Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

‘রোহিঙ্গা শিশুদের আগুনে ফেলতো সেনাবাহিনী’

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:৩৮ পিএম

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা এবং জাতিগত শুদ্ধি বা নির্মূল অভিযানসহ মিয়ানমার সরকারের ভয়াবহ ও পৈশাচিক অপরাধযজ্ঞের বিবরণ দিয়েছেন জাতিসংঘের তদন্ত টিমের একজন সদস্য।

জাতিসংঘের তদন্ত টিমের টিমের সদস্য রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে প্রথমে রোহিঙ্গা যুবকদের হত্যা করা হয় এবং এরপর রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ওপর ভয়াবহ যৌন নির্যাতন চালানো হয়। বড় বড় ভবনে ও আটককেন্দ্রগুলোতে এইসব পরিকল্পিত অপরাধ চালানো হয়। এমনকি, রোহিঙ্গা শিশুদের ওপরও নির্যাতন চালানোর সাক্ষ্য পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গা শিশুদেরকে বাবা-মা থেকে পৃথক করা হয় এবং এমনকি কখনও কখনও তাদেরকে আগুনে ছুঁড়ে ফেলা হয়।
‘আমরা মিয়ানমারের ছয়জন জেনারেলকে চিহ্নিত করেছি যাদের যুদ্ধ-অপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সম্পর্কে অবশ্যই তদন্ত চালাতে হবে,’ বলে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। রাধিকা বলেন, রাখাইনে যা ঘটছে তা এক নতুন সামরিক অভিযান এবং এ নিয়ে আমরা তীব্র উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি, কারণ এক বছর পর দেখা যাচ্ছে যে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলোর শোচনীয় অবস্থা ও তাদের চরমপন্থী হয়ে ওঠার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, তারা বেকার ও তাদের শিক্ষার কোনও ব্যবস্থা নেই এবং সারা দিন তারা এক জায়গায় থাকছে; এমন পরিণতি কে চাইতে পারে? মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে রোহিঙ্গারা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল অবস্থায় থাকতে পারে। আর তা সম্ভব না হলে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ অঞ্চলে পাঠানো অনিবার্য হয়ে পড়বে।
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ওপর গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধসহ ব্যাপক সহিংসতা ঘটার বিষয় জাতিসংঘ ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনেও উল্লেখ করেছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মিয়ানমার


আরও
আরও পড়ুন