Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ২১ জুন ২০১৯, ৭ আষাঢ় ১৪২৬, ১৭ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

সারাদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, খাবারের খোঁজে রেস্তরাঁয় ভিড়

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:১১ পিএম

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসা-বাড়িতে রান্না করতে পারেননি অনেকে। দুপুরের খাবারের জন্য নিরুপায় হয়ে ছুটতে হয়েছে খাবারের হোটেলে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, গাবতলী, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল সেসব এলাকার দোকানগুলোর সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। লোকজন খাবার কেনার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছে। আবার হোটেলে গিয়ে খাবার না পেয়েও খালি হাতেও ফিরেছেন অনেকে। অনেকে ঘুরেছেন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে।
কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, সকাল থেকে গ্যাস সংকটের কারণে রান্না হয়নি। সকালের খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে পাশের হোটেল থেকে। দুপুরের খাবারের জন্য ছুটতে হয়েছে ভালো হোটেলের খোঁজে। অনেকেই অসুবিধায় পড়েছেন পরিবারে শিশুদের নিয়ে। তাদের প্রয়োজনীয় বাড়তি খাবার দিতে পারছেন না।
শ্যামলীর বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, আগে থেকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টা আগে থেকে জানা থাকলে সতর্ক হওয়া যেতো।
শ্যামলী ডেলিসিয়া হোলেটের ম্যানেজার রাসেল বলেন, এই এলাকায় সকাল ৬টা থেকে গ্যাস নেই। তাই সকাল থেকে এ হোটেলে লোকজনের প্রচন্ড ভিড়। সিলিন্ডারের গ্যাসে রান্না হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে সেই খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভাত আছে তো তরকারি নেই, এভাবেই সারাদিন চলেছে। তিনি বলেন, অনেক কাস্টমার ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।
শ্যামলী তেহারী ঘর হোটেলের সামনে খাবার নেওয়া জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকালের দিকে হোটেল থেকে পরিবারের সবার জন্য রুটি কিনে নিয়েছি। সারাদিন যে গ্যাস থাকবে না সে বিষয়ে আগে থেকে জানতান না। গ্যাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাস যে থাকবে না সেটি মাইকিং করে জানানো হয়নি। আগে জানতে পারলে সেই হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তিনি বলেন, সব হোটেলে ভিড়। কোথায় খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছু করার নেই, বাধ্য হয়ে এ হোটেলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
কল্যাণপুরের একটি বস্তিতে বসবাস করেন মোতালেব মিয়া। পেশায় রিকশাচালক। ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে বস্তিতে থাকেন। গ্যাসের সংকট বিষয়ে তিনি জানান, সাকালে গ্যাস থাকবে না শুনে ছেলে মেয়েদের দুপুরের খাবার কেনার টাকা দিয়ে এসেছেন। তিনি নিজে দুপুরে রাস্তার যেকোনো হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন।
এদিকে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য আশুলিয়া ও আমিনবাজার সিজিএস প্ল্যান্ট থেকে তিতাস সিস্টেমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে আশুলিয়া, সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, শ্যামলী, রিংরোড, মনসুরাবাদ, কাদিরাবাদ, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, আজিমপুর, হাজারীবাগ ও এসব এলাকা সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হতে পারে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ খুব কমও থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে তিতাস গ্যাস। বর্তমানে কোম্পানিটি ১৩ হাজার ৭৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এর গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৪।

সারাদিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, খাবারের খোঁজে রেস্তরাঁয় ভিড়
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসা-বাড়িতে রান্না করতে পারেননি অনেকে। দুপুরের খাবারের জন্য নিরুপায় হয়ে ছুটতে হয়েছে খাবারের হোটেলে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, গাবতলী, সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল সেসব এলাকার দোকানগুলোর সামনে ছিল দীর্ঘ লাইন। লোকজন খাবার কেনার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছে। আবার হোটেলে গিয়ে খাবার না পেয়েও খালি হাতেও ফিরেছেন অনেকে। অনেকে ঘুরেছেন এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে।
কল্যাণপুর এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান জানান, সকাল থেকে গ্যাস সংকটের কারণে রান্না হয়নি। সকালের খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে পাশের হোটেল থেকে। দুপুরের খাবারের জন্য ছুটতে হয়েছে ভালো হোটেলের খোঁজে। অনেকেই অসুবিধায় পড়েছেন পরিবারে শিশুদের নিয়ে। তাদের প্রয়োজনীয় বাড়তি খাবার দিতে পারছেন না।
শ্যামলীর বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, আগে থেকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টা আগে থেকে জানা থাকলে সতর্ক হওয়া যেতো।
শ্যামলী ডেলিসিয়া হোলেটের ম্যানেজার রাসেল বলেন, এই এলাকায় সকাল ৬টা থেকে গ্যাস নেই। তাই সকাল থেকে এ হোটেলে লোকজনের প্রচন্ড ভিড়। সিলিন্ডারের গ্যাসে রান্না হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যে সেই খাবার ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভাত আছে তো তরকারি নেই, এভাবেই সারাদিন চলেছে। তিনি বলেন, অনেক কাস্টমার ফেরত যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের কিছুই করার নেই।
শ্যামলী তেহারী ঘর হোটেলের সামনে খাবার নেওয়া জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকালের দিকে হোটেল থেকে পরিবারের সবার জন্য রুটি কিনে নিয়েছি। সারাদিন যে গ্যাস থাকবে না সে বিষয়ে আগে থেকে জানতান না। গ্যাস না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, গ্যাস যে থাকবে না সেটি মাইকিং করে জানানো হয়নি। আগে জানতে পারলে সেই হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তিনি বলেন, সব হোটেলে ভিড়। কোথায় খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই কিছু করার নেই, বাধ্য হয়ে এ হোটেলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।
কল্যাণপুরের একটি বস্তিতে বসবাস করেন মোতালেব মিয়া। পেশায় রিকশাচালক। ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে বস্তিতে থাকেন। গ্যাসের সংকট বিষয়ে তিনি জানান, সাকালে গ্যাস থাকবে না শুনে ছেলে মেয়েদের দুপুরের খাবার কেনার টাকা দিয়ে এসেছেন। তিনি নিজে দুপুরে রাস্তার যেকোনো হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে নিবেন।
এদিকে গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য আশুলিয়া ও আমিনবাজার সিজিএস প্ল্যান্ট থেকে তিতাস সিস্টেমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর ফলে আশুলিয়া, সাভার, আমিনবাজার, গাবতলী, মিরপুর, পাইকপাড়া, পীরেরবাগ, কল্যাণপুর, শ্যামলী, রিংরোড, মনসুরাবাদ, কাদিরাবাদ, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি, আজিমপুর, হাজারীবাগ ও এসব এলাকা সংলগ্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হতে পারে। কোথাও কোথাও গ্যাসের চাপ খুব কমও থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে তিতাস গ্যাস। বর্তমানে কোম্পানিটি ১৩ হাজার ৭৪ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী এর গ্রাহক সংখ্যা ২৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৪।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গ্যাস সরবরাহ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ