Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫, ১৮ রজব ১৪৪০ হিজরী।

রামগতিতে প্রভাবশালীদের দখলে জারিরদোনা খাল

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) উপজেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

লক্ষ্মীপুর রামগতিতে জারিরদোনা খাল অবৈধ দোকানঘর ও ভবন উত্তোলণ করে দখল করে ফেলেছে বাজারের প্রভাবশালীরা। এতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পানিবদ্ধতায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানিবদ্ধতার শিকার খালটি পুনঃরুদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনের কোন প্রচেষ্টা না থাকায় বাজার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চাপাক্ষোভ বিরাজ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকদের স্বার্থে কোন কাজ না করায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি হাজিরহাট ও চরফলকন ইউনিনের সীমানা নির্ধারণকারী খাল হিসেবে পরিচিত। মেঘনা নদীর সাথে সরাসরি সংযোগ থাকায় বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি চলাচল করতো এ খাল দিয়ে। দীর্ঘদিন থেকে হাজিরহাট বাজারের কিছু আসাধু ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা পরিকল্পিতভাবে ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের দুই পাড় দখল করে দোকানঘর ও ভবন নির্মাণ করে। ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। পানির প্রবাহ বন্ধ হওয়ার কারনে প্রতিবছর দুই ইউনিয়নের সাধারণ কৃষকদের সয়াবিন, আউশ ধান, আমনের বীজতলাসহ সকল ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনকে জারিরদোনা খাল দখল মুক্ত করার জন্য অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি। উপরন্তু খালের উপর নির্মিত দোকান থেকে আয়ের বিরাট অংশ দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্তাব্যক্তিরা ভাগ পান বলে অনেকে জানান। উপজেলা প্রশাসনের কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ২০১৭-১৮অর্থবছরের এডিবির বরাদ্ধ থেকে খাল সংস্কারের জন্য উপজেলা পরিষদ ৫লাখ টাকা একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বরাদ্ধ দেয়। ওই বরাদ্ধ থেকে স্থানীয় চরফলকন ইউপি চেয়ারম্যান হাজী হারুনের তদারকিতে খাল সংস্কারের চেষ্টা করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাল সংস্কারের বরাদ্দের বিপরীতে কাজ না করে টাকা হরিলুট করছেন বলে বাজার ব্যবসায়ীরা জানান। যেকোন সময় ওই জায়গাটুকুও দখল হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের। হাজিরহাট ইউনিয়নের কৃষক হোসেন আহাম্মদ, নোমান হোসেন, সামছুল আলম, মো. রফিক উল্যাহ, আলী হায়দর, মো. সিরাজ, মো. বাহার, মো, ফারুক ও আবু কালাম জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তাদের সয়াবিন, আউশ, আমন ধানসহ সকল ধরনের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবছরই তারা ধার দেনা করে ফসল ফলান। পানিবদ্ধতার করণে ফসল নষ্ট হওয়া প্রতিবছরই তাদের ধারদেনা বাড়ছে। সরকার এ খাল দখল মুক্ত করে পানির প্রবাহ সচল না করলে কৃষিকাজ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন উপায় থাকবেনা বলে জানান তারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খোরশেদ আলম জানান, জারিরদোনা খাল দখল উচ্ছেদের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবর বহুবার আবেদন করে কোন কাজ হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৬সালে অতিবৃষ্টির কারণে পানিবদ্ধতায় এ এলাকার প্রায় এক কোটি টাকার সয়াবিন নষ্ট হয়। তখন আ.লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ফরিদুন নাহার লাইলী এমপি তিনি কৃষি মন্ত্রনালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে আসেন। ওই দিন তিনি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে মতবিনিময় করেন। ওই সময় এ খাল পুনরুদ্ধারের কথা আসলে সচিব বরাবর আবেদন দিতে বলেন তিনি। তাৎক্ষনিক আবেদন দেওয়া হলে কৃষি মন্ত্রনালয়ের সচিব দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: রকিবুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলা আমি নতুন যোগদান করেছি। যার কারণে বিষয়টি আমি অবগত নয়। আমি খোজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলে অবগত করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন জানান, খালদখলের বিষয়টি কিছুটা অবগত। এব্যাপারে অচিরেই পরিদর্শন শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ