Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৪ মার্চ ২০১৯, ১০ চৈত্র ১৪২৫, ১৬ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে চান দুই আইএস বধূ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৬:৫৯ পিএম

ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়ার জন্য হোদা মুথানা মাত্র ২০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছিলেন। তিনি আলাবামা কলেজের ছাত্রী ছিলেন। তিনি তার বাবা-মাকে কলেজের পক্ষ থেকে ভ্রমণে যাচ্ছিলেন বলে বেড়িয়ে যান এবং শিক্ষানবিশের টাকা দিয়ে তুরস্কে একটি বিমান টিকেট কিনেছিলেন। সিরিয়াতে পৌঁছে তিনি টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে দেখা যায় তিনি তার আমেরিকান পাসপোর্ট ধরে আছেন আর সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেটি পুড়িয়ে ফেলবেন।
সেটা ছিল চার বছর আগের কথা। এখন, তিনজন ইসলামিক স্টেট যোদ্ধার সাথে বিয়ের পর এবং তিনি যেমন করেছিলেন তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে অনেকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা দেখে মুথানা অনুশোচনা করেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে চান।
তিনি গত মাসে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং এখন উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিরিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে বন্দী হিসাবে তার দিন কাটাচ্ছেন। তিনি সেখানে কিম্বার্লি গেন পোলম্যান নামের আরেকজন আইএস বধূর সাথে আছেন। তার বয়স এখন ৪৬। খিলাফতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কানাডার আইনী প্রশাসন অধ্যয়ন করেছিলেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী হয়েও তিনি সেখানে যোগ দেন।
মিসেস পোলম্যান, হ্যামিলটন, অন্টারিওর একটি সংস্কারিত মেনিনাইট কমিউনিটিতে বসবাস করতেন। তার মা ছিলেন আমেরিকান এবং বাবা ছিলেন কানাডিয়ান। তার তিনটি প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। মিসেস পোলম্যান বলেন, ‘আমার দুঃখ প্রকাশ করার কোন ভাষা নেই।’
মুথানা হুভারের উচ্চ বিদ্যালয় এবং বার্মিংহামের আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি জানান, তিনি হাই স্কুলে পড়ার সময় টুইটার এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে আইএস’র প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল উন্মাদণা। আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি আমার জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করেছি।’
চলতি সপ্তাহে একটি টুইটে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প শত শত আইএস বন্দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি সহ সহযোগী দেশগুলোর প্রত আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তিনি আইএস যোদ্ধাদের মার্কিন বধূদের বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ করেননি এবং তাদেরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে আনার জন্য কোন পদক্ষেপও নেয়নি।
মিসেস মুথানা ও মিসেস পোলম্যান উভয়ই বলেছিলেন যে গত মাসে তাদের গ্রেপ্তারের পর আমেরিকান কর্মকর্তারা তাদের পরিদর্শন করেননি। তারা জানিয়েছেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে আসা চার বোন ও তাদের চার সন্তান ছিল যাদেরকে আলাদা ক্যাম্পে আটক রাখা হয়েছিল। একজন প্রাক্তন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির প্রোগ্রাম অফ এক্সট্রিমিজম ট্র্যাকের তথ্য অনুসারে, ৫৯-এর কম সংখ্যক মার্কিন নাগরিক আইএস’র সাথে যোগ দিতে সিরিয়ায় গিয়েছেন। যুদ্ধে বন্দী প্রায় সব আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে, কিন্তু নারী এবং তাদের সন্তানদের ব্যপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাষ্ট্র


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ