Inqilab Logo

রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৮ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

খেলাপি ঋণের চাপে কমছে না সুদহার- সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৭:১০ পিএম

ব্যাংকিং খাতে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। এই খেলাপি ঋণের কারণে ঋণগ্রহীতাদের এক শতাংশ বেশি সুদ দিতে হচ্ছে। তাই সুদহার কমাতে হলে নন পারফরমিং লোন (এনপিএল) বা খেলাপি ঋণ কমানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআইয়ের ২০১৯ সালের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি ওসামা তাসীর, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ ও পরিষদের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসা সহজীকরণ, বিনিয়োগ, অবোকাঠামোগত উন্নয়ন, রফতানি বহুমুখীকরণ, কর ও ভ্যাটের কাঠামোগত সংস্কার, ব্যাংক খাত সংস্কার, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্ততি ও গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর কোনো বিকল্প নেই। এ নিয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের একটি নৈতিক চাপও আছে। কিন্ত ব্যাংকগুলো বলছে- এনপিএলের কারণে সুদহার কমাতে পারছে না তারা। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোসহ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ব্যাংক খাতের সংস্কার জরুরি।

ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে ব্যাংক খাত সংস্কারের ৬টি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী সিঙ্গেল ডিজিটে সুদহার নামিয়ে আনা, বাণিজ্য খাতে ঋণ সমন্বয় করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বাড়াতে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা, স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন, বড় ঋণ পর্যবেক্ষণ করা, খেলাপি ঋণ কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করা।

ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কথা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলে আসছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। একই অবস্থানে আছে ঢাকা চেম্বারও। শীর্ষ ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে কি না বা থাকলে নেয়া হবে কি না-জানতে চাইলে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে শীর্ষ ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তাদের নৈতিক চাপ দেয়া যেতে পারে।

ব্যবসায় সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে ওসামা তাসীর বলেন, এ সূচকে উন্নতি করতে হলে বিডার ওয়ান স্টপ সার্ভিস দ্রুত চালু করতে হবে। একই সঙ্গে ছোট উদ্যোক্তাদের এ সেবা প্রদানে ঢাকা চেম্বারে একটি শাখা খোলার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিনিয়োগ বাড়াতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পূর্ণ একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ছাড়ার দাবি করা হয়। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট করহার সবচেয়ে বেশি। এটি কমাতে হবে। এছাড়া নতুন ভ্যাট আইনে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ ভ্যাট রাখার প্রস্তাব করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন ব্যাংক অনুমদনে কী প্রভাব ফেলবে- জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এটি সময় বলে দেবে ভালো হবে না কি মন্দ হবে। এখনই বলা মুশকিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ডিসিসিআই


আরও
আরও পড়ুন

ঘরে বসেই হবে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ

img_img-1635066004

ব্যক্তিগত আয়কর রিটার্ন ফরম এবং সম্পদের হিসাব-নিকাশ এখন অনলাইনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পূরণ  করা যাবে। ঘরে বসেই করা যাবে আয়কর পরিশোধ এবং রিটার্ন ফাইল দাখিল। বাসায় বসেই নেয়া যাবে আয়কর সংক্রান্ত যেকোনো সেবাও। আয়কর রিটার্ন দাখিল সহজতর করতে ডিজিট্যাক্স নামক এমন একটি ওয়েব অ্যাপলিকেশন নিয়ে এসেছে দেশ ইউনিভার্সেল নামক একটি প্রতিষ্ঠান। শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)-এর কার্যালয়ে ডিজিট্যাক্সের এ অনলাইন ট্যাক্স অ্যাপলিকেশনটি উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (করনীতি) মো. আলমগীর হোসেন। এ সময় পেশাধার হিসাববিদদের সংগঠন দি ইনিস্টিটিউট অফ চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে এম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক খালেদ মাহমুদ সুজন, ডিজিট্যাক্সের পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু ও ইআরএফ সেক্রেটারি এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। ডিজিট্যাক্সের মূল ফিচার বর্ননা করে প্রতিষ্ঠানটির টিম মেম্বার সৈয়দা নুসরাত হায়দার বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন লেভেলের টেক্স পেয়ার রয়েছে, এর মধ্যে অধিকাংশই আয়কর ক্যালকুলেশন এর নিয়মাবলী ও আইন কানুন যথাযথভাবে জানেন না। ফলে সুচারুভাবে রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট খাতে ইনপুট দিয়ে সহজেই রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন সে ব্যবস্থা নিয়ে এসেছি। আমাদের সিস্টেমে রয়েছে আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় আয়কর গণনা পদ্ধতি যাতে করে ব্যবহারকারীরা সহজেই আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে পারেন। ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে, বাংলা ভাষায়ও সফটওয়ারটি ব্যবহারের পদ্ধতি রাখা হয়েছে। করদাতা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রিটার্ন পূরণ করে নিজে আয়কর অফিসে জমা দিতে পারেন অথবা গ্রাহক যদি চান, তবে ডিজিট্যাক্সের পেশাদার আইনজীবীর মাধ্যমে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। ডিজিট্যাক্সের সিস্টেমটি এনবিআরের সাথে ইন্টিগ্রেট করতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমেই করদাতারা অনলাইনে তার রিটার্ন সাবমিট করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সৈয়দা নুসরাত হায়দার। এতে করে মেনুয়াল পেপার বেইজ সাবমিশন প্রয়োজন হবে না এবং সরকারও ডাটা এন্ট্রি ছাড়াই রিয়েল টাইম আপডেট পাবে বলে জানান তিনি। করদাতার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক করদাতার ব্যক্তিগত আইডি ও পাসওয়ার্ড থাকবে। তিনি ছাড়া আর কেউ এ তথ্য দেখতে পাবেন না। করদাতা তার তথ্য সেইভ করে রেখে যেকোনো সময় তা আবার লকইন করে এডিট করতে পারবেন। তিনি বলেন, সরকার একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আয়করের আওতায় আনার জন্য এরইমধ্যে অনেক ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের সাথে ব্যক্তি পর্যায়ে আমরা কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে আমরা এই সফটওয়্যার টি ডেভলপ করেছি। ভবিষ্যতে সরকারের সাথে ইন্টিগ্রেটেড হয়ে একসাথে কাজ করতে পারবো এটাই আমাদের লক্ষ। আয়কর আইনজীবিরাও এর মাধ্যমে তাদের ক্লায়েন্টদের কর সেবা দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সৈয়দা নুসরাত হায়দার। অ্যাপলিকেশনটি উদ্ভোধন করে এনবিআর সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, মানুষের মধ্যে কর দেয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। করদাতার সংখ্যাও বাড়ছে। এতো বিপুল সংখ্যক করদাতাকে প্রচলিত পদ্ধতিতে করসেবা দেয়া সম্ভব নয়। করদাতাকে সেবা দিতে সব কিছু অনলাইন করা ও রিটার্ন দাখিল স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি করার বিকল্প নেই। এনবিআর অনেক আগেই এ উদ্যোগটি নিয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে রিটার্ন ফরম পূরণ, দাখিল ও পেমেন্ট সিস্টেম চালু করছি। বেসরকারিভাবে ডিজিট্যাক্সের এগিয়ে আসা কর সেবাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ আরো সহজতর হবে। তিনি বলেন, রিটার্ন দাখিল অনলাইন করার পাশাপাশি ১ নভেম্বর থেকে আমরা আয়কর মাস পালন করছি। করাঞ্চলগুলোতে মেলার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। করদাতারা স্বাচ্ছন্দে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মাহমুদুল হাসান খসরু বলেন, আয়কর আইন হলো পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম একটি আইন। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। এ আইন নিয়ে এতো বড় ‍উদ্যোগ নেয়ায় ডিজিট্যাক্স প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, ডিজিট্যাক্সের এ উদ্যোগটি করদাতাদের সহায়তা করবে। এর ফলে বিপুল মানুষকে রিটার্ন দাখিলে আগ্রহী করা যাবে। সরকারও রাজস্ব পাবে। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্যে ডিজিট্যাক্সের এডভাইজার ও দেশ ইউনিভা্র্সেল নির্বাহী পরিচালক মোসারাত নাইমা বলেন, ডিজিট্যাক্স একটি স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্স রিটার্ন ফরম পূরণের ওয়েব অ্যাপলিকেশন। রেজিট্রেশন করার পর করদাতা তার আয়ের তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর গণনা হয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ