Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ০৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দল গোছাচ্ছে বিএনপি

ফারুক হোসাইন | প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়ের মুখোমুখী হয়েছে বিএনপি। ২৯৭টি আসনে এই দলের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে জয় পেয়েছে মাত্র ৭টি আসনে। নির্বাচনে ভূমিধ্বস পরাজয় দেখে স্তব্ধ দলটির নেতাকর্মীরা। যদিও ভোটের আগের রাতে ভোট চুরি এবং সিল মারার কারণে এই ধরণের পরাজয় দেখতে হয়েছে বলে মনে করেন তারা। কিন্তু এই ব্যর্থতার পেছনে সাংগঠনিক দূর্বলতাকেও এড়িয়ে যেতে চান না তারা। আর তাই নির্বাচনী বিপর্যয় ভুলে এবার দল গুছাতে মনোযোগ দিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জুনের মধ্যেই এসব কমিটি গঠনের কাজ শেষ হবে। এজন্য ভোটের পর থেকেই স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ, ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, কেন্দ্রীয় নেতারা পৃথক পৃথকভাবে সিরিজ বৈঠক করছেন। প্রতিটি বৈঠকে নেতাদের সাথে স্কাইপিতে লন্ডন থেকে যুক্ত হচ্ছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুনছেন নেতাদের পরামর্শ এবং তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মতামতও দিচ্ছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের পর দলের সিনিয়র নেতারা (স্থায়ী কমিটির সদস্য) বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারা একই পরামর্শ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেও দেন। কৃষক দলের একটি সভায় স্কাইপির মাধ্যমে তারেক রহমান যুক্ত হলে সেখানেও দলের নেতারা ছাত্রদলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন পূর্ণাঙ্গ ও ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন। এবিষয়ে তারেক রহমান ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে প্রক্রিয়া শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী মৎসজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে দুটি পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি। এই দুটি সংগঠন হলো জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের ড্যাব ও প্রকৌশলীদের অ্যাব। কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে তাঁতী দল ও কৃষক দলের। দু’এক দিনের মধ্যেই এই দুটি সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, নির্বাচনে পরাজয় এবং আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থ হওয়ার পেছনে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী না থাকাকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন দলটির নীতি নির্ধারণী নেতারা। বিশেষ করে যুগের পর যুগ একই নেতৃত্বের অধীনে সংগঠন পরিচালনা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি না হওয়াকেও দায়ি করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী জুনকে টার্গেট করে বিএনপিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় বিএনপি। একই সাথে নতুন নেতৃত্বও বের করে আনতে চায়। এজন্য প্রথমে প্রতিটি সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এসব কমিটিকে তিন মাসের সময় দেয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কাউন্সিল করে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। আবার আহ্বায়ক কমিটিতে যারা নেতৃত্বে থাকবেন তারা নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে আসতে পারবেন না। ফলে একদিকে যেমন সংগঠন গতিশীল হবে অন্যদিকে নতুন নতুন নেতাও বের হয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে শূন্য থাকা পদগুলো পূরণ করা হবে। পাশাপাশি বিএনপির জেলা-উপজেলা কমিটিগুলোতে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভোটাভোটিতে যোগ্য, ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া হবে। একই সময়ে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, শ্রমিক দলের মতো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও পুনর্গঠন করবে বিএনপি।
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি দেয়া হবে। ইতোমধ্যে মৎসজীবী দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য কমিটিগুলোও প্রক্রিয়াধীন। বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ভূমিকা রেখেছেন, ত্যাগী, পরীক্ষিত তাদেরকে দিয়েই কমিটি করাহবে।
বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের দায়িত্বে রয়েছেন এমন একজন নেতা জানান, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, মহিলা দল, কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), তাঁতী দল, ওলামা দল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দল এর কোনটিরই মেয়াদ নেই। কয়েকটি সংগঠনের কমিটির মেয়াদ ১ যুগের বেশি অতিক্রম হলেও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি। অনেকগুলো আংশিক কমিটি দিয়েই পুরো মেয়াদ পার করেছে। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি। রাজনৈতিক অনুকূল পরিবেশ না থাকার অজুহাতে বছরের পর বছর ধরে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল তবিয়তে রয়েছে। যে কারণে নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরি হয়নি।
এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, বছরের পর বছর সংগঠনগুলোর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ থাকায় থমকে রয়েছে সব কার্যক্রম। নেতৃত্ব সংকটের কারণে একদিকে যেমন আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশেও দাঁড়ানো যাচ্ছে না।
বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ছাত্রদলকে। সংগঠটির কিমিটির মেয়াদ আড়াই বছর আগে শেষ হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদ দেয়ায় অধিকাংশ নেতাই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিক দলের কমিটি হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে, দুই বছর আগে যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করতে বললেও মেয়াদ পূর্তি হয়ে গেছে কিন্তু এখনো আংশিক কমিটিই রয়ে গেছে। একই অবস্থা স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের। অন্যদিকে ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধা দল, ১৯৯৮ সালে কৃষক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি এসব সংগঠনের।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে দল পুনর্গঠন করতে হবে। হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হাজার হাজার নেতাকর্মীর পুনর্বাসন করতে হবে। প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করবেন। সর্বোপরি কাউন্সিলের মাধ্যমে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা যারা ব্যর্থ হয়েছি নতুনদের জন্য আমাদের সরে যেতে হবে। তৃণমূলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে।
পুনর্গঠন হবে জেলা-উপজেলা কমিটি: বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নেতৃত্ব পুনর্গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে তারেক রহমান। সম্প্রতি রংপুরে জেলা পর্যায়ের একটি সভায় স্কাইপিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। সেখানে জেলা ও উপজেলার কমিটিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে রংপুর বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন।
বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন করার কাজ চলছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সারাদেশের সকল কমিটিগুলোর খবর ࢰাখছেন। তিনি দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর যোগ্যাতা, ত্যাগ-অবদানকে বিবেচনায় নিয়ে এসব কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এখন দলকে পুনর্গঠন ও নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে অভয় দিতে হবে। তাদের মাঝে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের যাদের বয়স হয়েছে তারা সরে যাবো। কিন্তু এই দলটিকে তো রাখতে হবে। দুই তিন মাসের মধ্যে আবারো দল পুনর্গঠন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। #



 

Show all comments
  • Atif Adib ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৪ এএম says : 0
    Hossain mohammad ershad need to become a president again
    Total Reply(0) Reply
  • Md Jamal ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৫ এএম says : 0
    আওয়ামীলিগের কাম দেশের উন্নয়ন এবং ধর্ম পালন করা আর বি এন পির কাম দেশের উন্নয়নকে ধবংস করা আর সমআলোচনা করা।
    Total Reply(0) Reply
  • Mithu Feni ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    বিএনপি এখন পুরাপুরি বিলুুত।গোজাতে তেমন সময় লাগবেনা।
    Total Reply(0) Reply
  • Deepu Rahman ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    কখনো কি গোছানো ছিলো দলটা ?
    Total Reply(0) Reply
  • সহজ কথা ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    বি এন পির হারানোর কিছু নাই। তাই চাপ নাই।খালেদাজিয়া সন্তান হারিয়ে সর্বোচচ ত্যাগের নজীর স্হাপন করেছেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Showket Mahomud ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১:২৬ এএম says : 0
    বিএনপির নেতৃবৃন্দ তো এখন আওয়ামী লীগ এর বি টিম। সুতরাং নির্বাচন হলে দেখা যাবে তোমরা বাল ছেড়ে সব আঁটি বেঁধে ফেলেছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ