Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ০৮ চৈত্র ১৪২৫, ১৪ রজব ১৪৪০ হিজরী।

আইএমএফ-পাকিস্তান অচলাবস্থা নিরসন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও আইএমএফ প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দের মধ্যে আলোচনা সফল হয়েছে। তারা দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের সাইডলাইনে সাক্ষাত করেন। সামিটে মূল বক্তা ছিলেন খান। তিনি সেখানে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের স্বপ্ন তুলে ধরে। খানের বক্তৃতায় পাকিস্তানের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রিয় গুরুত্বটি তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ী নেতারা যোগ দেন।

পাকিস্তানের অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্রগুলোর সুযোগ গ্রহণ করতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে খান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সবুজ উন্নয়নের মতো খাতগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। দেশের আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গী উন্নত করার লক্ষ্যে সংস্কার জোরদারের কথা উল্লেখ করেন খান। তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে অধিক ব্যয়ের মাধ্যমে মানব উন্নয়ন জোরদারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এসময় খান বলেন, সংস্কার কষ্টকর হলেও তা জরুরি।
দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন লাগার্দে। তাই তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ’র আলোচনার টোনটি কি হতে পারে তা আগেই বুঝেছিলেন। বিস্তারিত তুলে ধরে খান বলেন যে তার সরকার দেশের অর্থনৈতিক নীতিগুলো সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছিলো কিন্তু টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই চলমান সংকট নিরসন সম্ভব ছিলো না। বিশেষ করে পাকিস্তানের মূল সমস্যা হলো আমদানি বেড়ে যাওয়া। ফিসকেল ঘাটতি কমানের জন্য ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে। ব্যবসায় সুবিধার জন্য কর আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে পাকিস্তানের সহায়তা প্রয়োজন হলেও ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে আইএমএফ’র সঙ্গে চলা বৈঠকগুলো ফলদায়ক হয়নি। কর রাজস্ব আয় ব্যবস্থা জোরদার ও ফিসকেল ঘাটতি কমানোর উপর আইএমএফ জোর দেয়ায় কোন চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। কিন্তু এবার আইএমএফ কর্মকর্তারাই বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আইএমএফ যে ধরনের কাঠামোগত সংস্কার চায় পাকিস্তান সরকার তাতে রাজি না হওয়ায় সাহায্য করার প্রশ্নটি আটকে যায়। ফলে তহবিলের জন্য পাকিস্তান বন্ধু দেশগুলোর দ্বারস্থ হয়। চীন, আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো পাকিস্তানের সহায়তায় এগিয়ে আসে। এরই মধ্যে পাকিস্তান ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা আদায়ে সক্ষম হলেও দেশটির অর্থনৈতিক সমস্যা পুরোপুরি কেটে যায়নি। স¤প্রতি পাকিস্তানের ব্যাংকিং খাতকে ‘নেতিবাচক’ মার্কিং করেছে মুডি র‌্যাংকিং।

লাগার্দের সঙ্গে আর্থিক বেইল আউট নিয়ে খান কথা বলেন। এসময় অর্থমন্ত্রী আসাদ উমর পাশে ছিলেন।
উৎসাহের ব্যাপার হলো আইএমএফ যেসব শর্ত দিয়েছিলো তার অনেকগুলোর ব্যাপারে মতৈক্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়। পাকিস্তানকে আইএমএফ সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত উল্লেখ করে লাগার্দে আশা প্রকাশ করেন যে এর মাধ্যমে দেশটি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।

আইএমএফ প্রধানের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের নীতি এজেন্ডাগুলো প্রশংসার যোগ্য। কারণ এতে দরিদ্রদের রক্ষা ও সুশাসনের উপর মনযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উপরও নজর দেয়া হয়।
একইভাবে খান তার টুইটার একাউন্টে লিখেন, লাগার্দের সঙ্গে তার বৈঠকে কাঠামোগত সংস্কারের ব্যাপারে মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে আইএমএফ’র সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে অচলাবস্থার নিরসন নিকটে বলে মনে হচ্ছে।

পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বেইল আউট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া মাত্র দুই মাসের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারবে দশটি। একই সঙ্গে ডলারের মজুত বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তেল, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির জন্য ডলারে পরিশোধ করতে হয়। তাই অর্থনীতিকে সঠিক পথে রাখতে শিগগিরই আইএমএফ’র ঋণের ঘোষণা দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত বছর পাকিস্তানের মুদ্রা মানের ২০% পতন ঘটে। এতে অর্থনৈতিক অবস্থার আরো অবনতি হয়। অন্যদিকে মাসের পর মাস কোন চুক্তি ছাড়াই আইএমএফ’র সঙ্গে আলোচনা চলে। গত দশকে তুরস্ক ও হাঙ্গেরির সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে মূল শর্ত হলো সময় মতো ঋণ পরিশোধ। আর সেজন্য রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। তারপরও পাকিস্তান শিগগিরই আইএমএফ’র অর্থনৈতিক কর্মসূচি পেতে যাচ্ছে বলে ধরে নেয়াই ভালো। সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।



 

Show all comments
  • AK Ajij ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    ভারত ভেবেছিল চাবাহার বানাই দিলেই পাক সেস ফলাফল উলটা হইল সাউদ ধনকুবের আই এখন সিপেক এ
    Total Reply(0) Reply
  • অহেদুল তালুকদার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    সৌদীর উচিত পাকিস্তানের সামরিক খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করে, পাকিস্তানকে একটি পরাশক্তির মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে গড়ে তোলা এবং সৌদির স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব পাকিস্তানের হাতে ন্যস্ত করা।।
    Total Reply(0) Reply
  • Khan Emon ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    শেখ হাসিনার পরামর্শে দেশ চালানো শেখেন
    Total Reply(0) Reply
  • MD Asif ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    বাংলাদেশ চাইলে পাকিস্তনকে হালকা পাতলা ঋন দিতে পারে।
    Total Reply(0) Reply
  • Rahman Sadman ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৮ এএম says : 0
    দুই টা এটম আমাদের দেশে বিক্রি করে দাও।সব ঠিক হয়ে যাবে।
    Total Reply(0) Reply
  • জিয়াউল হক ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৩২ এএম says : 0
    পাকিস্তান এগিয়ে যাক, ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। ভারতের অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রতিবেশীদের একমাত্র সহায়তা করতে পারে পাকিস্তান।
    Total Reply(0) Reply
  • Jahidul Islam ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৩ এএম says : 0
    পাকিস্তান কাগজে বাঘ। মুখে বড় বড় কথা কাজে কিছুই নাই। তলাবিহিন ঝুড়ি। একদম বিএনপির মত। সৌদি আরব ও চীন দিতেই আছে। পাকিস্তান যে ফুটা। আইএমএফ দিলেও কিছু হবে না, পাকিস্তান এখন 'কোমায়'।
    Total Reply(0) Reply
  • শিপন ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৩ এএম says : 0
    বাংলাদেশে থাকা পাকিস্থান পন্থিরা জিন্দাবাদ বলুন?
    Total Reply(0) Reply
  • আশফিক ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৩ এএম says : 0
    একদিকে বাংলাদেশ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে অন্যদিকে পাকিস্তান একই গতিতে পিছিয়ে যাচ্ছে।
    Total Reply(0) Reply
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৪৪ এএম says : 0
    পাকিস্তানের অর্থনীতি আজ টালমাটাল ।এর কারন আন্তর্জাতিক । যারাই একটু স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাইছে তাদেরকেই মোড়লরা সেশ করে দেয়ার চেস্টা করছে। চিনের মত দেশকেও তারা খেলু বানিয়ে ফেলার চেস্টা করছে। একজন কমেন্ট করল পাকিস্তানীদের কে ভারতের কাছে হাত পাততে হবে। এটা প্রলাপ । ভারতের মত এমন দুখিনী দেশ আরেকটি এই পৃতিবীতে নেই। কারণ অর্ধেক মানুষ চরম দরিদ্র আর কিনছে টনে টনে অস্ত্র। তবে বাংলাদেশ এদের উভয়ের চেয়ে ভাল অবস্থায় আছে। ভারত প্রেমিদের বগল দাবানো খানিকটা বিনোদন বৈ আর কিছু নয়।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান

১৯ মার্চ, ২০১৯
১৭ মার্চ, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন