Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

এবার ভারতজুড়ে আক্রান্ত কাশ্মীরের লোকজন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০৩ এএম

পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর ভারতজুড়ে কাশ্মীরিদের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা হামলার শিকার হয়েছেন। বাড়ি থেকেও বের করে দেয়া হয়েছে। তবে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
হামলার বিরুদ্ধে কাশ্মীরে হরতাল পালিত হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের অধিবাসীদের কাছ থেকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উত্তরখন্ডের দেরাদুনে স্থানীয় বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকেন বেশ কিছু কাশ্মীরি ছাত্র। এ হামলার পর বাড়িওয়ালা তাদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন। বিহার ও হরিয়ানা থেকেও একই ধরনের হয়রানির খবর পাওয়া গেছে।
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় বিহার রাজ্যের পাটনা শহরে হামলার শিকার হয়েছে কাশ্মিরের অন্তত ৪০ ব্যবসায়ী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী পাটনার কাশ্মিরি বাজার মার্গে ব্যবসায়ীদের ওপর লাঠি ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালায়। হামলার পর শনিবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এসব ব্যবসায়ীরা পাটনা ত্যাগ করে কাশ্মিরে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবারের হামলায় আহত হন কাশ্মিরের অন্তত ৪ ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে মিরাজ আহমেদ নামে একজনের অবস্থা গুরুতর। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত। হামলার পর ওই মার্কেটের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
হামলার পর বশির আহমেদ ওয়ানি নামে এক ব্যবসায়ী শনিবার জানান, তারা কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার বাসিন্দা। গত ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার এ ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হলেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শুক্রবারের হামলার পর দোকানদাররা এখন ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে আর তারা ব্যবসা করতে চায় না। ওয়ানি জানান, কমপক্ষে ৩০টি মোটরসাইকেলে আসা তরুণেরা মার্কেটে ঢুকে পড়ে হামলা চালানো শুরু করে। হামলাকারীরা আমাদের মারধোর করে দ্রুত এই এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেয়। হামলাকারীরা তাদের দোকান ভাঙচুর করে বলেও জানান তিনি।
ওয়ানি বলেন, সাধারণত কাশ্মিরের ব্যবসায়ীরা মার্চ পর্যন্ত এখানে বাণিজ্য করে তবে এবার তারা তাড়াতাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পাটনার পুলিশ সুপার ডি অমরকেশ বলেছেন, শুক্রবারের ঘটনায় কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করের মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
হামলার পর জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ ঘটনার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, তাদের হয়ে পুলওয়ামারই বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার ওই হামলা চালিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স আদিলের বাবা গুলাম হোসেনকে উদ্ধৃত করে জানায়, হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যু-পরবর্তী বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পাথর ছোড়ার অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে মার খেয়েছিল আদিল আহমেদ দার। তারপরই সেনাবাহিনীর প্রতি বিতৃষ্ণা জন্মায়। ‘আজ জওয়ানদের ঘরে যে যন্ত্রণা, আমার ঘরেও আমরা সেই একই যন্ত্রণা ভোগ করছি।’ বলেছেন আত্মঘাতী আদিলের বাবা গুলাম হোসেন দার।
উল্লেখ্য, সুবিখ্যাত ভারতীয় লেখক ও মানবাধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায় কাশ্মিরকে কখনও ভারতের অংশ মনে করেন না। তার মতে, কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনী আগ্রাসন চালায়। ২০১৭ সালে তিনি শ্রীনগরে গিয়ে বলেন, ‘কাশ্মিরে সাত লাখ থেকে ৭০ লাখ সেনাবাহিনী মোতায়েন করলেও ভারতের উদ্দেশ্য সফল হবে না। কাশ্মিরের জনগণ বহু বছর ধরেই ভারতবিরোধী অনুভূতির মধ্যে রয়েছে।’ ২০১৩ সালে কাশ্মিরের সেনা-সংখ্যা দুই লাখ কম ছিল। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ানে অরুন্ধতী লিখেছিলেন, ‘আফজাল গুরুর ফাঁসি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্ক’ শীর্ষক নিবন্ধে অরুন্ধতী তাই বলছেন, ‘আফজাল গুরুর সত্যিকার কাহিনী ও ট্র্যাজেডি শুধু আদালতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে কাশ্মির উপত্যকার ঘটনা জানতে হবে। এটি একটি পরমাণু যুদ্ধক্ষেত্র এবং পৃথিবীর সবচেয়ে সামরিকীকরণকৃত এলাকা। এখানে রয়েছে ভারতের পাঁচ লাখ সৈনিক। প্রতি চারজন বেসামরিক নাগরিকের বিপরীতে একজন সৈন্য! আবু গারিবের আদলে এখানকার আর্মি ক্যাম্প ও টর্চার কেন্দ্রগুলোই কাশ্মিরিদের জন্য ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিতে সংগ্রামরত কাশ্মিরিদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার মুক্তিকামীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১০ হাজারকে গুম করা হয়েছে। নির্যাতিত হয়েছে আরও অন্তত এক লাখ লোক।’

কারফিউ সত্তে¡ও জম্মুতে কয়েক ডজন গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আক্রান্তরা বলেন, জম্মুর তাওয়াই অঞ্চলে সংঘবদ্ধ লোকজন যখন সম্পদ ধ্বংস ও কাশ্মীরিদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল পুলিশ তখন অন্যদিকে তাকিয়ে থেকেছে।
সেখানকার সিভিল সেক্রেটারিয়েটে কর্মরত এক কর্মী বলেন, জনিপুরে নিজেদের আবাসিক এলাকায় তারা হামলার শিকার হয়েছেন। এতে কয়েক ডজন গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সূত্র : এনডিটিভি, রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

Show all comments
  • Mazharul Islam ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    ভারত একটা অসভ্য যাযাবরের রাষ্ট্র ।
    Total Reply(0) Reply
  • Mahela Begum ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
    কাশ্মির হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিলিটারাইজড জোন। যেখানে প্রতি কিলোমিটারে রয়েছে সামরিক চেকপোস্ট। তাহলে কিভাবে একজন ৩৫০ কেজি ওজনের বোমা নিয়ে ২৫০ সৈন্যের বহরে হামলা করে? আসলে এটা হচ্ছে দাঙ্গাবাজ মুদির চাল। এই দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাশীটা ২০০২ সালে গোধরায় এক ট্রেনে নিজে থেকে আগুন লাগিয়ে সাড়া গুজরাটে দাঙ্গা বাধিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি মুসলমান হত্যা করেছিল। তারই বদৌলতে সে আজ দাঙ্গা প্রিয় দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে নানাবিধ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর পদে অযোগ্য এই দাঙ্গাবাজটার অবস্থান খুব নড়বড়ে। সেটা পাকাপোক্ত করার জন্যই এই পরিকল্পিত হামলা। বাকি কাজটা ভারতের গো-সন্তান সাংবাদিকরা করে দিচ্ছে। মুহুমুহু ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের দোষারোপ করে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে খবর পরিবেশন করে পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে ভারতীয় বাহিনী ও স্থানীয় হিন্দুরা উক্ত হামলার জেড়ে নিরিহ কাশ্মিরিদের নির্যাতন ও তাদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই হয়তো ভারত জুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়ে গেছে। হলেও বরাবরের মতোই ধামাচাপা দেয়া হবে। আর যেখানে ধামাচাপা দেয়া যাবে না সেক্ষেত্রে মুসলমানদেরকেই দায়ী করা হবে। খুব অচিরেই কাশ্মিরের কিছু মুসলমানকে হত্যা করে জঙ্গি তকমা দেয়া হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
    Total Reply(0) Reply
  • নিস্তব্ধ বালক ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
    কাশমীরের বিরুদ্ধে যেহেতু ভারতবাসীর এতই ক্ষোভ তাহলে তারা কাশ্মীরকে ছেড়ে দিচ্ছে না কেন?
    Total Reply(0) Reply
  • Sayed Abubakar Siddik ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০২ এএম says : 0
    বাংলাদেশী মুসলিমরা, পাকিস্তানী মুসলিম ভাইদের পক্ষে কথা বললে এদেশের হিন্দু দাদাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে 71 সালে ও 52 এর ভাষা আন্দোলনে একটা হিন্দুরও কোনো অবদান নাই। । ওরা আজকে আসে আমাদের ভ্রাতৃত্ববোধের (বাংলাদেশ-পাকিস্তান) মধ্যে 71 এর গপ্প মারতে, অথচ ওরাই (হিন্দুরাই) 71 সালে এদেশে যুদ্ধ না করে ভারতে পলায়ন করেছিল।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammad Bin Ibrahim ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
    কাশ্মীর আলাদা হয়ে যাক।ভূস্বর্গ কাশ্মীর ভারত-পাকিস্তান-চীন সব দেশ থেকে আলাদা করে নতুন দেশ বানানো উচিত।
    Total Reply(0) Reply
  • Edris Ali ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০৩ এএম says : 0
    ভারত কে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এক ঘরে করার দাবি জানাচ্ছি.আল্লাহু আকবর বলে কাশ্মীরীরা নেমে পড়ুক। আল্লাহ কাশমীরকে মুক্তি দিন.
    Total Reply(0) Reply
  • Hasan Mohammad Akram ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
    আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এই হামলা টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য করা হয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • M.D. Nurul Huda Manik ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
    প্রতিশোধের আগুন ভয়াবহ! . ছোট্ট আদিল, মায়াবী শান্তশিষ্ট ভদ্র এক ছেলে ছিলো। একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদিন তাকে ঘিরে ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তারপর প্রচণ্ড মারধর করে তার নাক মাটিতে দিয়ে সেনাবাহিনীর জিপের চারপাশে ঘোরানো হয়। তিন বছর আগের সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই জঙ্গি সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদে যোগ দেন আদিল আহমেদ দার। এরপর ভয়াবহ প্রতিশোধ নেয় আদিল। একাই একশ ভারতীয় জোয়ানদদের সাথে যুদ্ধ করে। / বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে কাশ্মীরের সেই হামলাকারীকে নিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
    Total Reply(0) Reply
  • Gm Assaduzzaman ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
    যে দেশে ফ্রীজে গো মাংস না খাসির মাংস তা নিয়ে তল্লাশি হয়, সেখানে ৩৫০ কেজির বিস্ফোরক বোঝায় গাড়ি চলে এল কোন তল্লাশি হল না!
    Total Reply(0) Reply
  • Md Mofiqul Islam ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০০ এএম says : 0
    এই হলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের চরমতম প্রতিশোধ!
    Total Reply(0) Reply
  • Khan Sharif ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
    যদি কেউ মাছ সিকার করতে যেয়ে মাছ না পাই আর তার জন্য সে যদি তার বরশির সিপের দোষ দেই তাহলে কি সেটা কনো ভাল মানুষের কাজ হবে নিশ্চয় না। তেমনি জঙ্গি হামলার সাথে কাশমিরের সাধারন মুসলিমদের কনো হাত নাই। আর তার জন্য যদি সাধারন মুসলিমদের উপরে অত্যাচার করা হয় সেটা ও কনো ভাল মানুষের কাজ হতে পারে না। তাই আমি যেমন জঙ্গি হামলার নিন্দা করি ঠিক তেমনি কাশমিরি সাধারন মুসলিমদের উপর ভারতীয় রা যে অমানবিক অত্যাচার করতেছে আমি সেটার ও নিন্দা করি।
    Total Reply(0) Reply
  • Osman goni ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:৫২ এএম says : 0
    Bharot amon ak desh jara simante pakistaner hate mair khay ar niriho bangladesider pakhir moto guli kore mare ar rater bela gorur mut khay
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভারত


আরও
আরও পড়ুন