিত হয়ে বাঁধা দিলে এই সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গরু আটক করার সময় সশস্ত্র চোরাকারবারিরা বিজিবির উপর হামলা চালালে বিজিবি সদস্যরা গুলি চালায় বলে স্থানীয় বিজিবি ব্যাটালিয়নের তরফ থেকে দাবী করা হলেও স্থানীয় জনসাধারণ ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন ভিন্ন তথ্য। বিজিবির গুলিতে নিহতদের মধ্যে এক স্থানীয় কিশোর এবং হাটে গমনরত পথচারী রয়েছে। ভারতীয় চোরাই গরু সন্দেহে বিজিবির অভিযান পরিচালনা এবং গরু জব্দ করার ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে উভয় পক্ষে উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনসাধারণের আক্রমনে দুজন বিজিবি সদস্য আহত হওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা বেপরোয়া গুলি চালানোর কারণেই নিরস্ত্র- নিরপরাধ মানুষ হতাহত হয়।
এতদিন ধরে বিএসএফ’র গুলিতে সীমান্তে বাংলাদেশী সাধারণ মানুষ ও গরু ব্যবসায়ী নিহত হচ্ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে হঠাৎ করেই বিএসএফ’র হাতে সীমান্তে হত্যাকান্ড বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি পিলখানায় বিজিবি’র ডেটাবেইজ উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বিএসএফ’র হাতে হত্যাকান্ড সম্পর্কে কিছুটা ভিন্নমত প্রকাশ করেন। তার মতে, বিএসএফ’র গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদের বেশীরভাগই গরু চোরাকারবারি এবং সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডের অনেক বাইরে ভারতের অভ্যন্তরে ঘটে বিধায় এগুলোকে সীমান্ত হত্যাকান্ড বলা যায় না। তার এ বক্তব্যে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সীমান্ত হত্যাকান্ড ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হিসেবে পরিগণিত হলেও বিজিবি মহাপরিচালকের বক্তব্যকে অনেকেই বিএসএফ’র পক্ষে সাফাই বলে মনে করেছেন। যেখানে বিএসএফ-বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন সীমান্ত দিয়ে শত শত কোটি টাকার মাদক, আগ্নেয়াস্ত্রসহ সমাজ ধ্বংসকারী নানাবিধ অবৈধ পণ্য প্রবেশ করলেও এসব চোরাচালানীরা ধরা পড়ে না। ভারতীয় গরু জব্দ করার নামে কৃষকদের গরু আটকের ঘটনায় সৃষ্ট সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা সত্যিই দু:খজনক। এ ঘটনায় সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরে বিজিবি’র অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ভুল তথ্য এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। দেশের সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত এই আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের কাছে মানুষ আরো সতর্কতা ও দায়িত্বশীল ভ’মিকা প্রত্যাশা করে।
মাদক ও চোরাচালানের বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দেশের সীমান্তরক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে এক ধরনের সমন্বয় ও শৃঙ্খলা থাকা বাঞ্ছনীয়। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র নির্বিচার গুলিতে সাধারণ মানুষ ও গরু ব্যবসায়ীরা নিহত হলেও মাদক ও অস্ত্র পাচার কখনো বন্ধ হয়নি। উপরন্তু এখন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র অভিযানের শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিজিবি- গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন গ্রামবাসীর প্রাণহানী এবং প্রায় ৩০জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা যে কারণে, যেভাবেই ঘটে থাকুক না কেন, এ ধরনের ঘটনা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট ও ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের সীমান্ত এবং জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখবে, দেশের মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করে। কোনো অজুহাতেই তাদের হাতে সাধারণ মানুষ হতাহত হোক, এটা কারোই কাম্য নয়। ঠাকুর গাঁও সীমান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাটিকে আমরা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই মনে করতে চাই। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এই সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। অবশ্যই দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে। হতাহত ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতিপুরণ ও বিচারের অধিকারকে রাষ্ট্র অগ্রাহ্য করতে পারে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত

২১ মার্চ, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন