Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

পাক-সউদী বন্ধুত্বে ভারতে অস্বস্তি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৬:১৩ পিএম

পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্তরে একঘরে করতে উঠেপড়ে লেগেছে নয়াদিল্লি। কিন্তু কূটনৈতিক ভাবে একঘরে হওয়া দূরস্থান, পুলওয়ামা কাণ্ডের চার দিনের মধ্যে সউদী আরবের কাছ থেকে দু’হাজার কোটি ডলারের উপঢৌকন পেল ইসলামাবাদ। দিল্লির কাছে সবচেয়ে বড় অস্বস্তির বার্তাটি এল দিনের শেষে। পাকিস্তান ও সউদী আরবের যৌথ বিবৃতিতে। বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘের জঙ্গি তালিকায় নাম তোলা নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।’
ভারত যখন মাসুদ আজহারকে ওই তালিকায় আনতে চাইছে তখন এই ধরনের বিবৃতি খুবই অস্বস্তিকর নয়াদিল্লির কাছে। যৌথ বিবৃতিতে সন্ত্রাসবাদ দমনে পাক ভূমিকার ঢালাও প্রশংসা করে ও যৌথ সহযোগিতার কথা বলেও ভারতের রক্তচাপ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছেন সউদীর যুবরাজ। আর এই জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আসছেন সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমন।
প্রথম বার পাকিস্তানে গিয়ে যুবরাজ সলমন শুধু দু’হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ চুক্তিই করেননি, তিনি বলেছেন, ‘সউদী আরবে তিনিই পাকিস্তানের দূত।’ এর পরে যুবরাজের সংযোজন, পাকিস্তানের ডাকে তিনি ‘না’ বলতে পারেন না। কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বলেছেন, ‘যুবরাজের এই সব কথাই মন জয় করে নিয়েছে সকল পাকিস্তানির।’
জঙ্গি হানা ও প্রাণহানির জন্য পাকিস্তান দায়ী করে তাদেরকে একঘরে করতে ভারতের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রশংসা ও বিপুল বিনিয়োগ ঠেকানো পারেনি। এতে চাপে পড়েছে মোদি সরকার। কূটনীতিকরা বলছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সউদী আরবের সম্পর্কের ভিত বহু দিন আগে থেকেই মজবুত। পাকিস্তানে জঙ্গিদের অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও সউদী আরবের নাম উঠেছে অতীতে। তা ছাড়া, ওই বিপুল অঙ্কের লগ্নি চুক্তি অনেক আগে থেকেই ঠিক হয়ে ছিল। তবে এটা ঠিক, পুলওয়ামায় জইশ-ই-মহম্মদের হামলার পর সউদী-পাক সমীকরণে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, সউদী আরব বরাবর ভারতেরও মিত্র দেশের তালিকায়।
রীতি ভেঙে ইমরান নিজে গাড়ি চালিয়ে যুবরাজকে নিয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে, ২১টি গান স্যালুটে স্বাগত জানানো হয়েছে তাকে— সখ্যের এই সব মুহূর্ত ও বিভিন্ন চুক্তি সইয়ের কথা খবরের শিরোনামে আসার পর থেকেই এই প্রশ্নটা আরও বেশি করে উঠছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সউদী আরবের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর দেখা করেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মামুদ কুরেশির সঙ্গে। ওঠে পুলওয়ামা প্রসঙ্গ। কুরেশি তাকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান। যুবরাজ সালমনের ভারত সফরের আগে এই মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য (ভারত ও পাকিস্তান) দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো। আমরা চাই মতানৈক্য দূর করার কোনও শান্তিপূর্ণ পথ।’ তার মতে, ‘দু’টি দেশই সন্ত্রাস-সহ একই ধরনের সমস্যায় রয়েছে। আমরা চাই, দু’দেশই বিরোধ দূরে ঠেলে সমাধানের পথে হাঁটুক।’
সউদী যুবরাজ সে দেশের জেলে থাকা ২০১৭ জন পাক বন্দিকে মুক্তি দেবেন বলে জানিয়েছেন। আশ্বাস দিয়েছেন, তার দেশে কর্মরত ২৫ লক্ষ পাক শ্রমিকের অবস্থার উন্নতির বিষয়টি দেখবেন। সূত্র: ইন্টারনেট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ