Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।

হকির নির্বাচনে এনএসসি’র ৫ কাউন্সিলর

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ৯:২৮ পিএম

সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চ মাসের শেষ অথবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রধান করা হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পরিচালক (ক্রীড়া) মো: শাহ আলম সরদারকে। তিনি জানান, সহসাই হকি ফেডারেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) নিজেদের গঠনতন্ত্র ও হালনাগাদ করা কাউন্সিলর তালিকা এনএসসি’তে জমা দিয়েছে হকি ফেডারেশন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের পর এক দফা সময় বাড়িয়ে এ তালিকা জমা দেয়া হয়। নির্বাচনের তোরজোড় শুরু হওয়ার পর থেকেই আলোচনা চলছে এনএসসি’র ৫ জন কাউন্সিলর নিয়ে। হকির নির্বাচনে কারা হচ্ছেন এনএসসি’র কাউন্সিলর? এ আলোচনা এখন সবখানেই।

হকি ফেডারেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর ৮৫ জন। এর মধ্যে আছে এনএসসি মনোনীত ৫ জন। সব নির্বাচনেই কেন্দ্র-বিন্দু হন এই পাঁচ কাউন্সিলর। সর্বশেষ ২০১৩ সালে এই ফেডারেশনে এক তরফা নির্বাচন হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণই ছিল এনএসসি মনোনীত পাঁচ কাউন্সিলর। পাঁচ জনের তিন জনই ছিলেন আবাহনীর সমর্থনপুষ্ট। দু’জনকে রাখা হয়েছিল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। যা প্রতিবাদে নির্বাচনই বর্জন করেছিল এক পক্ষ। ফলে আরেক পক্ষ বিনা বাধায় দায়িত্ব পেয়ে যায় ফেডারেশনের। শুরু হয় ঘরোয়া হকিতে সংকট। প্রায় তিন বছর পর সংকট কাটলেও নানা জটিলতায় ফের আলোচনায় আসে হকি।

হকি ফেডারেশনের সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েও রহস্যজনকভাবে তা বন্ধ করে দেয় এনএসসি। ২০১৭ সালে ২৭ আগস্ট হকির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। মনোনয়নপত্র বিক্রির পর তা জমার আগেই তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করে দেয় এনএসসি। এর প্রায় ৬ মাস পর গত বছরের ১১ জানুয়ারি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে এনএসসি গঠন করে অ্যাডহক কমিটি। সেই কমিটি দিয়েই অদ্যবধি চলছে দেশের হকি।

২০১৭ সালে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের আগে এনএসসি যে ৫ কাউন্সিলর মনোনীত করেছিল সেখানে আবাহনীর আবদুস সাদেক ও মোহামেডানের শফিকুল ইসলাম লিটুকে রেখে বাকি ৩ জনকে রেখেছিল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। অতীতের তীক্ত অভিজ্ঞতায় বিতর্কের উর্ধ্বেই রাখা হয়েছিল এই তালিকা।

হকির আসন্ন নির্বাচনে এনএসসি যে ৫ জনকে কাউন্সিলর মনোনীত করবে, তা যেন গ্রহণযোগ্য হয়- এমন দাবী ইতোমধ্যেই তুলেছে ক্লাবগুলো। এ প্রসঙ্গে জাতীয় হকি দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় কামরুল ইসলাম কিসমত বলেন, ‘আমরা চাই দেশের চার প্রধান ক্লাব মোহামেডান, আবাহনী, ঊষা এবং মেরিনারের একজন করে প্রতিনিধি এবং একজন পৃষ্ঠপোষককে কাউন্সিলর করুক এনএসসি। এটা করলে কোনো বিতর্ক হবে না। কাউন্সিলর মনোনয়ন বিতর্কমুক্ত না হলে আবার নতুন করে ঝামেলার সৃষ্টি হবে। খেলা থেকে দূরে সরে যেতে পারে বঞ্চিত ক্লাবগুলো।’

কাউন্সিলর মনোনয়ন নিয়ে কী ভাবছে এনএসসি? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এনএসসি সচিব মো: মাসুদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ যেহেতু হকির নির্বাচনের জন্য কমিশন গঠন হয়ে গেছে তাই এসব বিষয়ে আমার মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। এই বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার এখতিয়ার শুধু নির্বাচন কমিশন প্রধানের।’ তবে কমিশনের প্রধান মো: শাহ আলম সরদার বলেন, ‘আমি এখনো কাউন্সিলর তালিকা হাতে পাইনি। তবে জেনেছি তারা এনএসসিতে তালিকা জমা দিয়ে গেছে। আমরা কমিশনের সবাই বসে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। ক্রীড়া পরিষদ থেকে কারা কাউন্সিলর হবেন- এ সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার এনএসসি’র চেয়ারম্যান মহোদয়ের (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল)। তার সঙ্গে কথা বলেই আমরা কাউন্সিলরদের নাম চূড়ান্ত করবো।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন