Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার ২১ জুলাই ২০১৯, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ যিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী।

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে বিক্ষুব্ধ কর্মীদের প্রশ্ন ‘খালেদা জিয়া কবে মুক্তি পাবেন’

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:৩১ এএম

 

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সিনিয়র নেতাদের সামনেই এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হট্টগোল করতে দেখা যায়।
একুশে ফেব্রæয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনার সভার শেষের দিকে দর্শক সারিতে বসা বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি ও আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে কথা জানতে চান বক্তাদের কাছে। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। মওদুদ আহমদের কথা চলাকালে দর্শক সারিতে বসা নেতাকর্মীর বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তাদের এক নেতা বলে ওঠেন, আপনাদের অনেক কথা শুনেছি। খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলেন, কবে এবং কীভাবে মুক্তি পাবেন? আপনাদের ব্যর্থতার কারণে নেতাকর্মীরা মিটিংএ আসে না। আজকে হল রুম খালি কেন?
প্রথম অবস্থায় মওদুদ আহমদ দর্শকের ওই দাবির কথা শুনতে পাননি। তিনি জানতে চাইলে দর্শক সারি থেকে আবারও একই প্রশ্ন করা হয়। অনেকেই এই নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে মওদুদ আহমদ বলেন, হবে, একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
পরিস্থিতি শান্ত হলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। একমাত্র পথ হচ্ছে, আন্দোলন। সেই জন্যই আমাদের সুপরিকল্পিত আন্দোলন করতে হবে। সেভাবেই আমাদের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এখন আমাদের একমাত্র এজেন্ডা হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি।
ভাষা আন্দোলনে নিজের অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করে মওদুদ আহমদ বলেন, একুশের চেতনা ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তারা কখনোই চায় না দেশে কোনো বিরোধীদল থাকুক। জনগণ ভোট দিয়ে পছন্দের সরকার গঠন করুক। দেশে একটি নির্বাচন হয়েছেছ, এটা কেউ বিশ্বাস করে না। তিনি আরো বলেন, যত করেই বলুক না কেন তারা ভালো নির্বাচন হয়েছে। এটা সত্য নয়। তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতা পরিচালনা করছে।
অতপর সভাপতির বক্তব্য দিতে উঠেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বক্তৃতা শুরু করলে একপর্যায়ে দর্শক সারি থেকে আওয়াজ আসে, বিএনপির ব্যর্থ কমিটি ভেঙে দেন। আজকে হল খালি কেন? এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, কর্মসূচি আসবে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। বিএনপির মহাসচিব ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, দাঁড়ান, হলে বসে চিৎকার করলে হবে না। পরে পরিস্থিতি সামলে তিনি বলেন, আপনারা কেন ভাবছেন, ব্যর্থ হয়েছেন। আপনারা ব্যর্থ হননি। আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করতে ১০ বছর ধরে নির্যাতন চালাচ্ছে। জনগণের ভোটের অধিকার অন্ধকার রাতে কেড়ে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, একুশের চেতনা ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই লড়াইয়ে আমরা বিজয়ী হবই।
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপনারা নিজেকে দুর্বল ভাবেন কেন? কেউ মনোবল হারাবেন না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো বলেননি মনোবল হারাতে। বেগম জিয়া বলেছেন সাহসের সঙ্গে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে। আমাদের অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সেই জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হবে।
কারাগারে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ। অত্যন্ত অসুস্থ। মওদুদ সাহেব বলেছেন। আমিও আজকে দেখা করতে গিয়েছিলাম, জেলগেট থেকে ফিরে এসেছি। দেখা করতে পারিনি। তিনি এ সময় সরকারের প্রতি অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি এত বড় একটি রাজনৈতিক দল। সারা দেশে সংগঠন আছে, কর্মী-সমর্থক আছে তবু কেন আমাদের নেত্রীর মুক্তি হচ্ছে না? আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামি ও আন্দোলন করতে পারি তাহলে অবশ্যই খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিএনপির এই আলোচনার সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তৃতা করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমূখ।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ