Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

কুমিল্লায় একুশের আলোচনায় বার বার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি

কুমিল্লা থেকে সাদিক মামুন | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৫:৩৩ পিএম

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলায় ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িটি সংরক্ষণ করে জাদুঘর করার আবারও দাবী উঠেছে একুশের আলোচনার বক্তাদের মুখ থেকে। নগর উদ্যানে তিননদী পরিষদের একুশ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালার প্রতিদিনের আলোচনায় এবং মঙ্গলবার রাতে টাউনহলের মুক্তমঞ্চে কুমিল্লা রিপোর্টার্স ইউনিটির একুশের আলোচনায় বক্তারা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি রক্ষার্থে ঝাউতলার বাড়িটি জাদুঘর করার দাবী তুলেন।
কুমিল্লা শহরের ঝাউতলা এলাকার পুলিশ সুপার কার্যালয়মুখি সড়কটি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নামেই নামকরণ করা হয়েছে। এ সড়ক ঘেষেই পশ্চিমপাশের প্রায় ১৫শতক পরিমান জায়গায় টিনসেডের ছয়কক্ষ বিশিষ্ট বাড়িটি ত্রিশ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ধীরেন্দ্রনাথ যে কক্ষে থাকতেন সেখানে তার ব্যবহৃত খাট, কাঁথা, বালিশ, খাওয়ার প্লেট, পানির গ্লাস এসব সবই রয়েছে। কিন্তু যতœ নেই। একাত্তরে শহীদ হওয়া বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বিশ্ববাসীর কাছে রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য প্রথম সোচ্চার প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেলেও বর্তমান প্রজন্ম ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ততোটা চেনে না বা তাঁর সম্পর্কে বিশদ কিছু জানে না। ফলে ক্ষণজন্মা ওই গুণী ব্যক্তিত্বের সীমানা থেকে যেমন নতুন প্রজন্ম দূরে সরে যাচ্ছে তেমনি আগামী প্রজন্মের কাছে ধীরেন্দ্রনাথ নামটি মনে হবে অনেক অচেনা। দীর্ঘদিন থেকেই ধীরেন্দ্র প্রেমীরা কুমিল্লায় তাঁর স্মৃতি রক্ষার দাবীসহ সাংগঠনিক উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। প্রতিবছর একুশের আলোচনায় বক্তাদের মুখে স্থান পায় ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িটি। কুমিল্লার মানুষ ধীরেন্দ্রনাথকে ভালোবাসেন বলেই বাড়িটি জাদুঘর করার মধ্যদিয়ে অনন্তকাল ওই কৃর্তিমান মানুষটিকে স্মৃতির ভেতর বাঁচিয়ে রাখতে চান। ইতোপূবে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত বলেছিলেন, কুমিল্লায় তার দাদুর স্মৃতিবিজড়িত এই জায়গাটিই তাদের একমাত্র সম্বল। এখানে বহুতল ভবন নির্মানের পরিকল্পনা রয়েছে এবং যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ শুরু হবে। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কর্মময় জীবনের সকল স্মৃতি সংরক্ষণের মাধ্যমে পাঠাগার, জাদুঘর গড়ে তোলা হবে। এসকল কাজ কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে করা হবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের গণপরিষদ অধিবেশনে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রথম দাবি যিনি উত্থাপন করেছিলেন সেই মানুষটি হলেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ গভীর রাতে পাকবাহিনী ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথকে কুমিল্লার ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়ের নিজ বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় কুমিল্লা সেনানিবাসে। সেখানেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বর্বর পাকসেনারা। দেশ স্বাধীন হলেও সেই ভাষা সৈনিকের মৃতদেহটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ