Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫, ১৭ রজব ১৪৪০ হিজরী।

মহানবী সা.কে নিয়ে কার্টুন ইহুদিচক্রের গভীর ষড়যন্ত্র

কে.এস. সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

মহানবী (সা.) এর কল্পিত ছবি সম্বলিত একটি পুস্তিকা ১৯৭০ সালে ব্রিটেনের লেস্টার শহর হতে প্রকাশিত হয়। ইসলামের পরিচিতি সংক্রান্ত পুস্তকগুলোর মধ্যে এটি ছিল একটি। এ পুস্তিকায় মহানবী (সা.) এর পবিত্র জীবন চরিত কার্টুন ও বিভিন্ন ছবির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৯৭৭ সালে মার্কিন ইহুদিরা মহানবী (সা.) এর নামে বিভিন্ন (হাতে আঁকা) কার্টুন তৈরি করে। অতঃপর ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিবিসি পত্রিকা লন্ডন কলিং এর কাভারে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে ফেরেস্তাদের কাল্পনিক ছবি ছাপে। একই বছর পল পাবলিশিং লিমিটেড মি. লন্ডন নিও জোয়াহে নলেজ এনসাইক্লোপেডিয়া প্রকাশ করে এবং তাতে ইসলাম সম্পর্কিত অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর কল্পিত ছবি প্রকাশ করে। অনুরূপভাবে একজন ধর্মীয় বুদ্ধিজীবী হোস্টেন স্মিথ কর্তৃক রচিত একটি পুস্তকে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর পাঁচটি কল্পিত ছবি প্রদত্ত হয়। লন্ডন অবজারভার পত্রিকায় মহানবী (সা.) এর কল্পিত ছবি ছাপা হয়। ১৯৯৭ সালে কয়েকটি পত্রিকা একই ঘৃণ্য কাজ করে। এসবের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া এখানে সম্ভব নয়। এসব ঘটনা বিগত শতকের শেষ দিকের। বর্তমান শতকের শুরু হতে এযাবৎ কালের ঘটনাবলী একত্রিত করা হলে এক ভয়াবহ চিত্র উন্মোচিত হয়ে উঠবে। কেননা এসব তৎপরতার যোগসূত্র প্রায় একই। ইসলাম ও মহানবী (সা.) এর কল্পিত ছবি, ছায়াছবি এবং কার্টুন প্রকাশকেরা ইতিহাসকে বিকৃত করে চলেছে। মুসলমানদের ঘৃণা, নিন্দা এবং তীব্র প্রতিবাদের মুখে সাময়িকভাবে বিরত থাকলেও বরাবর একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
মুসলিম উম্মাহ গভীরভাবে লক্ষ্য করে আসছে যে, মহানবী (সা.) এর অবমাননা করার নব নব অপকৌশল পশ্চিমা বিশে^ সূত্রপাত করা হয় চলমান শতকের গোড়ার দিকে। বিভিন্ন তথ্যানুযায়ী, ২০০৫ সালের ৫ মে থেকে ৮ মে পর্যন্ত জার্মানির বাওরিয়া রাজ্যে অবস্থিত টিক্রেসি নামক বিবেল তীরে ডোরান্ট সুপিটিল সিং হোটেলে আটলান্টিক মহাসাগরীয় দেশগুলোর প্রধানদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং তাতে অংশগ্রহণকারী ক্ষমতাসীন শাসকবৃন্দ ছাড়াও ডাচ, বেলজিয়াম এবং স্পেনের রাজন্যবর্গের উচ্চস্তরের প্রভাবশালী প্রতিনিধিবর্গ, ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও হেনরি কিসিঞ্জারসহ ডেনমার্কের প্রতিনিধিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। পত্রিকার সম্পাদক জন হ্যানসন কর্তৃক তার আর্টিস্ট দ্বারা নির্মিত বারোটি কার্টুন প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই বহুজাতিক মহাসম্মেলনে। ডেনমার্কের পত্রিকা জিল্যান্ডস পোস্টিন কার্টুনগুলো প্রকাশ করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে কার্টুন প্রকাশ সম্পর্কে সংহতি প্রকাশ করেন এবং কার্টুন প্রকাশকারী পত্রিকাটিকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। কার্টুনগুলো ডেনমার্কের স্থানীয় অখ্যাত পত্রিকা জিল্যান্ডস পোস্টিনে ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়, যার ইহুদি সম্পাদক ছিল বর্ণিত জন হ্যান্সন। এ পত্রিকায় কার্টুনগুলো ছাপা হওয়ার পর নরওয়ের পত্রিকায়, অতঃপর কোনো কোনো ইউরোপীয় ও মার্কিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরই বিরূপ প্রতিক্রিয়া হিসেবে মুসলিম বিশে^র সর্বত্র তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাতে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিন্দা, প্রতিবাদ জানাতে থাকে। অথচ এ ঘৃণ্য তৎপরতার জন্য সংশ্লিষ্টদের লজ্জিত ও ক্ষমা চাওয়াতো দূরের কথা, বরং তাদের এসব অপকর্ম তারা অব্যাহত রাখে, ফলে মুসলমানদের নিন্দা, ক্ষোভও আরো তীব্র হতে থাকে, সে সময়কার প্রচার মাধ্যমগুলো তার স্পষ্ট প্রমাণ ।
সে অপমানজনক ও আপত্তিকর কার্টুনগুলোর কথা উল্লেখ করাও একজন রসুলপ্রেমিক মুসলমানের পক্ষে লজ্জাস্কর, তথাপি তাদের ইসলাম বিদ্বেষী ও নবী-বিরোধী মনমানসিকতা অবগত হওয়ার জন্য তার উল্লেখ করতে হয়। সেই আপত্তিকর ইহুদি মস্তিষ্কপ্রসূত ঘৃণ্য বারো কার্টুন সংক্ষেপে এই :
প্রথম কার্টুনে রসুলুল্লাহ (সা.) কে রশি ধরে একটি গর্দভকে নিয়ে যেতে দেখানো হয়েছে ।
দ্বিতীয় কার্টুনে বিক্ষিপ্ত দাঁড়ি, গোফ ও পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়েছে, যাতে সম্মুখভাগে কলেমা তায়্যিবা লেখা রয়েছে ।
তৃতীয় কার্টুনে, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজির মাঝখানে একটি অপূর্ণ ছবি রয়েছে।
চতুর্থ কার্টুনের উপরিভাগে ইহুদিদের ৬ কোণ বিশিষ্ট তারকার নিচে চাঁদ দেখানো হয়েছে।
৫, ৬ এবং ৭ নং কার্টুনের ডানে ও বামে দুইজন বোরকা পরিহিত খোলা চোখের বাহুর মাঝখানে খঞ্জর হাতে এবং চোখে পট্টি লাগানো অবস্থায় দেখানো হয়েছে ।
৮. ৮ম কার্টুনে হস্ত প্রসারিত কিছু লোক (নারীকে) কার্টুনের আকারে কিছু খাওয়ার অবস্থায় দেখানো হয়েছে ।
৯. ৯ম কার্টুনে, আরবি বø্যাক বোর্ডে আরবি লেখার দিকে এক ব্যক্তিকে ইঙ্গিত করতে দেখানো হয়েছে ।
১০. ১০ম কার্টুনে কুর্সিতে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি কোনো এক দাড়িওয়ালার ছবি অংকন করছে এবং কিছু লেখা পড়ছে ।
১১. একাদশ কার্টুনে দেয়ালের ওপর ১নং হতে ৭ নং পর্যন্ত লিপি দেখানো হয়েছে, যার নিচে নানা শ্রেণির লোক দাঁড়িয়ে আছে। মাঝখানে একটি লেখা আছে।
১২. দ্বাদশ কার্টুনে দরবারে শাহী পোশাকে রাণীর সঙ্গে দেখানো হয়েছে। নিচে কিছু লেখা রয়েছে যা পড়া যাচ্ছে না ।
এসব আর্টিস্টের বক্তব্য ছিল এই যে, এহেন আপত্তিকর কাজ মুসলমানরা তাদের নবী (সা.) এর প্রতি অবমাননাকর মনে করবে এবং যদি তারা (আর্টিস্টগণ) অনুরূপ কোনো কাজ করে তাহলে তাদের জীবন বিপদের শিকার হবে। তারা হল্যান্ডের উদাহরণ পেশ করে যে, সেখানে জনৈক ছবি নির্মাতা এক নারীর দেহে কোরআনের আয়াত লিখে দিয়েছিল। অতঃপর এক মুসলমান যুবক উক্ত ছবি নির্মাতাকে হত্যা করে। হত্যার পর যখন মামলা চলে তখন যুবক আদালতে এসে জানায় যে, ‘আমাকে ফাঁসির শাস্তি প্রদান করা হোক, কেননা আমি যদি জীবিত থাকি এবং অপর কোনো ব্যক্তি আমার সামনে অনুরূপভাবে অংকন করে তবে তাকেও আমি হত্যা করব।’
মহানবী (সা.) এর ওপর কার্টুন অংকনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন একটি বিরল ঘটনা। কিন্তু রসুল (সা.) এর উপর আপত্তিকর পুস্তক রচনাকারীর বর্ণিত ঘটনা হতে শিক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে উল্লেখিত প্রবন্ধকার, সম্পাদকের নিকট গিয়ে অভিযোগ করেন, ‘আমদের দেশের সকল আর্টিস্টই কাপুরুষ, এসব লোক মুসলমানদের পয়গম্বর (সা.) এর ওপর কার্টুন আঁকতে নারাজ।’
সম্পাদক সাহেব লেখককে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কাপুরুষতার কারণসমূহ বর্ণনা করেন। সম্পাদক সাহেব জবাবে বলেন, ‘আর্টিস্টগণ অকারণে চিন্তিত, ডেনমার্ক একটি ‘লিবারেল ও সেকুলার’ দেশ এবং সেখানে বসবাসকারী সকল মুসলমানও ডেনমার্কের লোকদের ন্যায়। এসব লোক ডেনমার্কের লোকদের কালচারে (সংস্কৃতি) রঞ্জিত, এরা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের পোশাক পরিধান করে, আমাদের ন্যায় খাবার খায় এবং তাদের মধ্যেও সে সব মন্দ স্বভাব বিদ্যমান, যেগুলো আমাদের লোকদের মধ্যে রয়েছে। সুতরাং, ডেনমার্কের মুসলমানগণ এতে কোনো প্রকারের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে না।
লেখক এ বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘মুসলমানগণ কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির জাতি। ইউরোপ ও আমেরিকার খ্রিস্টানগণ পরষ্পর বিভক্ত, তাই তারা নরওয়ের খ্রিস্টান হোক, ডেনমার্কের খ্রিস্টান হোক এবং ব্রিটেনের খ্রিস্টান হোক না কেন। সুতরাং আমাদের সকলের সমস্যাবলী স্থানীয় এবং আমাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মুসলমানরাও পরষ্পর বিভক্ত, কিন্তু এমন কিছু বিষয়, এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে ঐ সব লোকের চিন্তা-ভাবনা এক, তাদের প্রতিক্রিয়া এক ও অভিন্ন। এসব লোক ঐ বিষয়গুলোতে নীল নদের তীর হতে আরম্ভ করে কাশগড় পর্যন্ত একই প্রকারের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করবে।’
লেখকের জবাবে সম্পাদক সাহেব বিস্মিত হন। তাই তিনি যাচাই বা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি পত্রিকার আর্টিস্টকে ডেকে পাঠান, তাকে পরামর্শ দেন এবং ঐ আর্টিস্ট ‘গোস্তাখি’র (আপত্তিকর) আমল শুরু করে। এই কুখ্যাত ব্যক্তি নবী করিম (সা.) এর (নাউজুবিল্লাহ) ১২টি কার্টুন বানায় এবং এগুলো সম্পাদককে প্রদান করে। সম্পাদক ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তার পত্রিকায় প্রকাশ করেন।
১২টি কার্টুন সর্ব প্রথম ডেনমার্কের পত্রিকায় ছাপা হয়। অতঃপর নরওয়ের পত্রিকায় আংশিক ছাপা হয়। এরপর ইউরোপীয় এবং মার্কিন পত্রিকাগুলো বেপরোয়াভাবে প্রকাশ করতে থাকে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথমবার যখন এসব কার্টুন প্রকাশিত হয়, তখন প্রাথমিকভাবে ডেনমার্কের মুসলমানগ প্রতিবাদ জানালেও সেদিক কর্ণপাত করা হয়নি। অতঃপর মুসলমানগণ অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের ক্ষেত্র প্রশস্ত করেন। এসব কার্টুনের প্রকাশ, প্রতিবাদ এবং পশ্চিমাদের হঠকারিতার বিবরণ বিদেশি একটি বিখ্যাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল তা এই রূপ:
‘জ্যা ল্যান্ড পোস্ট’ ডেনমার্ক এর একটি সীমিত সংখ্যক প্রকাশিত স্থানীয় পত্রিকা। জন হ্যানসন-এর সম্পাদক, তার পত্রিকার সামান্য খ্যাতির জন্য তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর অশোভনীয় কার্টুনগুলো ছাপেন, সংখ্যায় ছিল ১২টি। পত্রিকাটি ডেনিশ ভাষায় প্রকাশিত হয়ে থাকে। তাই ডেনমার্কে বসবাসকারী বহু মুসলমান তা পাঠ করেন না।
২০০৬ সালের ১০ জানুয়ারি নরওয়ের ‘ম্যাগজানিত’ নামক একটি পত্রিকা এসব কার্টুন পুনরায় প্রকাশ করে। এর প্রচার সংখ্যাও ছিল খুবই সীমিত যার ফলে অধিকাংশ লোক এ গোস্তাখি সম্পর্কে অবহিত ছিল না, কিন্তু পরের দিন নরওয়ে-এর প্রসিদ্ধ পত্রিকা ‘ওয়াক বেলাওত’ এসব কার্টুন তার ইন্টারনেট সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ গোস্তাখি সমগ্র দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইসলামী দুনিয়ার পক্ষ হতে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
এটি ছিল হজ্জ্বের মওসুম। প্রায় চল্লিশ লাখ মুসলমান সউদী আরবে সমবেত ছিলেন। সেখানে লোকেরা ঐ সব কার্টুন নিয়ে আলোচনা করতে থাকেন। বিষয়টি কাবার ইমাম পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তিনি এ গোস্তাখিকে কঠোরভাবে গ্রহণ করেন। হজ্জ্বের পর জুমা দিবসে সউদী আরবের সকল মসজিদের ইমমগণ এ দুঃখজনক ঘটনার উল্লেখ করেন এবং সমগ্র মুসলমানদের নিকট নিয়মতান্ত্রিক প্রতিবাদের আহŸান জানান।
উল্লেখ্য, সে সময় সউদী আরব ডেনমার্কের হালাল গোশত এবং ডেইরী নির্মিত দ্রব্য সামগ্রীর সর্বাপেক্ষা বৃহত্তর ক্রেতা দেশ ছিল। ডেনমার্কের একটি কোম্পানি প্রতি বছর সউদী আরবের নিকট ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ডেইরী দ্রব্য সামগ্রী বিক্রয় করত। জনগণ সেগুলো বয়কট আরম্ভ করে দেয়। লোকেরা বিপণন কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশ করে এবং যাবতীয় ডেনিশ সামগ্রী উঠিয়ে বাইরে নিক্ষেপ করে। লোকেরা তাদের ব্যক্তিগত ফ্রিজগুলো হতেও সব ডেনিশ দ্রব্য সামগ্রী আবর্জনায় নিক্ষেপ করে।
মাত্র দুই দিনে এ কোম্পানি সউদী আরবে দেউলিয়া হয়ে যায়। গণপ্রতিবাদ দেখে সউদী আরব ২৬ জানুয়ারি ডেনমার্ক হতে তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। অতঃপর এ প্রতিবাদ আরব আমিরাত, ইরান, লিবিয়া, মিসর এবং ফিলিস্তিন সমেত সমগ্র মুসলিম বিশে^ ছড়িয়ে পড়ে।
আজ থেকে এক যুগেরও আগের এসব ঘটনা এখনো মোটেই বাসি-বিস্মৃত হয়ে যায়নি, অনেকেরই জানা। সুতরাং, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি এখন নিষ্প্রয়োজন। তবে মহানবী (সা.) এর পবিত্র জীবনচরিতকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনকারী, অবমাননাকারী কুখ্যাত কার্টুন অংকনকারীরা যে ঘৃণ্য কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছে এবং ফেসবুক, ইন্টারনেট, ই-মেইল, ইমু, ভাইবার, ম্যাসেনঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদি মাধ্যমে বিগত এক যুগ ধরে নানা স্থানে বহুবার একই ভ‚মিকা পালন করে চলেছে। তা সকলেই অবগত আছেন। তাদের পাশাপাশি ভিন্নভাবে মুসলমান নামধারী নানা বিভ্রান্ত সম্প্রদায় কোরআন ও হাদিসের বিকৃত ব্যাখ্যা ছাড়াও নানা প্রকারের বিভ্রান্তি এবং অপপ্রচারে লিপ্ত। এদের ব্যাপারে সতর্ক, সাবধান থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। বর্তমান বিশে^র নানা স্থানে ইসলাম ও মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তারই পরিপ্রেক্ষিতে উপরোক্ত পটভ‚মিকা মুসলিম উম্মাহ’র ভুলে গেলে চলবে না, আত্মভোলা মুসলমানদের এ পরিস্থিতি অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন