Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খুলনায় পানি নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই

প্রকাশের সময় : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আবু হেনা মুক্তি : পানির অপর নাম জীবন হলেও সেই পানি নিয়ে ভোগান্তি আর দুশ্চিন্তার শেষ নেই খুলনাঞ্চলের মানুষের। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রতিদিন বন্দর ও শিল্প নগরী খুলনার হোটেলগুলোতে দূষিত পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ছে হাজার হাজার জনগণ। মিনারেল পানি নিয়েও চলছে তেলেসমাতি কারবার। নগরীতে ১০টি কোম্পানি খুলনাঞ্চলে মিনারেল পানি সরবরাহ করলেও অনুমোদন রয়েছে মাত্র ৪টির। মহানগরীর ৫টি হোটেলে খাবার পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর পরীক্ষা-নীরিক্ষার পর এই ক্ষতিকর পদার্থ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। এই পানি পানে আমাশয়, টাইফয়েডসহ নানা পেটের পীড়া দেখা দিচ্ছে। এছাড়া রয়েছে পানিতে লবণাক্ততা আর আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত ঝুঁকি। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, সম্প্রতি নগরীর ১৫টি হোটেলের খাবার পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। তার মধ্যে ৫টি হোটেলের পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ইনকিলাবকে জানান, খাবার পানিতে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করার জন্য হোটেল মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই ক্ষতিকর পদার্থ মানবদেহে প্রবেশের পর আমাশয়, টাইফয়েডের নানা পেটের পীড়া দেখা দিচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ, খুলনা শাখা আয়োজিত সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত ‘মহানগরীর সমস্যা ও সম্ভবনা’ শীর্ষক সেমিনারে উল্লেখ করা হয় মহানগরীতে সুপের পানি সরবরাহ নাজুক পর্যায়ে। নলকূপের সাহায্যে ভূ-গর্ভস্থ স্তর থেকে পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর আর ও নেমে যাচ্ছে। সেমিনারে বলা হয়, ভৈরব, রূপসা , পশুর ও আঠারোবেকী প্রভৃতি নদীর ন্যায় জোয়ার ভাটায় নদী মহানগরীর পাশ দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মহানগরীর ৩১টি ওয়ার্ড নলকূপের পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা ২০০-১৪০০ পিপিএম যা গ্রহণযোগ্য মাত্রার কয়েকগুণ বেশি। এছাড়া মহানগরীর লবণচরা, বাদামতলা, পাবলা এবং খান এ সবুর রোডের বিভিন্ন স্থানের নলকূপের পানি আর্সেনিকের মাত্রা .০৭ গ্রাম যা সহনীয় মাত্রা অতিক্রম করেছে। শিরোমণি শিল্পাঞ্চলে আর্সেনিকের মাত্রা বিভিন্ন স্থানে ০.০৯ হতে ০.১৪ মি. গ্রাম, যা উদ্বেগের কারণ।
মহানগরীতে কেসিসি, ইউএমএআইডিএ বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের যৌথ তুলনামূলক পরিবেশজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরুপণের জন্য পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নগরবাসীর বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে উচ্চতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। নগরবাসী পানিবাহিত রোগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মিউনিসিপ্যাল সার্ভিসেস প্রজেক্টর আওতায় নগরীর পানির ওপর হাইড্রোজিওলজিকাল স্টাডি চলাকালে ফ্রান্সের বিশেষজ্ঞ এক সমীক্ষায় উল্লেখ করেন, খুলনা নগরীর কয়েকটি নলকূপে কম বেশি আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এদিকে, ওয়াসা স্থাপনের ৫ বছর পর ও পানি জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিন বা ব্লিচিং ব্যবহার হয়নি। পাইপ লাইনে পানির অতিরিক্ত স্রোত বইয়ে পরিস্কারও করা হয়নি। এলাকাবাসীদের ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময়ের অভিযোগ টুটপাড়া, নতুন বাজার বস্তি, মিয়াপাড়া, ফরাজীপাড়া, ইকবাল নগর, মৌলভীপাড়া, সেনাডাঙ্গা, নিরালা, বসুপাড়া, শেখপাড়া, বানরগাতী, মীর্জাপুর ও সামসুর রহমান রোড এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ পানিতে প্রায় ময়লা ও কাদামাটি পাওয়া যায়। মাঝে মাঝে পানিতে দুর্গন্ধও পাওয়া যায়। বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির খুলনা বিভাগীয় মহাসচিব মো. আজগর হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত থাকলেও রহস্যজনক কারণে এর প্রতিকারে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। খুলনায় ওয়াশা হয়েছে কিন্তু তার কোন সুফল নগরবাসী পায়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান আরো জোরদার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, বিএসটিআই’র অনুমোদন না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি পানি তৈরি কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আল আমিন ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৭ হাজার টাকা, একই স্থানে মেরিন এ ওয়াটার ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৮ হাজার টাকা এবং গ্রীন লাইফ ড্রিংকিং ওয়াটারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনায় পানি নিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ