Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০৬ কার্তিক ১৪২৬, ২২ সফর ১৪৪১ হিজরী

মুক্তাগাছা খাদ্য কর্মকর্তার চাউল আত্মসাৎ

দুর্নীতির বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ মিলারের!

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৬:১৯ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্নেলিউস চিসিমের বিরুদ্ধে ২২২ মে:টন চাউল সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় মের্সাস রাহাত অটো রাইস মিলের কর্নধার মো: আব্দুস সাত্তার। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন বিষয়টি ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু ও জেলা প্রশাসক ড.সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস অবগত থাকার পরও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারী মের্সাস রাহাত অটো রাইস মিলের কর্নধার মো: আব্দুস সাত্তার ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলমের কাছে দায়ের করা লিখিত আবেদনে এমন দাবি করেন।
ওই অভিযোগে মো: আব্দুস সাত্তার জানান, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে মের্সাস রাহাত অটো রাইস মিল-১ ও ২ এর অনুকূলে ৪১৭.৯৯০ মে:টন চাউল বরাদ্ধ হয়। এরপর ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর ২৬৫.২৯০ মে:টন চাউল সরবরাহ করেন তিনি। কিন্তু ওই কর্মকর্তা বিল না দিয়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপন করে সাত কিস্তিতে ২৬৪.২৯০ মে:টনের বিল পরিশোধ করেন। আব্দুস সাত্তার আরো জানান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্নেলিউস চিসিম সরকারী এ খাদ্য গুদাম থেকে ২২২ মে:টন চাউল আত্মস্বাত করে বিভিন্ন মিলারদের কাছ থেকে চাউল এনে গুদামের মজুদ ঠিক রাখেন। কিন্তু ওইসব মিলারদের বিল পরিশোধ না করায় চাপের মুখে কয়েকটি চেক দিয়ে তিনশত টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে গত ৫ ফেব্রুয়ারী বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এখনো ওই মিলারদের বিল পরিশোধ করেননি ওই কর্মকর্তা। ফলে বিল আত্মস্বাতের ভয়ে আমি বরাদ্ধের বকেয়া চাউল সরবরাহ করতে পারছি না। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু ও জেলা প্রশাসক ড.সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস অবগত থাকার পরও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আমি সহ অনেকে মিলার চাউল সরবরাহে ভয় পাচ্ছি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই মিলারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরাদ্ধ সরবরাহের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি চাইলে বর্তমান কর্মকর্তার মাধ্যমে অথবা নতুন কর্মকর্তা যোগদান করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্ধকৃত চাউল গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন। তবে গুদামে মজুদ ঠিক থাকায় এবং ওই কর্মকর্তার দূর্নীতির সুনির্দ্দিষ্ট কোন লিখিত অভিযোগ না থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সুযোগ নেই’ বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: জাহাঙ্গীর আলম।
এবিষয়ে জানতে ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনের সংসদ সদস্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য জানাযায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আত্মসাৎ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ