Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

গ্রামীণফোন-বাংলালিংক ছাড়ার হিড়িক

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৭:৫৭ পিএম

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা চালু হয়েছে গতবছর ১ অক্টোবর থেকে। নতুন এই সেবা চালু করার ফলে নির্দিষ্ট অপারেটরের সেবায় অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা তাদের নম্বর ঠিক রেখে অন্য যেকোন পছন্দের অপারেটরে যেতে পারছেন। নতুন এই সেবাটি চালু হওয়ার পর থেকেই গত চার মাসে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নম্বর পরিবর্তনের ঝামেলা না থাকায় সেবার মান নিয়ে অসন্তুষ্ট গ্রাহকরা এক অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে যুক্ত হচ্ছেন। এমএনপি সেবা চালুর প্রথম চার মাসেই এক লাখ ৩৩ হাজার ৬২১ জন গ্রাহক সফলভাবে অপারেটর পরিবর্তন করেছেন। অন্যদিকে আগ্রহ থাকলেও এবং চেষ্টা করে অপারেটর পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এক লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ জন গ্রাহক।

সেবাটি চালু হওয়ার পর ৪ অপারেটরের মধ্যে (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক) সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে গ্রামীণফোন। এই অপারেটরটি গত চার মাসে ৬২ হাজার ৩১৭জন গ্রাহক হারিয়েছে। গ্রামীণফোনের ৩৯ হাজার ৮৫৭ জন গ্রাহক অন্য অপারেটরে যেতে আবেদন করলেও তা সফল হয়নি। অন্যদিকে অন্য অপারেটর থেকে তাদের সাথে এসে যুক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৩৪৬ জন। এরপরই রয়েছে বাংলালিংক। তারা একই সময়ে হারিয়েছে ৪৫ হাজার ৯২জন গ্রাহক এবং যুক্ত হয়েছে ২৫ হাজার ৬১৫ জন গ্রাহক। আবেদন ব্যর্থ হয়েছে ৪৪ হাজার ৩১জন গ্রাহকের।

এমএনপির ফলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে রবি আজিয়াটা। এই সেবা চালু হওয়ার প্রথম চার মাসেই অন্য তিন অপারেটরের সেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে ৯৩ হাজার হাজার ৮২৮জন গ্রাহক তাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে তাদের ২৩ হাজার ৯১১ জন গ্রাহক অন্য অপারেটরে চলে গেছে। এছাড়া এমএনপি সেবার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক ছাড়ার জন্য আবেদন করে ৮ হাজার ৩০৪ গ্রাহক। এর মধ্যে সফল হয় ২ হাজার ৩০১টি এবং ব্যর্থ হয় ৬ হাজার ৩জনের আবেদন। অবশ্য এই সময়ে ২ হাজার ২জন গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে টেলিটকে যুক্ত হয়।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি’র একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত বছর ১ অক্টোবর এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর প্রথম মাসেই ৭৬ হাজার ৩৪৭জন গ্রাহক বিদ্যমান অপারেটরের সেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে অপারেটর পরিবর্তনের জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৩১২টি সফলভাবে পরিবর্তিত হয়। আর বাতিল হয় ৩২ হাজার ৩৫জন। নভেম্বর মাসে আবেদন করে ৫৮ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে সফলভাবে পরিবর্তিত হয় ৩২ হাজার ৭৭৩ জন এবং বাতিল হয় ২৬ হাজার ৩৯ জন। ডিসেম্বর মাসে ৫৬ হাজার ৫৫২জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করে। এর মধ্যে সফলভাবে পরিবর্তিত হয় ২৯ হাজার ২৫৮টি এবং বাতিল হয় ২৭ হাজার ২৯৪ জনের আবেদন। জানুয়ারি মাসে ৪৬ হাজার ৮৬৮ জন গ্রাহক অপারেটর পরিবর্তনের আবেদন করে। এর মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয় ২৭ হাজার ৪৪৮ জনের এবং বাতিল হয় ১৯ হাজার ৪২০ জন গ্রাহকের আবেদন।

রবির হেড অব করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম বলেন, আমাদের নেটওয়ার্ক ও সেবার মান প্রতিযোগীদের চেয়ে অনেক উন্নত হওয়ার কারণেই এমএনপির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গ্রাহক রবিকে বেছে নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। গ্রাহকের আস্থার প্রতিদান দিতে নেটওয়ার্ক ও সেবার মান ধরে রাখতে আমরা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তবে করপোরেট গ্রাহকদের এমএনপি সেবা গ্রহণে এখনো বড় ধরনের জটিলতা রয়ে গেছে। এমএনপি সেবা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একটি মাত্র করপোরেট প্রতিষ্ঠান সফলভাবে এমএনপি সেবা নিতে পেরেছে। ব্যাংকের ওটিপি সেবা পেতেও সমস্যায় পড়েছেন এমএনপি সেবা নেওয়া অনেক গ্রাহক। আমরা আশা করি নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ সব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মোবাইল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ