Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

ভারতজুড়ে কাশ্মীরিদের ওপর হামলা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৬:৫০ পিএম

জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় বৃহস্পতিবার এক সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৪৪ জন সিআরপিএফ সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনায় এখন হুমকির নিশানায় কাশ্মীরিরা। সারা ভারত জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় কাশ্মীরিরা হামলার মুখে পড়ছে। ইতিমধ্যে হামলায় ৩৭ জন আহত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কাশ্মীরি শিক্ষার্থীরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ কাশ্মীরি মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির কাছে ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার কারণে ছাত্রদের এবং জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যান্য বাসিন্দাদের হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এজন্য ভারতের সব রাজ্যে একটি নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হেল্পলাইন চালু করেছে। যে ছাত্ররা বাড়ি ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁদের সাহায্য করছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনগুলিও।

খবরে বলা হয়েছে, ভারতের দেহরাদুনে স্থানীয় কিছু বাড়িতে ভাড়া থাকেন কিছু কাশ্মীরি শিক্ষার্থী। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের বাড়িওয়ালাদের ভাড়া তুলে দিতে বলা হয়েছে। একই রকম ঘটনার খবর আসছে হরিয়ানা ও বিহার থেকেও।

পাটনায়, কাশ্মীরের একজন ব্যবসায়ী বশির আহমেদ বার্তা সংস্থা এনডিটিভিকে বলেন, আমার দোকানের বাইরে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোটা হাতে জড়ো হন। তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন। তখন আমি পুলওয়ামার আক্রমণ সম্পর্কে জানতামও না। কিন্তু ওরা আমার দোকানের জিনিস ধ্বংস করে দেয়, আমাকে, আমার কর্মচারীদের মারধোর করে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি গত ৩৫ বছর ধরে পাটনাতে কাজ করছি এবং কখনোই কোনও সমস্যা বা বৈষম্যের মুখোমুখি হইনি। প্রতি বছর ৬ মাস আমি এখানেই থাকি, এবং কাশ্মীরের চেয়েও পটনা বেশি ভালো লাগে। আমার রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ নেই। আমি কাজেই এত ব্যস্ত থাকি যে খবর শোনার সময়ও হয় না।’

অন্যদিকে, জম্মুতে, কয়েক ডজন গাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে। তৃতীয় দিনে পড়ল এই শহরের কারফিউ পরিস্থিতি।

বৃহস্পতিবার জম্মু-শ্রীনগর মহাসড়কে জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেএম) আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৪৪ জন সিআরপিএফ সৈন্য মারা যান, যাকে কেন্দ্র করেই ভারতব্যাপী জনগণের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া পুলওয়ামায় হামলার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলওয়ামার হামলা ঘিরে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের জম্মু ও কাশ্মীর অংশের মধ্যেও বিভেদ দেখা গেছে এবং জম্মুতে জনতার হামলায় অন্তত ৩৭ জন কাশ্মীরি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

কাশ্মীরিদের ওপর হামলা ঠেকাতে জম্মুতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। অপরদিকে কাশ্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রবিবার শ্রীনগরসহ কাশ্মীর উপত্যাকায় হরতালের ডাক দিয়েছে স্থানীয়রা।

এর আগে জম্মুতে পুলওয়ামা ঘটনা নিয়ে ক্ষুব্ধ লোকজন কারফিউয়ের মধ্যেই অনেকগুলো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবারের ওই হামলার পর থেকে গত তিন দিন ধরে জম্মু শহরে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

জম্মুর তাবি এলাকায় কাশ্মীরিদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে উত্তেজিত জনতার হামলা চলাকালে পুলিশ অন্যদিকে তাকিয়ে ছিল বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কাশ্মীরিরা।

অপরদিকে জম্মু ও ভারতের অন্যান্য অংশে কাশ্মীরিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও তাদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবিতে মিছিল করেছে শ্রীনগরের হরতালকারীরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন