Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশের সময় : ১৫ মে, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বান্দরবান থেকে স্টাফ রিপোর্টার : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীতে নিজ ধ্যান ঘরে এক বৌদ্ধ ভান্তকে (বৌদ্ধ ভিক্ষু) ঘাড় কেটে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের উপর চাকপাড়া এলাকায়। গতকাল শনিবার সকালে বিহারে তার ঘাড়কাটা লাশ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খুন হওয়া ভান্তে ওপর চাকপাড়া এলাকার মৃত অংথোয়াই চাকের পুত্র মংশৈউ চাক (৭৫)। এলাকাবাসী জানান, ভান্তেকে ঘাড়ে দায়ের কোপে খুন করা হয়েছে। পুত্র অংছাথোয়াই চাক বলেন, ভোর ৫টায় পিতাকে পুত্রবধূ মানুংচিং চাক ভাত দিতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় খবর দেয় এবং পরে তারা প্রশাসনকে খবর দিলে তাৎক্ষণিক বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আনিসুর রহমান, সহকারী ইনচার্জ উমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করেন। এসআই আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে হয়ত কোনো দুর্বৃত্তের দল অথবা কোনো ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা এই ঘটনা ঘটাতে পারে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। চাকপাড়ার কারবারি অঞো থোয়াই বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে বাইশারি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছিল। বৃষ্টির পরে সম্ভবত ভিক্ষুকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে হত্যাকারীদের পায়ের চিহ্ন রয়েছে। বিহারের সব জিনিসপত্র সাজানো-গোছানো অবস্থায় রয়েছে। উক্ত ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবির একটি টহল দল নায়েব সুবেদার খুরশেদ আলমের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু শাফায়েত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল বিহারের চারশত গজ দূরত্বে অবস্থিত নিজের ধ্যান ঘরের ভিতরেই মংশৈউ চাকের লাশ ঘাড়কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু বিহারের কোনো জিনিসপত্র এলোমেলো নেই এবং কোনো প্রকার টাকা-পয়সা বা মূর্তি লুটতরাজ হয়নি বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। এই রিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত পুলিশ ও বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থল ঘেরাও করে রেখেছ এবং স্থানীয় লোকজনদের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কাউকে এই পর্যন্ত আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দা মংবাচিং চাক ও অংছাগ্য চাক ছাড়াও এলাকাবাসীরা জানান, খুন হওয়া মংশৈউ চাক এলাকায় বাইট্যা মছু নামে ব্যাপক পরিচিতি ছিল। তিনি সহজ-সরলমনা হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে ভালবাসত। তবে তিনি একা থাকতে ভালবাসতেন। এলাকায় কারো সাথে তার শত্রুতা থাকতে পারে এটা কল্পনাও করা যায় না। তারা আরো জানান, মংশৈউ চাক বিগত ২/৩ বছর ধরে নিজের জায়গায় ধ্যান ঘর তৈরি করে সেখানে একা বসবাস করতেন।
রাঙ্গামাটিতে গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত
রাঙ্গামাটি জেলা সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা সদরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মকবুল চাকমা নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনার পর রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মকবুল চাকমা নানিয়ারচর উপজেলার সদর বাজার থেকে টিএন্ডটি এলাকার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাকে এক দুর্বৃত্ত পেছন দিক থেকে ৩ রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নানিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা গুরুতর হওয়াতে তাকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আহত মকুল চাকমা সম্প্রতি স্থানীয় আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এমএন লারমা গ্রুপে যোগদান করেন। প্রতিহিংসার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
নানিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ শাহ জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, কে বা কারা গুলি করলে মকবুল চাকমা নামের ঐ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে নানিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ