Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৫ চৈত্র ১৪২৫, ১১ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

জামালকে রুখে দিলো রাসেল

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

ঘরোয়া ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ সংস্করণে যেন চেনাই যাচ্ছেনা বর্তমান রানার্সআপ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। বিপিএলের তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা লিগে এখন পর্যন্ত ধুঁকে ধুঁকেই এগিয়ে চলেছে। বলা যায় জামালের চেয়ে এবার অনেকটাই উজ্জ্বল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে দলটি। বিপিএলে নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে শেখ জামালকে রুখে দিয়ে পয়েন্ট টেবিলে তিনেই রইলো শেখ রাসেল। গতকাল বিকেলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রাসেল-জামাল ম্যাচটি গোলশূণ্য অমিমাংসিতভাবে শেষ হয়। এই ড্র’তে ছয় ম্যাচে চার জয় ও দুই ড্র’য়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয়স্থানে রাসেল। এক ম্যাচ বেশী খেলে তিন জয় এবং দু’টি করে ড্র ও হারে ১১ পয়েন্ট পেয়ে পঞ্চমস্থানেই থাকলো শেখ জামাল।
২০১০-১১ মৌসুমে বিপিএলে খেলতে এসেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে চমক দেখায় শেখ জামাল। পরের আসরগুলোতেই তাদের চমকের শেষ ছিলনা। স্থানীয় ও বিদেশী তারকা ফুটবলারের পাশাপাশি ভালো মানের বিদেশী কোচ নিয়োগ দিয়ে ২০১৩-১৪ ও ২০১৫ মৌসুমেও লিগ শিরোপা ঘরে তোলে শেখ জামাল। কিন্তু গেল দু’আসরে অনেক চেষ্টার পরও দলটি লিগ শিরোপার দেখা পায়নি। এবারের আসরেও সেরা হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাদের। এমনটা বলা যেতেই পারে। অন্তত তাদের খেলাতে সেটাই প্রমাণ করে। কাল শেখ রাসেলের বিপক্ষে প্রানপণ চেষ্টা করেও ম্যাচ জিততে পারেনি জামাল। যদিও ম্যাচের শুরুতেই তাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
সাত মিনিটে শেখ জামালের কিরগিজস্তানের ফরোয়ার্ড ডেভিড ব্রæস মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো এমানুয়েলকে। লুসিয়ানো বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ফাকা পোস্ট পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে শট নেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য তার। সেই বল গোলবারে লেগে ফিরে আসে। দুর্ভাগ্য ছিল শেখ রাসেলেরও। ৩৩ মিনিটে রাসেলের উজবেকিস্তানী ফরোয়ার্ড আজিজভ আলিশেরের বক্সের বাইরে থেকে নেয়া জোরালো শট সরাসরি জামালের গোলরক্ষক নাঈমের গ্লাভসে জমা পড়ে।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ নষ্ট হয় ২০১২-১৩ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন শেখ রাসেলের। এসময় তাদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড আলেক্স রাফায়েল দা সিলভার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও হতাশ হতে হয় জামালকে। বক্সের ভেতরে ফাঁকায় থাকা জামালের গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সলোমন কিংসয়ের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে যায়। ফলে টানা তিন জয়ের পর ফের ড্র করে পয়েন্ট খোঁয়াতে হলো শেখ জামালকে। আর দ্বিতীয় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় রাসেলকে।
একই ভেন্যুতে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবকে। বিজয়ী দলের হাইতির ফরোয়ার্ড কারভেন্স বেলফোর্ট দু’টি এবং নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে সিজোবা একটি গোল করেন। অপরটি আত্মঘাতি গোল পায় আবাহনী। ম্যাচের ১১ মিনিটে আবাহনীর একটি আক্রমণ ফেরাতে গিয়ে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার উত্তম রায় নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন। শুরুতে আত্মঘাতি গোলে পিছিয়ে পড়া ব্রাদার্স শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের। এই জয়ে ছয় ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট পেয়ে বসুন্ধরা কিংসকে পেছনে ফেলে তালিকার শীর্ষে উঠে আসলো আবাহনী। দু’ম্যাচ কম খেলা বসুন্ধরা ১৫ পয়েন্ট নিয়ে রইল দ্বিতীয়স্থানে। ছয় ম্যাচে মাত্র ৩ পয়েন্ট পেয়ে ব্রাদার্স নেমে গেল দশম স্থানে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন