Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৭ চৈত্র ১৪২৫, ১৩ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

১৪ দলের শরিকদের সমালোচনা ইতিবাচক

সড়কের নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন আছে : ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:০২ এএম

সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় সেতুমন্ত্রী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে নবনির্মিত সড়ক ভবনে দ্রুত সময়ে অধিদফতরের দাফতরিক কাজ শুরুর নির্দেশ দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু কিছু সড়ক নির্মাণের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। সড়ক নির্মাণে গুণগতমান সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রকল্প দলিল অনুযায়ী যথাযথ মান ও গুণের উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে এ মুহূর্তে বেহাল সড়কের সংখ্যা অনেক কমে এলেও কিছু জেলা সড়কে সমস্যা আছে। এসব সড়ক বর্ষার আগেই যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে। প্রয়োজনে রাতেও কাজ করতে হবে।
আগামী মার্চ মাসের প্রথমার্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের ঘরেফেরা স্বস্তিদায়ক করতে ঈদ-উল-ফিতরের আগেই দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ঈদের আগেই চালু হতে যাচ্ছে এ মহাসড়কে নবনির্মিত কোনাবাড়ি, চন্দ্রা ফ্লাইওভারসহ দুটি রেলওয়ে ওভারপাস এবং চারটি আন্ডারপাস।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ দুটি মহাসড়কের দুপাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেন নির্মাণ করা হবে। কক্সবাজারে পর্যটকদের বিনোদন সুবিধা বাড়ানো জরুরি মন্তব্য করে তিনি সড়কপাশে আলোকসজ্জাসহ মেরিন ড্রাইভের কলাতলী প্রান্তে ক্ষতিগ্রস্থ দুই কিলোমিটার সড়ক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন।
স¤প্রতি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) পাস হওয়া কক্সবাজারের লিংক রোড থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করার উদ্যোগ নিতেও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন নিয়ে মামলা করতে করতেই ঐক্যফ্রন্ট পঙ্গু হয়ে যাবে। গণশুনানির জন্য সরকার কোনো জায়গা দিচ্ছে না ঐক্যফ্রন্টের এমন অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো আছে। গণশুনানি কাকে বলে, গণশুনানি না গণতামাশা। গণতামাশার জন্য অনুমতি চাইলে পুলিশ কমিশনারকে বলবো।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল শরিকদের সমালোচনাকে কিভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৪ দলের শরিকরদের সমালোচনার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তারা আজ মুখ খুলেছেন, সমালোচনা করছেন। সরকারের ভালভাবে চলার জন্য এই সমালোচনাটা দরকার। এ সমালোচনা গণতন্ত্র ও সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য ভালো, ইতিবাচক। সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো হতে পারে। এতে গণতন্ত্রের চর্চা কনস্ট্রাকটিভ অপোজিশনের মাধ্যমে আরো গতিশীল হতে পারে। তিনি বলেন, ১৪ দল ভাঙা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। মান-অভিমান আছে। এটা থাকবে, আবার থাকবেও না। এটা কেটেও যাবে। আর কী নিয়ে মান অভিমান, তা আপনারাও (গণমাধ্যমকর্মীরা) ভালো জানেন। তবে আশা করি খুব শিগগিরই এ অভিমান কেটে যাবে। বিএনপির উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব তৃণমূল মানে না। বিএনপি দল থেকে মনোনয়ন না দিলেও প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে তাদের ২৩ জন প্রার্থী ভোট করছেন। দ্বিতীয় দফায়ও আরও ৩৭ জন ভোট করবেন।
মতবিনিময় সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, ট্রানজিট প্রকল্পের পরিচালক সানাউল হক, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-১-এর পরিচালক মো. ইসহাক এবং প্রকল্প-২-এর পরিচালক শাহরিয়ার আলম, ক্রস বর্ডার প্রকল্পের পরিচালক মো. আতিক, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক মঈনুল ইসলামসহ ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী সড়ক জোন, সার্কেল এবং ডিভিশনের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ওবায়দুল কাদের


আরও
আরও পড়ুন