Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ১৭ জুলাই ২০১৯, ০২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

দেশে ডাল উৎপাদন চাহিদার অর্ধেকেরও কম

উচ্চ ফলনশীল বীজ ও উৎপাদন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে হস্তান্তর করলে উৎপাদন বেড়ে আমদানি নির্ভরতা কমবে

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৩:০৮ পিএম

দেশে প্রায় ২৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে চলতি রবি মৌসুমে সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে তার প্রায় ৩৫ ভাগই উৎপাদিত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে। খেসারী ও মুগ ডালের একটি বড় অংশই আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চল সহ উপকূলীয় চরাঞ্চলে। তবে এখনো দেশে ডালের চাহিদার বড় অংশই আমদানি নির্ভর। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ভারসাম্যেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ডাল জাতীয় ফসল আবাদ ও উৎপাদনে তেমন কোন নিবিড় কর্মসূচী নেই। 

অথচ এক্ষেত্রে যথাযথ মনযোগ প্রদান করলে ডালের উৎপাদন আরো অন্তত ৩০ ভাগ বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষিবিদগন। এক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বারি’ উদ্ভাবিত উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের আবাদ করার কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন কৃষিবিদগন। বারি’র বিজ্ঞানীগন এ পর্যন্ত মসুর ডালের ৭টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়া খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাই ডালের ৩টি, ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে বারি’র বিজ্ঞানীগন। বারি উদ্ভাবিত এসব উচ্চ ফলনশীল জাতের ডালের উৎপাদন হেক্টর প্রতি দেড় টন থেকে ২ টন পর্যন্ত। পাশাপাশি এসব ডালে আমিষের পরিমাণও ২০-৩০ভাগ। এছাড়া ‘বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিনা’ও বেশ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজ উদ্ভাবন করেছে।
গোশতের পরেই ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশী বলে তা আমাদের দেশের দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানবগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরণে একটি সস্তা উৎস বলেও মনে করছেন কৃষি বিজ্ঞানীগন। ডাল থেকে যে পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়, তা ডিম, দুধ বা গোশতের মাধ্যমে অর্জন করতে প্রায় তিনগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এসব কারনে ডালকে ‘গরীবের গোশত’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
কিন্তু এখনো আমাদের দেশে ‘বারি’ ও ‘বিনা’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল এবং অধিক প্রোটিন সমৃদ্ধ ডালের বীজ মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে যেমনি পৌঁছছে না, তেমনি এসব ডাল-এর আবাদ প্রযুক্তিও মাঠ পর্যায়ে হস্তান্তরের উদ্যোগ খুব সীমিত। বারি গবেষণার মাধ্যমে দেশের আবহাওয়া উপযোগী উচ্চ ফলনশীল ও কৃষকবান্ধব কৃষি পণ্য উদ্ভাবন করে তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র কাছে হস্তান্তর করে থাকে। ডিএই তার মাঠ পর্যায়ের ব্লক সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে এসব উফশী জাত-এর আবাদ ও উৎপাদন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা। এমনকি এলক্ষ্যে বিভিন্ন ব্লকে প্রদর্শনী প্লট করেও কৃষকদের হাতে কলমে অভিজ্ঞতা বিনিময় করার কথা।
কিন্তু ডাল সহ অনেক ফসলের ক্ষেত্রেই তা এখনো কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছেনি। তবে ডিএই’র দায়িত্বশীল মহলের মতে, ‘দেশে ডালের উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর এ লক্ষ্যে ডিএই যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে’। মহলটির মতে, ‘গত এক দশকে দেশে ডালের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে। তা আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএই’র প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে’ বলে জানান কর্মকর্তাগন।
ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, তার মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে সাড়ে ৩ লাখ টন মসুর ডাল ও ২ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টরে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টন খেসারী ডাল উৎপাদনের কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। এর মধ্যে বারিশাল অঞ্চলেই প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার হেক্টরে ১ লাখ ৭০ হাজার টন খেসারী ডাল উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ করছেন কৃষকগণ। এছাড়া চলতি রবি মৌসুমে দেশে যে প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার হেক্টরে দু লাখ ৩৭ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদনের কর্মসূচী চলছে তার মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার হেক্টরে ২ লাখ ১৫ হাজার টন মুগ ডাল উৎপাদণের লক্ষ্য রয়েছে।
পাশাপাশি দেশের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টন মটর ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টরে ৮৭ হাজার টন মাষকলাই ডাল, ৫৬ হাজার হেক্টরে ৭৮ হাজার টন ফেলন ডাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারন করেছে কৃষি মন্ত্রনালয়। এর মধ্যে বরিশাল অঞ্চলেই ৩২ হাজার হেক্টরে প্রায় ৪৫ হাজার টন ফেলন ডাল উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়াও সারা দেশে মাত্র ৫শ’ হেক্টর জমিতে প্রায় ৬শ’ টন অড়হর ডাল উৎপাদনের কর্মসূচী বাস্তবায়ন চলছে। অথচ অত্যন্ত পুষ্টি সমৃদ্ধ এ ডালের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ